সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

ডায়াবেটিসের কারণ আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২
ডায়াবেটিসের কারণ আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা

ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ আবিষ্কার করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী অধ্যাপক মধু এস মালে ও জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় ডায়াবেটিস হওয়ার প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে টক্সিন-নিয়ন্ত্রিত নিনগ্রেডের সিস্টেমিক প্রদাহ দায়ী বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয়, ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ আবিষ্কারের লক্ষে অধ্যাপক মধু এস মালে (হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী অধ্যাপক) ও জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে এক দল গবেষক দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গত ৫ বছর ধরে ৩০-৬০ বছর বয়সী মোট ৫৭৪ জন সুস্থ মানুষের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে।

গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে বলা হয়, ডায়াবেটিসের প্রত্যক্ষ কারণ হল টক্সিন-নিয়ন্ত্রিত নিনগ্রেডের সিস্টেমিক প্রদাহ যার ফলে গ্রুকোজ নিয়ন্ত্রনকারি হরমোন ইনসুলিনের উৎপাদন ও কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমান বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস হয়। মানবদেহের অন্ত্রে থাকা মৃত ব্যাকটেরিয়ার কোষ-প্রাচীরের অংশ টক্সিন (এন্ডোটক্সিন) হিসেবে কাজ করে।

এই টক্সিন সাধারণত মলের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। তবে, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার, ফুকটোজ বা অ্যালকোহল টক্সিনকে রক্তে ঢুকতে সহায়তা করে। এর ফলে নিম্ন গ্রেডের সিসটেমিক প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং যার ফলে ডায়াবেটিস হতে পারে। মানবদেহের অন্ত্রে থাকা ইন্টেস্টিনাইল আলকালাইন ফসফাটেস নামক এনজাইম এই টক্সিনকে ধ্বংস করে দেয়।

ফলে এই এনজাইমের ঘাটতি হলে অন্ত্রে অতিরিক্ত টক্সিন জমা হয় এবং এই টক্সিন রক্তে ঢুকে সিসটেমিক প্রদাহ সৃষ্টি করে। ফলে একদিকে যেমন ডায়াবেটিস হতে পারে তেমনি ইশকেমিক হার্ট ডিজিজও হতে পারে। ইশকেমিক হার্ট ডিজিজেরও অন্যতম প্রধান করাণ সিসটেমিক প্রদাহ।

গবেষণায় দেখা যায়, যাদের শরীরে এই এনজাইম বেশি থাকে তাদের তুলনায় যাদের কম থাকে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ১৩ দশমিক ৮ গুণ বেশি। অল্পবয়সীদের যাদের অন্ত্রে এ এনজাইমটি দ্রুত কমতে থাকে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ৭ দশমিক ৩ গুণ বেশি। যাদের অন্ত্রে এই এনজাইমটি কম ছিলো এবং পরে তা বেড়ে গেছে তাদের ডায়াবেটিস হয়নি। এনজাইমটি যাদের অন্ত্রে কম ছিলো তাদের ফাস্টিং সুগার বৃদ্ধির মাত্রা প্রায় দ্বিগুণ। এনজাইমের মাত্রা বেশি হলে স্তুল ব্যক্তিদের ডায়াবেটিস হয় না।

ডায়াবেটিস রোধে যাদের দেহে এই এনজাইমের পরিমাণ কম তাদেরকে এই এনজাইম খাওয়ানো সম্ভব হলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব জানিয়ে গবেষকরা বলেন, বর্তমানে গবেষকরা এ এনজাইমটি তৈরির চেষ্টা করছেন।

গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল ও আমেরিকান ডায়াবেটিস সমিতির যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত জার্নাল ‘দি বিএমজে ওপেন ডায়াবেটিস রিসার্চ অ্যান্ড কেয়ারে’-এ প্রকাশিত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

গবেষণাটিতে অন্যান্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেছেন বারডেমের অধ্যাপক ফারুক পাঠান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক সালিমুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ হাসানাত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালযের অধ্যাপক সালেকুল ইসলাম প্রমুখ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
©2014 - 2021. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
%d bloggers like this: