বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২২ অপরাহ্ন

আরএমপি-সিটি করপোরেশনের সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠেন মিরা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১
আরএমপি-সিটি করপোরেশনের সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠেন মিরা

কাজী মিরা (৬০) ও কাজী জান্নাতুল ফেরদৌস (৫০) দুই বোন। বসবাস করেন রাজশাহী মহানগরীর হাদিরমোড় এলাকায়। তাদের বাড়িতে পুরুষ অভিভাবক বলতে কেউ নেই। জুন মাসে হঠাৎ বড় বোনের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সে সময় চারদিকে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার। অতিরিক্ত দাম দিয়েও বাজারে পাওয়া যাচ্ছিল না অক্সিজেন সিলিন্ডার। এতে ভেঙে পড়েন ছোটবোন জান্নাতুল।

এমন সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বিনামূল্যের অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবায় বাঁচার আশা জাগিয়ে তোলে মিরাকে। হটলাইনে কল করে বোনের জন্য বিনামূল্যে একের পর এক অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে আসেন জান্নাতুল। প্রতি ২০ থেকে ২৫ মিনিটে একটি করে সিলিন্ডার প্রয়োজন হতো মিরার। এভাবে দীর্ঘ চার মাস সংগ্রাম করে বড়বোনকে মৃত্যুর কোল থেকে ফিরিয়ে আনেন ছোটবোন।

বড়বোন এখন অনেকটা সুস্থ। এখন আর অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন হচ্ছে না। তবে যাদের সহযোগিতায় ও পদক্ষেপের কারণে বড়বোনকে বাঁচাতে পেরেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যাননি কাজী জান্নাতুল।

সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে নগর ভবনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে ছুটে এসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া আরএমপির কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক ও সহযোগিতা প্রদানকারী চিকিৎসকদের কাছে গিয়েও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন রাসিক মেয়র লিটনকে।

ঘটনার বিবরণে কাজী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ২১ জুন দিনগত রাত ১২টায় আমার বোনের হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান বেড খালি নেই। সেদিন বোনকে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে আরএমপির হটলাইনে কল করে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই। পরদিন ২২ জুন বড়বোনকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করি। তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পুনরায় ১১ জুলাই তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। কিন্তু বাড়িতে ফিরেই রোগীর অবস্থা খুব খারাপ হয়।

তিনি আরও বলেন, ১১ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও আরএমপি থেকে প্রায় ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার সহযোগিতার কারণে বড়বোনের (মিরা) প্রাণরক্ষা হয়। তাদের হটলাইন নম্বরে যখন কল করেছি তখনই তারা বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়েছে। কখন বিরক্ত হয়নি, কোনো দিন খারাপ আচরণ করেনি। যতবার চেয়েছি, ততবারই আমার ডাকে সাড়া দিয়েছে। এমনকি কাউকে একটা পয়সাও দেওয়া লাগেনি।

কাজী জান্নাতুল বলেন, জন্ম ও মৃত্যু আল্লাহর হাতে। তবে মেয়র ও আরএমপি কমিশনারের এ অক্সিজেন সেবা না পেলে আমার বড়বোনকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব ছিল না। তারা বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা চালু করে এভাবে যে কতো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন, তারা হয়তো তা জানেনই না। আমি যদি আজ না জানাতাম, আমার এ ঘটনাটিও তারা জানতেন না। যেসব পরিবার উপকৃত হয়েছেন, তারাই জানেন, কতটা উপকার তারা পেয়েছেন। কারণ সে সময় দ্বিগুণ/তিনগুণ দামেও বাজারে পাওয়া যাচ্ছিল না অক্সিজেন সিলিন্ডার।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
      1
3031     
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2021. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com