সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন

আমদানির চাপে ক্রমেই দাম বাড়ছে ডলারের

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২২
আমদানির চাপে ক্রমেই দাম বাড়ছে ডলারের

রপ্তানির চেয়ে আমদানি ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় চাপ পড়েছে ডলারসহ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রায়। এতে ডলারসহ বৈদেশিক মুদ্রার দাম অব্যাহতভাবে বেড়ে চলেছে। টাকার তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রার মান বাড়তে থাকায় আমদানি করা জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ডলারের রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ডলারসহ কয়েকটি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়তে থাকায় টাকার মান প্রতিদিনই কমছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ না বাড়লে এবং আমদানির তুলনায় রপ্তানি আয় বেশি না হলে ডলার সংকট বাড়তে থাকবে।

দেশীয় মুদ্রা টাকার তুলনায় ইউএস ডলারসহ অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার দাম বেড়েই চলছে। করোনার পর আমদানিতে প্রবৃদ্ধি এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভ্রমণের জন্য বিদেশ গমন বেড়ে যাওয়ায় ডলারের ওপর বাড়তি চাপের কারণে টাকার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য বাড়ছে। আর দেশের আন্তব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের তুলনায় তা খোলাবাজারে আরও চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এর বড় খেসারত দিচ্ছেন রপ্তানিকারক ও বিদেশগামীরা। যা প্রভাব পড়ছে পণ্যমূল্য তথা সাধারণ মানুষের ওপর বলে জানান অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, ১৩ এপ্রিল আন্তব্যাংকে ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৬ টাকা ২০ পয়সা। গত ২৩ মার্চ প্রতি ডলারের দাম ৮৬ থেকে বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সায় নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তা জানুয়ারি মাসের শুরুতে প্রতি ডলারের মূল্য ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ব্যাংকগুলো প্রতি ইউএস ডলার ৮৮ টাকা থেকে ৮৯ টাকায় কেনাবেচা করছে। যা খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৯৫ টাকা ১০ পয়সা পর্যন্ত। আর বিগত ১৩ বছরে টাকার মূল্য ডলারের বিপরীতে ২৫ টাকা কমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল প্রতি ইউরোর দাম ছিল ৯৬ টাকা ৪৮ পয়সা। ৬ মার্চ তা ছিল ৯৩ টাকা ৯৬ পয়সা। গত সপ্তাহে প্রতি পাউন্ডের দাম ছিল ১১৫ টাকা ৪০ পয়সা। ৩১ মার্চ পাউন্ডের দাম ছিল ১১৩ টাকা ১৮ পয়সা। গত ১৩ এপ্রিল প্রতি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময়মূল্য ছিল ৬২ টাকা ৪৫ পয়সা। ৩১ মার্চ ছিল ৬১ টাকা ৮০ পয়সা। একই দিনে কানাডিয়ান ডলার ৬৮ টাকা ৪০ পয়সা ও মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ২০ টাকা ৪১ পয়সা বিক্রি হয়েছে।

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে জানা গেছে, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) প্রতি ডলার ৯০ টাকায় কিনে ৯১ টাকায় বিক্রি করেছে। অগ্রণী ব্যাংক ৮৯ টাকা ৬০ পয়সায় কিনে ৯১ টাকা ৬০ পয়সায় বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক ৮৯ টাকা ৫০ পয়সায় কেনা ডলার ৯১ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করছে। এক্সিম ব্যাংকে ৮৯ টাকা ৪০ পয়সায় কেনা ডলার বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা ৯০ পয়সায়। এ ছাড়া প্রাইম ব্যাংক ৯০ টাকায় কিনে ৯১ টাকায় ও আইএফআইসি ৯০ টাকা ৪০ পয়সায় কিনে ৯১ টাকা ৬০ পয়সা দরে বিক্রি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে জানা গেছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাস জুলাই-জানুয়ারিতে ঋণপত্র খোলার হার (এলসি) বেড়েছে ৪৯ শতাংশ ও ঋণপত্র নিষ্পত্তি বেড়েছে ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এতে ডলারের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। যদিও সেই তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। রেমিট্যান্স কমছে। আর আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলোর ডলারের চাহিদা বেড়েছে। সেই চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। যদিও ব্যাংকগুলোর চাহিদার আলোকে ডলার বিক্রি করে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ দাঁড়াল ৪৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। যা গত বছরের ২৫ আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছিল।

পবিত্র রমজানে ওমরাহ করার উদ্দেশ্যে বুধবার ফকিরাপুলের খোলাবাজারে সৌদি রিয়েল কিনতে আসেন মিজানুর রহমান। তিনি ২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ১ হাজার ৬০০ রিয়েল কিনেছেন। অথচ ব্যাংকগুলোতে তা বিক্রি হচ্ছে ২২ টাকা ৯৮ পয়সা।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ডলারের বাজারে অস্থিরতা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও বাজার স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছে। আর সরবরাহ এবং চাহিদার মধ্যে ব্যাপক তফাত। এখন আমদানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু রেমিট্যান্স না বেড়ে উল্টো কমেছে।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘করোনার পরে পণ্য আমদানি অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে ভ্রমণ, চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া বেড়ে গেছে। যার কারণে ডলারের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দামও বাড়ছে। তবে প্রবাসীদের আয়ের পরিমাণও কমে গেছে। সে জন্য তারা কম পরিমাণ অর্থ পাঠাচ্ছেন।’

বাংলাদেশ মানি চেঞ্জার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা বিদেশ থেকে পাঠানো ডলার ৯১ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনে তা ৯১ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত বিক্রি করি। আর ডলারের বিক্রির হার বা সীমা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বেঁধে না দেওয়ায় কোনো কোনো সময় ৯৯ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করি।’

এ বিষয়ে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী বলেন, ‘আমাদের দেশে ডলারের সঙ্গে অন্য মুদ্রাগুলোর দাম সমন্বয় করা হয়। এ কারণে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অন্য মুদ্রাগুলোর দামও ওঠানামা করছে। দেশে আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ লেনদেনই হয় ডলারে।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
©2014 - 2021. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
%d bloggers like this: