বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

রামগঞ্জে ইতিহাস গড়লো আ.লীগের প্রার্থী আনোয়ার খান

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারী, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ের মধ্যদিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ আসনটি উদ্ধার করলো টানা তিনবার ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। ১৯৮৬ সালে সংসদীয় আসনটি সৃষ্টির পর কখনো জয়ের মুখ দেখেনি দলটি। তবে এবারে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছেন রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. আনোয়ার হোসেন খান। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহাদাৎ হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৯২ ভোট।নির্বাচনে বিজয়ের পরদিন গত ৩১ ডিসেম্বর রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আনোয়ার খানের নেতৃত্বে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে নৌকার বিজয় উদযাপন করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে আসনটিতে শক্ত ঘাঁটি স্থাপন করতে সক্ষম হলো দলটি।

এদিকে লক্ষ্মীপুর-১ সংসদীয় আসনটি সৃষ্টির পর প্রথম বারের মত আওয়ামী লীগের বিশাল বিজয়ে সমগ্র রামগঞ্জে উৎসব বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী বিজয় মিছিল না করলেও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শুকরিয়া আদায় করে দোয়া প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. আনোয়ার খান বলেন, আমার মমতাময়ী নেত্রী আমার ওপর ভরসা রেখে রামগঞ্জের এই আসনটি থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত এই আসনটি আমার নেত্রীকে উপহার দিতে পেরে। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৭ বছর পর আমার হাত দিয়ে এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পতাকা উঠেছে এজন্য আমি গর্বিত।

বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের প্রথম বিজয়ে বেশ গর্বিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম রুহুল আমীন বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে সখ্যতা এবং দুর্নীতির কারণে বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে জনগণ। তাছাড়া বিএনপির নেতৃত্ব শূন্যতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিএনপি শিবিরে আঘাত হানা সহজ হয়েছে। সর্বোপরি আমাদের প্রার্থী আনোয়ার খানের দীর্ঘ দিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ফলে জনগণের নিকট ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয় এনে দিয়েছে।

তরুণ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, রামগঞ্জে আওয়ামী লীগের এই বিজয়ে তরুন ও ফার্স্ট টাইম ভোটারদের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ এবারে তাদের উপস্থিতি সব থেকে বেশি ছিল। এবারের নির্বাচনে তরুন ভোটারদের চাওয়া পাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে প্রমাণ হলো রামগঞ্জবাসী বিএনপিকে প্রত্যাক্ষাণ করেছে। একই সাথে এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে রামগঞ্জবাসী একাত্ত্বতা ঘোষণা করেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেওয়ান বাচ্চু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রামগঞ্জের ইতিহাসে স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে। কারণ প্রথম আওয়ামী লীগ লক্ষীপুর ১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছে। রামগঞ্জবাসী প্রমাণ করেছে শেখ হাসিনার প্রতি তাদের অবিচল আস্থা রয়েছে। এই ভোট বিপ্লবের মধ্যদিয়ে জনগণ ড. আনোয়ার খানের পরিশ্রমকে যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিস ও সানা উল্লাহ সানু সম্পাদিত গ্রন্থ লক্ষ্মীপুর ডায়েরি থেকে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বৃহত্তর নোয়াখালীর আওতাধীন এই আসনটি পায় আওয়ামী লীগ সেবার এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আব্দুর রশিদ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আসে স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান। এর পরেই শাসন ব্যবস্থা হাত ছাড়া হয়ে আওয়ামী লীগের, আর বিকৃতি হতে থাকে ইতিহাসের।

১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর নোয়াখালীর আওতাধীন এই আসনটির দখলে নেয় বিএনপির মমিন উল্ল্যাহ। ১৯৮১ সালে স্বৈর শাসক জিয়ার পতন হয়। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসে আসে আরেক স্বৈর শাসক এরশাদ। ১৯৮৪ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার আত্নপ্রকাশের পর ১৯৮৬ সালে ৩য় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই বারও নব গঠিত লক্ষ্মীপুর-১ আসনটির শাসনভার নেয় বিএনপি। সে বার আসনটি সংসদ সদস্য হন বিএনপির আবু নাসের শামসুল ইসলাম। ১৯৮৮ সালে ৪র্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এই দুর্গ ভাঙ্গে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। সে বার আসনটির সাংসদ হন তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের প্রার্থী এম এ গোফরান।

১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ওই নির্বাচনে আসনটি আবারো দখলে নেয় দলটি। পরবর্তীতে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত আসনটিতে টানা ক্ষমতা ধরে রাখে বিএনপি। তৎকালীন সময়ে ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ৯৬ সালের সপ্তম এবং ২০০১ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় জিয়াউল হক জিয়া। তবে মাঝখানে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটির সাংসদ হন বিএনপি নাজিম উদ্দীন আহম্মেদ।

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। ফলে আসনটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন মহাসচিব এম এ আউয়াল। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ড. আনোয়ার হোসেন খান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
15161718192021
22232425262728
293031    
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com