সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ১২:২৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ এপ্রিল, ২০২২
সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ফরম পূরণের জন্য নেওয়া শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত না দেওয়ায় নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া মহাবিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন বাদী মামলাটি দায়ের করেন।

এজাহারে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ৬৯ হাজার ২৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। করোনার কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়া সত্বেও পরীক্ষার্থীদের ফরম পুরণের টাকা ফেরত দেননি তিনি। রেজাউল করিম রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খয়েরহাট এলাকার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, রেজাউল করিম বিলমাড়িয়া মহাবিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বিলমাড়িয়া মহাবিদ্যালয়ের ২০২০ ও ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা ফরম পুরণ করেন। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর কারণে সশরীরে পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সে মোতাবেক বিলমাড়িয়া মহাবিদ্যালয়ের ২০২০ সালের পরীক্ষার্থীদের ২৭ হাজার ৯৭৫ টাকা এবং ২০২১ সালের পরীক্ষার্থীদের ৪১ হাজার ৪৮ টাকা (সর্বমোট ৬৯ হাজার ২৩ টাকা) ফেরত দেয় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। এই টাকা তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের নামে চেক প্রদান করে শিক্ষা বোর্ড। কিন্তু তিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুললেও পরীক্ষার্থীদের ফেরত দেননি।

এদিকে, সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী টাকা ফেরত পেতে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর কয়েকজন পরীক্ষার্থী রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২০ ও ২০২২ সালের ফরম পূরণের ৬৯ হাজার ২৩ টাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে ফেরত দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা জানিজানি হলে ম্যানেজিং কমিটি রেজাউল করিমকে এই টাকা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ফেরত প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

কিন্তু তিনি সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এমন পরিস্থিতে তবে গভর্নিং বডির সদস্যরা অধ্যক্ষের কক্ষে গত ৫ জানুয়ারি ডেকে এনে তার নিকট থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের ফেরত দিতে বলেন। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। গত ৬ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে অব্যাহতি পেয়ে একই কলেজে সহকারী অধ্যাপক ফিরে যান রেজাউল করিম।

এরপর পরীক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মাইনুল ইসলাম নাটোরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সাথে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের রেজুলেশন, ছাত্র-ছাত্রী কর্তৃক দাখিলকৃত বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর দরখাস্ত, জাতীয় পরিচয়পত্রের ছায়ালিপি, ব্যাংক এবং বোর্ড থেকে দেওয়া স্টেটমেন্ট সংযুক্ত করা হয়। অভিযোগটি আমলে নিয়ে আদালতে স্পেশাল মামলা হিসেবে রেজিস্ট্রিভুক্ত করা হয়।

এদিকে, অভিযোগটি তফসিলভূক্ত হওয়ায় আদালত গত ১৮ জানুয়ারি দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে পাঠান। পরবর্তীতে মামলা গ্রহণের সিদ্ধান্তের জন্য দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয় গত ২৫ জানুয়ারি প্রধান কার্যালয়ে পাঠায়। গত ২৩ মার্চ মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয় দুদক।

দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন জানান, পরীক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে আর কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আমলে নেওয়া হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
©2014 - 2021. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
%d bloggers like this: