মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

‘সাহিত্যের শাখায় শাখায় আলোর মশাল জ্বেলেছেন হাসান আজিজুল হক’

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১
‘সাহিত্যের শাখায় শাখায় আলোর মশাল জ্বেলেছেন হাসান আজিজুল হক’

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, সাহিত্যের শাখায় শাখায় আলোর মশাল জ্বেলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) এক শোকবার্তায় তাপস বলেন, হাসান আজিজুল হক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল। মানবসত্তার জীবনসংগ্রামকে উপজীব্য করে আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে লেখনীর মাধ্যমে যেমন বাংলা সাহিত্যের দিগন্ত বিস্তৃত করেছেন তেমনি জীবনের মায়া পরোয়া না করে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির মতো প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, হাসান আজিজুল হকের কাছে বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজ চির ঋণী হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। এই ‘আগুনপাখি’ এর আলোকিত সাহিত্যকর্মের বিভিন্ন অনুষঙ্গে তিনি আমাদের মাঝে চির অমলিন হয়ে থাকবেন।

শোকবার্তায় মেয়র শেখ তাপস মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

হাসান আজিজুল হক দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে গত ২১ আগস্ট রাজশাহী থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) স্থানান্তর করা হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজশাহীর বাসভবন ‘উজান’-এ ফিরেছিলেন হাসান আজিজুল হক। সোমবার (১৫ নভেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি রাজশাহীর বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তিনি তিন মেয়ে এবং এক ছেলে রেখে গেছেন। তার ছেলে ইমতিয়াজ হাসান মৌলি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত তিনি রাজশাহী সিটি কলেজ, সিরাজগঞ্জ কলেজ, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ এবং সরকারি ব্রজলাল কলেজে অধ্যাপনা করেছেন।

১৯৭৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত একনাগাড়ে ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন এই সাহিত্যিক।

২০০৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদে মনোনীত হন এবং দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে হাসান আজিজুল হক বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন।

আগুনপাখি (উপন্যাস), আত্মজা ও একটি করবী গাছ (গল্পগ্রন্থ), একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথাসহ (প্রবন্ধ) অসংখ্য জনপ্রিয় বইয়ের লেখক এ সাহিত্যিক বিভিন্ন সময়ে নানা পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। এর মধ্যে ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে এবং ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে। এই অসামান্য গদ্যশিল্পী তার সার্বজৈবনিক সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2021. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com