বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:২০ অপরাহ্ন

হাসান আজিজুল হককে এমপি বাদশার শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১
হাসান আজিজুল হককে এমপি বাদশার শ্রদ্ধা নিবেদন

উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের মরদেহে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার পক্ষে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর নেতৃবৃন্দ এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের মরদেহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। এরপর সেখানে তার স্বজন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কবি, সাহিত্যিক, ভক্ত-অনুরাগী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এমপি বাদশার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবুসহ মতিহার থানা কমিটির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাদ জোহর জানাজা শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় বাংলার শক্তিমান এই কথাসাহিত্যিককে।

এর আগে গত ২১ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হাসান আজিজুল হককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে ২২ দিন চিকিৎসা শেষে হাসান আবারও ফেরেন রাজশাহীতে। পরে গতকাল সোমবার (১৫ নভেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় হাউজিং সোসাইটির (বিহাস) বাসভবন উজানে হাসান আজিজুল হকের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে ভারতের বর্ধমান জেলার যব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক এবং ১৯৬০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাগ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০৪ সালে প্রফেসর হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবার আগে ১৯৬০ সাল থেকে তিনি কয়েকটি কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তিনি ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ হিসেবে যোগদান করেন।

হাসান আজিজুল হক তার অসাধারণ সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তিনি ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক ও ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। এর পাশাপাশি তিনি লেখক শিবির পুরস্কার, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার-সম্মাননা অর্জন করেন। সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ২০১৮ সালে ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। ২০১২ সালে ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ২০১৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সন্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত করে।

তার রচিত জনপ্রিয় গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য, আত্মজা ও একটি করবী গাছ, জীবন ঘষে আগুন, নামহীন গোত্রহীন, পাতালে হাসপাতালে, আমরা অপেক্ষা করছি, রোদে যাবো, রাঢ়বঙ্গের গল্প ইত্যাদি। আগুনপাখি ও শামুক যথাক্রমে তার রচিত প্রথম ও শেষ উপন্যাস। তার লেখা গল্পসমূহ হিন্দি, উর্দু, রাশিয়ান ও জাপানিজ ইত্যাদি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

মৃত্যুকালে তিনি তিন কন্যা ও এক পুত্র রেখে গেছেন। তার সহধর্মিনী শামসুন নাহার ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্তেকাল করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2021. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com