শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৬:০৬ অপরাহ্ন

গলায় ফাঁস দিয়ে ঋণের জ্বালা মেটালেন গৃহকর্তা!

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৮
গলায় ফাঁস দিয়ে ঋণের জ্বালা মেটালেন গৃহকর্তা!

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃজয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ঋণের চাপে বেলাল হোসেন (৪০) নামে এক গৃহকর্তা গলায় রশি পেচিয়ে আতœহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আআত্নহত্যাকারী বেলাল হোসেন (৪০) পেশায় কৃষক। সে উপজেলার উত্তর নলডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে। অভাব অনাটনের সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে তার।আজ বুধবার রাতে নিজ বাড়ির আঙ্গীনায় একটি আম গাছের ডালের সাথে রশি পেচিয়ে আত্নহত্যা করে সে। পুলিশ বেলা ১১ টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রির্পোট তৈরি করেন।

 
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উত্তর নলডাঙ্গা গ্রামের বেলাল হোসেন বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে দেড় থেকে দু’লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ নেওয়ার কিছুদিন পরে থেকেই শুরু হয় বাড়িতে পাওনাদারের আনাগোনা। সঠিক সময়ে কিস্তর টাকা দিতে না পারলে এনজিও প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও সুদ ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে বেলালের উপর। কিস্তির টাকা না দিতে পারলে বেলাল মাঝে মধ্যে বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াতেন। আবার যখনিই বেলাল বাড়িতে আসতো তখনিই এনজিও প্রতিষ্ঠানের লোকজন বাড়িতে হাজির হতো।

 

সংসার, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া ও বিয়ে-সাদির খরচ যোগাতে গিয়ে এনজিও এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা ভারি হতে থাকে বেলাল হোসেনের। বয়সের ভার এবং শারীরিক অসুস্থতায় মাঠে কাজকর্ম করতে পারতেন না তিনি। কিন্তু বসে নেই পাওনাদাররা। ঋণ পরিশোধে তার ওপর চাপ দিনদিন বাড়তেই থাকে। কিন্তু পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য আর শক্তিও ছিল না। সামান্য বসতভিটাটুকু ছাড়া তার মাঠে কোন জমিজমা ছিল না। ফলে বাড়তে থাকে মানসিক জ্বালা। আর সে জ্বালাটুকু মেটালেন অবশেষে গলায় ফাঁস দিয়ে।

 

বেলাল হোসেনের ছেলে সৌরভ হোসেন বলেন, আমার বাবা ঋণের বোঝা সইতে না পেরেই এই কাজ করেছেন। দু’এক দিন আগে পাওনাদারেরা বাড়িতে এসে ঝামেলা করেছিল। এরপর বাবা বাড়ি থেকে তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে যান সেখান থেকে রাতে কখন যে বাড়িতে প্রবেশ করে এই কাজ করেছে আমরা জানিনা। আমার মা ভোরে নামাজ পরতে উঠে আঙ্গীনায় তাকিয়ে দেখে বাবা গলায় ফাঁসদিয়ে ঝুলে আছে।
নিহত বেলাল হোসেনের চাচা আব্দুল গফুর জানান, তার ভাতিজার সঙ্গে কারো শত্রুতা ছিল না। তবে বিপুল পরিমাণ টাকা তার ঋণ ছিল। বিভিন্ন এনজিও, সমিতি থেকে তিনি ঋণ নিয়েছিলেন। পাওনা টাকার জন্য প্রায় মানুষজন তাকে চাপ দিতেন। এ নিয়ে সব সময় মানসিক চাপে থাকতেন। তাদের দাবি, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তিনি আত্নত্যা করেছেন।

 
গ্রামবাসি সামসুল ইসলাম জানান, সংসারের খরচ আর ছেলে-মেয়ে মানুষ করতে গিয়ে অনেক টাকা ঋণ হয়েছিল তার। মাঝে মধ্যে পাওনাদাররা তার বাড়িতে আসতেন তার সন্ধানে। এসব বিষয় নিয়ে খুব হতাশায় থাকতেন তিনি।স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, বেলাল খুব ভাল লোক ছিলেন তারা সাথে গ্রামের কোন লোকের শক্রতা ছিলনা। সে বেশ কিছু এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। এই ঋণের টাকার ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকবার দরবার সালিশও হয়েছিল। ঋণের ভারে জরজরিত হয়েই সে আতœহত্যা করেছে।
লাশের সুরতহাল রির্পোট তৈরিকারি আক্কেলপুর থানার এস আই তাজুল ইসলাম বলেন, নিহত বেলালের শরিরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। গলায় ফাঁস দিয়েই সে আত্নহত্যা করেছে। লাশের বিষয়ে কারো কোন অভিযোগ নেই।আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কিরণ কুমার রায় জানান, বেলাল হোসেন নামে এক ব্যাক্তি আত্নহত্যা করেছেন। এঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
     12
24252627282930
31      
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com