বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:০৬ অপরাহ্ন

বাগমারায় একের পর এক সংঘর্ষ, আতঙ্কে ভোটাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১
বাগমারায় একের পর এক সংঘর্ষ, আতঙ্কে ভোটাররা

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাগমারায় একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। সংঘর্ষের কারনে এলাকার ভোটারদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। এমন ঘটনা ঘটতে থাকলে যে কোন সময় প্রানহানী ঘটতে পারে বলে ধারনা করছেন এলাকার সচেতন মানুষ ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার পর পরই ভোটের মাঠ দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে নির্বাচনে অংশ গ্রহনকারী প্রার্থীসহ তাদের সমর্থকেরা। মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাচাইয়ের পর পরই গত ৯ ডিসেম্বর উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের নৌকার দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম সরওয়ার আবুলের সমর্থকদের সাথে একই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাষ্টার আব্দুর রশীদের সমর্থকদের মধ্যে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ২০ জন আহত হয়। এছাড়াও ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়।

অপর দিকে একই রমক ঘটনা ঘটে উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে। সেখানে নৌকার দলীয় প্রার্থী মাষ্টার লুৎফর রহমানের সমর্থকদের সাথে আ’লীগের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে প্রায় ১০ জন রক্তাক্ত জখম হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকেই এলাকার ভোটারদের মধ্যে আতংক দেখা দেয়। এলাকার লোকজনের দাবী নির্বাচন পর্যন্ত বাগমারা এলাকায় অতিরিক্ত আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যসহ ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দেয়ার দাবী জানান।

আগামী ৫ জানুয়ারী রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নে একযোগে ভোট দেয়ার তারিখ নির্ধারন করেছেন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর থেকেই দলীয় নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাসী ও আ’লীগের বিদ্রোহের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। মনোয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই সরকারী নৌকা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারনে ভোটারদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম জানাতে অনিচ্ছুক কয়েকজন আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জানান, তৃনমূল ও মাঠ পর্যায়ের মতামত না নিয়ে স্থানীয় সাংসদ ও কিছু প্রভাবশালী নেতাদের কথামত কেন্দ্রীয় আ’লীগের নেতারা কিছু বির্তকিত ব্যক্তিদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিতরন করেছেন। যা তৃনমূল ও মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়া স্থানীয় আ’লীগের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। ওইসব কারনেই দলের মধ্যে বেশীর ভাগই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন। বিদ্রোহীরা অংশ গ্রহন করায় নৌকার মনোনীত প্রার্থীরা সেখানে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হচ্ছে।

যোগীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন, গত ১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ভাবে তাকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। এবারকার নির্বাচনে গত বারের নির্বাচনে বিদ্রোহী হিসেবে মাজেদুল ইসলাম সোহাগ নির্বাচন করেছিলেন, তাকেই এবার নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্রকে অবহিত করা হলে তাকে পরিবর্তণ করে বিএনপি’র সমর্থিত জাহাঙ্গীল আলম বাদশা নামের এক বির্তকিত ব্যক্তিকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি দাবী করেন, তার বাবা আমজাদ হোসেন বীরমুক্তিযোদ্ধা।

১৯৯৫ সালে বীরমুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনকে নিষিদ্ধ ঘোষিত চারমপন্থরি সদস্যরা তাকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করে। তৃনমূল ও মাঠ পর্যায়ের স্থানীয় আ’লীগের নেতাকর্মীদের স্তুপের মুখে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন।

একই অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নৌকার প্রার্থী বিকাশ চন্দ্র ভোমিক। তাকে নৌকা না দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ইউপি চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলালের বাবা আব্দুল হামিদকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়। বিকাশ চন্দ্র ভোমিক বলেন, আব্দুল হামিদ বার্ধক্য জনিত কারনে চলাফিরা করতে পারে না। স্থানীয় আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা প্রভাব খাটিয়ে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীর বাবাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। যার কারনেই অধিকাংশ ইউনিয়নে এমন ঘটনার কারনে সংঘর্ষের ঘটনা বেশী ঘটছে।

তিনি সংঘর্ষের বিষয়টি এড়িয়ে চলার জন্য নির্বাচনের আগমূহুর্তে বাগমারায় আইন শৃংখলা উন্নত রাখার জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার দাবী জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই একটি ইউনিয়নের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সংঘর্ষ থামানোর থানা পুলিশের পাশাপাশি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
293031    
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2021. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com