বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

রাজশাহী ওয়াসার পানির দাম তিন গুণ বাড়ানোর ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২২

পানির দাম তিন গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা)। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পানির দাম তিন গুণ বাড়ছে, যা কার্যকর হবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে।

নগরবাসী বলছেন, রাজশাহী ওয়াসার পানি সব সময় ঠিকমতো পাওয়া যায় না। আবার প্রায়ই পানের অযোগ্য দূষিত পানি সরবরাহ করা হয়। এমন অবস্থায় পানির দাম বাড়ানোর ঘোষণায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। অবিলম্বে ওয়াসা পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আন্দোলনের হুমকিও দিচ্ছেন নাগরিক সংগঠনের নেতারা।

তবে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, সেবার মান বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সমন্বয় করেই মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এটি দেশের অন্য নগরের চেয়ে এখনো কম।

ওয়াসার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি এক হাজার লিটার পানির মূল আবাসিকে ৬ দশমিক ৮১ টাকা এবং বাণিজ্যিকে ১৩ দশমিক ৬২ টাকায় নির্ধারণ করা হলো। নোটিশে নিচের দিকে পাইপের ব্যাস ও ভবনের তলার ভিত্তিতে নতুন মূল্য নির্ধারণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজশাহী ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি এক হাজার লিটার পানি উত্তোলন, পরিশোধন ও সরবরাহে ওয়াসার খরচ হয় ৮ টাকা ৯০ পয়সা। এত দিন আবাসিক সংযোগে প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম ধরা হতো ২ টাকা ২৭ পয়সা। দাম বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ৬ টাকা ৮১ পয়সা।

বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি থেকে একই পরিমাণ পানির মূল্য ধরা হয়েছে ১৩ টাকা ৬২ পয়সা। এই পানির দাম আগে ছিল ৪ টাকা ৫৪ পয়সা। আগের মূল্যের তুলনায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয়ের ক্ষেত্রেই পানির দাম তিন গুণ বাড়ানো হচ্ছে।

এদিকে, ওয়াসার যেসব সংযোগে মিটার নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রে সংযোগ পাইপের ব্যাস এবং ভবনের তলার ওপর নির্ভর করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। আবাসিকে আধা ইঞ্চি পাইপে নিচতলার জন্য মাসে সর্বনিম্ন ১৫০ টাকা, ১০ তলার জন্য ৮২৫ টাকা মূল্য ধরা হয়েছে।

এক ইঞ্চি পাইপে নিচতলায় ৩৭৫ টাকা এবং ১০ তলায় ২ হাজার ৭০ টাকা। দ্বিতীয় থেকে নবম তলা পর্যন্ত কিংবা ১০ তলার ওপরের তলার জন্য পানির বিল আনুপাতিক হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পানির দাম বাড়ানো অযৌক্তিক দাবি করে রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী বলেন, রাজশাহী ওয়াসা বর্তমানে যে সেবা দিয়ে আসছে, তাতেই তারা টাকা বেশি নিচ্ছে। সকাল ও রাতের কিছু সময়ে পানি পাওয়া যায়। মাঝেমধ্যেই কালো পানি বের হয়। খাওয়া তো যায়ই না।

সেকেন্দার আলী আরও বলেন, করোনা কাটিয়ে কেবল ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন, এই সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে গেল। এখন পানির দাম বাড়ালে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভাড়া বেড়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।

শিক্ষানগর রাজশাহীতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী মেস, বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। হঠাৎ পানির দাম তিন গুণ বাড়ানোতে মেস, বাসার ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা ইতিমধ্যে মেসমালিকের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি থেকে পানির বিল কিংবা ভাড়া বৃদ্ধির কথা শুনছেন। অনেক মেসমালিক ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে অজুহাত খুঁজছেন।

রাজশাহী মেস মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েতুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে পানির দাম বাড়ানো হলে সেটা আবারও শিক্ষার্থীদের মধ্যেই পড়বে। তাই তাঁরা চান, এই মুহূর্তে পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে ওয়াসা সরে আসুক। কারণ, শিক্ষার্থী, মেসমালিক কেউই ভালো নেই।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ওয়াসা বলেছিল তারা নগরবাসীকে সুপেয় পানি নিশ্চিত করবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা এটা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পানি পান করে পেটের পীড়াসহ নানা রোগে ভুগছে নগরবাসী। এই সময়ে পানির দাম বাড়ানো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ওয়াসা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে নগরবাসীকে নিয়ে তাঁরা আন্দোলনের ডাক দেবেন।

রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জাকীর হোসেন বলেন, ওয়াসা প্রতিষ্ঠার পর সবশেষ ২০১৪ সালে পানির দাম বাড়ানো হয়েছিল। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া পানির মূল্য এখনো দেশের অন্যান্য স্থানের পানির মূল্যের চেয়ে অনেক কম। তাঁরা এত দিন অনেক কম মূল্যে পানি সেবা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু স্বায়ত্তশাসিত, সরকারের ওপর নির্ভর করে চলছে। এটাকে নিজের আয় দিয়ে চলার মতো সক্ষমতা অর্জন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পানির উৎপাদন খরচও বেড়েছে, সেবার মানও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাই পানির দাম বাড়ানো হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ শাখাকে আলাদা করে ২০১০ সালের ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠা হয় রাজশাহী ওয়াসা। এখন ১০৩টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে তা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করছে ওয়াসা। নগরে পানির চাহিদা প্রতিদিন ১১ কোটি ৩২ লাখ লিটার। তবে ওয়াসা ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারে। ৭১২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে এ পানি নগরে সরবরাহ করা হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
293031    
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2021. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com