বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

সার্জেন্ট মহুয়ার মামলায় আসামির নাম নেই, যা বললেন ডিবি কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১
সার্জেন্ট মহুয়ার মামলায় আসামির নাম নেই, যা বললেন ডিবি কর্মকর্তা

রাজধানীর বনানীতে এক বিচারপতির ছেলের প্রাইভেটকারের চাপায় পা হারিয়েছেন বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মনোরঞ্জন হাজং।হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতড়াচ্ছেন। তার মেয়ে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেট মহুয়া হাজংয় দ্বারে দ্বারে ঘুরে দুই সপ্তাহ পর থানায় মামলা করতে সক্ষম হন। কিন্তু মামলায় আসামির নাম দিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মহুয়া।

মহুয়ার দায়ের করা মামলায় আসামিদের দেখানো হয় ‘অজ্ঞাতপরিচয়’। মহুয়ার দাবি, তিনি গাড়িচালক সাঈদ হাসানের নাম উল্লেখ করেই মামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটা নেওয়া হয়নি।

সার্জেন্ট মহুয়ার করা মামলায় আসামির নাম না থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, ‘নাম না দেওয়ার কারণ কী, ঘটনা কী ঘটেছে, সেসব বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কার দোষ সেটি খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ওই ঘটনায় কার দোষ ছিল- তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাফিজ আক্তার।

রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বিষয়টি আমিও জানি। এ ঘটনায় আমাদের গুলশান বিভাগের বনানী থানায় একটি মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সার্জেন্ট মহুয়া আমাদেরই একজন সদস্য। যেহেতু মামলা হয়েছে, তাই সাধারণ মানুষ যেভাবে বিচার পান, তার বিষয়টি সেভাবে দেখা হবে। তার মামলার বিষয়ে গুলশান বিভাগ কাজ করছে।’

গত ২ ডিসেম্বর মনোরঞ্জন মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি ইউলুপে।এ সময় একটি প্রাইভেটকার তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়।এতে মারাত্মক আহত হন মনোরঞ্জন। হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে তার ডান পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত এবং পরে সংক্রমণ হওয়ায় হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পরই মামলা করতে বহুবার চেষ্টা করেন মনোরঞ্জনের মেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মহুয়া হাজং।কিন্তু মামলা নেওয়া হচ্ছিল না। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর ও সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।১৪ দিন ঝুলিয়ে রাখার পর অবশেষে গত ১৬ ডিসেম্বর বনানী থানা পুলিশ মহুয়ার মামলা গ্রহণ করে। কিন্তু তার দুইদিন আগেই মহুয়ার বাবার বিরুদ্ধে উল্টো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই বিচারপতির ছেলে।

মনোরঞ্জনের ওপরই দুর্ঘটনার দায় চাপিয়ে এই জিডি করা হয়।জিডিতে বিচারপতির ছেলে সাঈদ হাসান বলেন, ‘তার গাড়িটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়নি বরং বেআইনিভাবে উল্টো দিক থেকে মনোরঞ্জনই তার গাড়িতে লাগিয়ে দেন। এতে তিনি ও তার স্ত্রীর প্রাণহানির মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তাই উল্টোপথে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য এই দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব মনোরঞ্জন ওপরই বর্তায়।’

জিডিতে সেদিনের ঘটনার বর্ণনায় বিচারপতির ছেলে উল্লেখ করেন, ‘গত ২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সেই রাতে, মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে নেমে চেয়ারম্যানবাড়ির ইউলুপ ঘুরছিলেন তিনি। এ সময় উল্টো দিক থেকে এসে মনোরঞ্জনের মোটরসাইকেলটি তার গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি সেখানেই প্রাচীরে লেগে যায় এবং প্রাণহানির ঘটনার সম্মুখীন হয়। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার স্ত্রীর ডান হাতে তিনটি আঙ্গুল ফ্র্যাকচার (ভেঙে) হয়।’

এদিকে সার্জেন্ট মহুয়া গণমাধ্যমকে বলছেন, তিনি দুর্ঘটনার বিচার চেয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু ঘটনার ১৪ দিন পর বনানী থানা অজ্ঞাত আসামি দিয়ে মামলা গ্রহণ করেছে। সাঈদের বাবা বিচারপতি হওয়ায় এতকিছু হচ্ছে বলে অভিযোগ মহুয়ার।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
22232425262728
293031    
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2021. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com