বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
নৌকার জন্য যুবলীগ নেতাকর্মীদের ঝাপিয়ে পড়ার নির্দেশ লিটনের পাবনায় পতাকা উৎসবে একহাজার পতাকা বিতরন পাবনার সাঁথিয়ায় আলেমদের সাথে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে শামসুল হক টুকু এমপির নির্বাচনি প্রচারনা শুরু নৌকার বিজয় না হলে উন্নয়ন থেমে যাবে: সমাজসেবী নিঘাত পারভীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে জনগণের মুখোমুখি এমপি প্রার্থীরা তৃণমুলে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করবে বিএনপি : এমপি আয়েন আ.লীগ সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ নিয়ে ইসিতে ইমাম রাজশাহীতে নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাটের নবীন ভোটারদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভোটের প্রচারে সরকারি গাড়ি নয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ব্যবহার করছেন একুশে গ্রেনেড হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নৌকা প্রতিককে জয়ী করতে হবে- আসাদ

রাজশাহীর কায়িশাডাঙ্গা থানার এএসআইয়ের গোপনফোনালাপ

নিউজ ডেক্স: রাজশাহী নগরীর কায়িশাডাঙ্গা থানার এক এসএআইয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ নারীকে আটকের পর সেই ইয়াবা পুনরায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ইয়াবা বিক্রির ফোনালাপ গতকাল রবিবার সিল্কসিটিনিউজের হাতে এসে পৌঁছেছে।
এছাড়াও এএসআই আব্দুস সেলিমের বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ নারীকে আটক করলেও তাকে ছেড়ে দিয়ে দেড় লাখ টাকা আদায় করে তাঁর মাদকশক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অপকর্ম সেলিম নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন ফোনালাপে।

ফোনালাপ সূত্র মতে, রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার এএসআই আব্দুস সেলিম গত ২৫ সেপ্টেম্বর নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা রেললাইন এলাকার জলি নামের এক নারীকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। এরপর ওই নারীর নিকট থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেন। কিন্তু তার মাদকাশক্ত স্বামী রুমেলকে ২৫ পিস ইয়াবার মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

এএসআই সেলিম জব্দকৃত ইয়াবাগুলো গুড়িপাড়া এলাকার সোভা নামের আরেক নারীর কাছে বিক্রি করার জন্য গত ২৯ সেপ্টেম্বর ফোন করেন। রেখে দেওয়া ৭৫ পিস ইয়াবা ৭০ টাকা করে দাম ধরে সোভার কাছে দ্রুত টাকা দাবি করেন।

এএসআই সেলিম এসময় বলেন, ‘রেললাইন এলাকার জলিকে ধরেছিলাম ১০০ পিস ইয়াবাসহ। তার স্বামীকে চালান দিয়েছি ২৫ পিস দিয়ে। বাকি ৭৫ পিস আমার কাছে আছে। এগুলো বিক্রি করবো। অশ্লিল মন্তব্য করে সেলিম বলেন, জলিকে সাইজ করে দিয়েছে। তার নিকট থেকে দেড় লাখ টাকাও নিয়েছি।’

ফোনালাপে শোনা যায়, সোভা এএসআই সেলিমকে বলেন, ‘আমি তো আর এই ব্যবসা করি না। তবে আপনি চাইলে সেগুলো স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করে টাকাগুলো দিয়ে দিব।’ প্রতি উত্তরে এএসআই সেলিম বলেন, ‘না তুমি ইয়াবা ব্যবসা করো। মাসের শেষ দিক তাই তুমি এখন টালবাহানা করছো। ইয়াবার টাকাও দিবা, মাসের টাকাও ১ তারিখের মধ্যে দিবা।’

এমন বক্তব্যে নারী সোভা এএসআই সেলিমকে বলেন, ‘না আমি ব্যবসা করি না। আপনি পারলে আমাকে হাতেনাতে ধরবেন।’ উত্তরে সেলিম বলেন, ‘তোমাকে আমি ধরবো। না হলে তুমি ১ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে আমাকে টাকা দিবা। না হলে তোমাকে দুইদিনের মধ্যে ধরবো।’

প্রতি উত্তরে সোভা বলেন, ‘ব্যবসা না করলেও দিতে হবে? যখন ব্যবসা করব, তখন মাসের তিন হাজার টাকা দিতে হবে?’ উত্তরে সেলিম বলেন, ‘টাকা না দিলেই গ্যারেজ করবো। ব্যাস তোমার সঙ্গে আমার আর কোনো কথা নাই। টাকা দিবা কথা হবে।’ এরপর আরো দুইবার ফোন দেন এএসআই সেলিম। আর একবার ফোন দেন সোভা।’

সোভার দাবি, ওই ঘটনার পর এএসআই সেলিম তার কাছে থাকা ৭৫ পিস ইয়াবা বিক্রির জন্য দুইবার ফোন দেন একইদিন। কিন্তু ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন বলে সোভা সেগুলো নিতে অস্বীকার করেন। এরপর মাসের চাঁদা ৩ হাজার টাকা ১ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয় সোভাকে। ওই টাকা না দিতে চাওয়ায় তার পর থেকেই সোভাকে এবং তার পরিবারকে অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন এএসআইস সেলিম।

এএসআইস সেলিমের সঙ্গে কথা বলার সময়ও সোভাকে ফাঁসানো হলে তিনিও মোবাইলের ফোন রেকর্ড পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রকাশ করে দিবেন বলে পাল্টা কয়েকবার হুমকি দিতে শোনা যায়।
তবে ফোনালাপের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই সেলিম গতকাল বলেন, না না এই ধরনের কথা কারো সঙ্গে হয়নি। আমরাই তো বেশি মাল দরে জমা করেছি। আমরা বিক্রি করতে যাবো কেন? তবে আপনার সঙ্গে সন্ধ্যায় কথা বলবো।’

তিনি বলেন, ‘ অভিযান চালাতে এই ধরনের কথা বলে থাকি অনেককেই।’

এদিকে বিষয়টি জানতে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনার কথা জানা নাই। তবে ঘটে থাকলে ওই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র সিল্ক সিটি


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com