শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৫:০৬ অপরাহ্ন

সোমবার থেকে মাঠে নামবে সেনাবাহিনী

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮

নিউজ ডেক্স :আগামী সোমবার নির্বাচনী মাঠে নামছে সেনা ও নৌ বাহিনী। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করবে সেনা ও নৌবাহিনী। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ ও ১৩০ ধারা অনুযায়ী। এবার মোতায়েন করা হচ্ছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭, ১২৮, ১২৯, ১৩০, ১৩১ ও ১৩২ ধারায়। গত ১৩ ডিসেন্বর এ সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেনা সদস্যরা ভোটের আগে-পরে মিলিয়ে ১০ দিনের জন্য মোতায়েন থাকবেন। আগামী ২৪ ডিসেম্বর মাঠে নামছেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ভোটের ছয় দিন আগে মোতায়েন হবে সেনাবাহিনী। ভোটের পরও দুই দিন নির্বাচনী এলাকাগুলোতে থাকবেন তারা। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এবার সব মিলিয়ে প্রায় ৬ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয় তাদের চূড়ান্ত ভোট কেন্দ্র ও ভোট কক্ষের তালিকা পাঠিয়েছে ইসিতে। তালিকা অনুযায়ী ৩০০ আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪০ হাজার ১৯৯টি এবং ভোট কক্ষ ২ লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩২ ধারার মধ্যে ১৩১ ধারায় সেনাবাহিনীর কোনো কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারকে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতে ও জননিরাপত্তা বিপদগ্রস্ত হওয়ার মতো সমাবেশ ভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেফতার করার ক্ষমতা দেয়া রয়েছে।

গত ১৩ নভেম্বর ইসির আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সভার কার্যপত্রে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন সম্পর্কে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভোটগ্রহণের আগে, ভোটগ্রহণের দিন ও পরে শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার জন্য ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত (যাতায়াত সময় ব্যতীত) সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে এরই মধ্যে অনুরোধ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৫ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা, ভৌত অবকাঠামো এবং নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্য প্রতি জেলায় সশস্ত্র বাহিনীর ছোট আকারের টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব পালন সম্পর্কে কার্যপত্রে বলা হয়েছে, (ক) সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ প্রতিটি জেলা/উপজেলা/মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট এবং অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকবে। (খ) রিটার্নিং অফিসারের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুসারে উপজেলা/থানায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োগ করা হবে। (গ) রিটার্নিং অফিসার সহায়তা কামনা করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা প্রদান অথবা ফৌজদারি কার্যবিধির, অন্যান্য আইনের বিধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুসারে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। (ঘ) রিটার্নিং অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসারের চাহিদা ব্যতিরেকে ভোট কেন্দ্রের অভ্যন্তরে কিংবা ভোট গণনা কক্ষে কোনো প্রকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে না। (ঙ) ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু দি সিভিল পাওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। (চ) উপকূলবর্তী এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। (ছ) ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিটি জেলায় নিয়োজিত সেনা সদস্যের সংখ্যা রিটার্নিং অফিসারের সাথে সমন্বয় করে কমবেশি করা যাবে। (জ) সেনা সদরের বিবেচনায় প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা সদস্য সংরক্ষিত হিসেবে মোতায়েন থাকবে। (ঝ) গুরুত্বপূর্ণ সড়ক/মহাসড়কসমূহের নিরাপদ যান চলাচল এবং স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করবে। এতে আরো বলা হয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনী তাদের আওতাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার মধ্যে যেসব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, সেসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এছাড়া ইভিএম কেন্দ্রে যেসব সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য থাকবে তাদের নিরাপত্তা বিধানসহ প্রয়োজন অনুসারে আনুষঙ্গিক বিষয়াদির ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। (ণ) নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর টিম ওই ছয়টি নির্বাচনী এলাকায় ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণসংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধানে নিবিড় ও অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। (ত) রিটার্নিং অফিসার ও প্রিসাইডিং অফিসারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে।

ফৌজদারি কর্যবিধির ১৩১ ধারায় বলা হয়েছে, যখন এইরূপ কোনো সমাবেশ দ্বারা জননিরাপত্তা সুস্পষ্টভাবে বিপদগ্রস্ত হয় এবং কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায় না, তখন সেনাবাহিনীর কোনো কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এইরূপ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে পারেন এবং এইরূপ ছত্রভঙ্গ করার অথবা আইনানুসারে শাস্তি দেয়ার জন্য ওই সমাবেশে অংশগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা আটক করতে পারেন। তবে এই ধারা অনুসারে কাজ করার সময় তার পক্ষে যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়, তাহলে তিনি (কমিশনপ্রাপ্ত সামরিক অফিসার) তা করবেন এবং অতঃপর কাজ চালিয়ে যাওয়া না বা না যাওয়া সম্পর্কে তার (ম্যাজিস্ট্রেটের) পরামর্শ অনুসরণ করবেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com