মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
নরসিংদীতে নিহত ৪ জনের বাড়ি পাবনায় :তাদের আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয় অভিযোগ পরিবারের বেনাপোল সীমান্তে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ আটক -১৪ সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পেলেন শেখ সাইফুল ইসলাম কবির রাজশাহীতে রেলের টিকিট কালোবাজারির দায়ে আটক-৪:ভ্রাম্যমান আদালতে ৭ দিনের কারাদন্ড রাজশাহী মহানগরীতে ফেন্সিডিলসহ র‍্যাবের হাতে যুবক আটক সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী মহানগরীর একটি নারী আসন বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে অভাব অনটন দুরে সরে গেছে – হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ব্যারিস্টার মইনুলের জামিন নামঞ্জুর:কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ওলামা লীগের সভাপতি গ্রেফতার স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ নেয়নি শিবগঞ্জের বিধবা দেলবাহারের খোঁজ

পাবনায় সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া দুটি হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ননা

ডেস্ক রিপোর্ট: একটি স্কট টেপ, দুটি জীবন শিরোনামে পাবনার পুলিশ সুপারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সাম্প্রতিক দুটি হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
“রাজশাহীনিউজ ২৪ ডটকম” এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল, লাশটার মুখ স্কট টেপ পেচানো । হাত পা হাটু মুড়ে শক্ত দড়ি দিয়ে বাধা। ঠিক যেমনটা মায়ের পেটের ভিতর থাকে শিমুর বাচ্চা । কিন্তু প্রথমে তো কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। শুধু মুখ বন্ধ বস্তার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছিল বোটকা পচা গন্ধ। বস্তার মুখ খুলতেই ছড়িয়ে পড়ল গন্ধ । সদ্য গলে যাওয়া লাশের গন্ধ কি বিভস্য! কি অমানবিক! একমাসের ব্যবধানে দুইটা একই রকম ঘটনা । কোনো উত্তর নেই । রহস্যের কুলকিনারা পাওয়া যাচ্ছিল না ।আর রহস্যের কিনারা পাওয়া যাবেই বা কি করে। যেখানে কার লাশ তাই সনাক্ত করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে । কোটর থেকে বেরিয়ে আসা চোখ, হাত থেকে খসে পরা মাংস আর বিবর্ন জামা দেখে তো আর মানুষ সনাক্ত করা যায় না । তবে কি এই গলে যাওয়া মাংসপিন্ডগুলি তার ঠিকানা পাবে না।অপরাধীরা কি ধরা ছোয়ার বাইরেই থেকে যাবে? তা কিভাবে হয়? তাহলে তো মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে। একটু বিস্তারিত বলি জুলাই মাসের ১৫ তারিখে নিখোজ হন মানিক(১৯) বাড়ি তার আটঘরিয়া থানায় ।অত্যন্ত প্রানোচ্ছল ছিল ছেলেটা। অন্য পাচটা ছেলের মতবসে থাকেনি। বাবাকে বলে জমি বিক্রি করে কিনেছিল একটা ইজি বাইক। স্বপ্ন ছিল এক সময় একটা মাইক্রো বাস কিনবে । তাই অন্যদের চেয়ে একটু বেশি পরিশ্রম করত সে রোদ কি বৃষ্টি, রাত কি দিন কোনো কিছুই তার না ছিল না । কারন একটাই বেশি শ্রম বেশি অর্থ । আর স্বপ্ন পূরণের দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়া চা সিগারেট খেত না, পয়সা নষ্ট হবে বলে। বাজে কোনো আড্ডাতেও ছিলনা সে। সেই ছেলেই কিনা একদিন আর ঘরে ফিরল না। অনেক খোজাখুজি হল মানিকের সন্ধান মিলল না ।
এর পরের ঘটনা সেপ্টেম্বর মাসের ২৪ তারিখে ।ঐদিন মারুফ যখন বাসা থেকে বের হচ্ছিল ছোট্ট বাচ্ছাটা জামা টেনে ধরল। পিছে ফিরে কোলে তুলে নিল মারুফ অপার বিস্ময়ে দেখল বাচ্ছার মুখটা। কি ফুটফুটে কি নিষ্পাপ কি যেন তারই মুখচ্ছবি । বউ এস বলল বাপ বেটিতে খুব ভাব তাইনা? আমার কোনো দামই নেই। এহাতে শিশু সন্তান এক হাতে বউকে জড়িয়ে ধরে মুচকি হাসল সে। বউকে বলল_ কিযে বলনা ।তোমার মত মিষ্টি বউকি কারো আছে । বউ বলল এত কাজে না গেলে হয়না? দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মারুফ বলল পাগলিটা কাজে না গেলে পেট চলবে কেমন করে? আজকে শুধু যাব আর চলে আসব। এই বলে ইজিবাইকটা নিয়ে বের হয়ে গেল রাজাপুরের মারুফ । তার কথাটা বিশ্বাস করেছিল স্ত্রী আর সন্তান তারা এখনো পথ চেয়ে আছে । কিন্তু ফেরা হয়নি মারুফের। আর ফিরবেনা কখনো।
দুইটা মানুষ নিখোজ হল আবার দুজনেই ইজি বাইক চালক। বিষয়টা নাড়া দেয় পাবনা জেলা পুলিশকে । পুলিশ সুপার মহোদয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহোদয়(প্রশাসন), সদর সার্কেল অফিসারসহ পুরো জেলা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে একসাথে কাজ শুরু করে। হটাৎ ইং ২৭/০৯/১৮ তারিখে পুনুরায় কচটেপ পেচানো লাশ মেলে আতাইকুলার চড়াডাঙ্গা গ্রামে। খুব তারাতারি সনাক্ত হয় হারিয়ে যাওয়া ইজি বাইক চালক মারুফের লাশ এটা । থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবির পুরো ইউনিট ঝাপিয়ে পরে। পুলিশ সুপার মহোদয় আস্থা রাখেন সেই পুরানো অফিসার অসিত আর অরবিন্দুর উপর ।এই তরুণ অফিসারদ্বয় কখনও নিরাশ করেনি আর এবারও তার ব্যত্তয় ঘটেনি।এই ফাকে বলে রাখা দরকার প্রথম নিখোজ ঘটনার পর থেকেই এসআই অসিত নিখোজ ব্যক্তির ফোনকলগুলি বিশ্লেষন করছিলেন।মাঝে ফোনটি বন্ধ পেলেও দ্বিতীয় ঘটনা ঘটার কদিন আগ থেকেই পুনুরায় উক্ত ফোন খোলা পান। তবে ফোনে ব্যবহার হচ্ছিল নতুন নম্বর । তারপর খেয়াল করে দেখা যায় ফোনটি বেশ কিছুদিন বরিশালে ব্যবহারের পর সম্পৃতি আবার পাবনায় ব্যবহুত হচ্ছে । বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যারকে বললে স্যার লেগে থাকতে বললেন । প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পুলিশ হেডকোয়াটার্সের সংগে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম স্যার। নানা কৌশল অবলম্বন করে গ্রেফতার করা বেল্লাল নামের এক যুবককে । মুখভর্তি চাপ দাড়ি।নামাজ পড়তে পড়তে কালো দাগ পড়ে গেছে । কি নূরানি চেহারা। গ্রেফতারের পর কিছুটা ঘাবরিয়ে যান ডিবির অফিসারগণ । তারা কি ভুল মানুষের পিছনে ছুটেছে এতদিন। কিন্তু হাল ছাড়ে না অসিত । বরিশালের লোক পাবনায় কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুজতেই বেরিয়ে এল ভয়ঙ্কর তথ্য । প্রফেশনাল ক্রিমিনাল এই হুজুর । পরেছে বরিশালের মাদ্রাসায়। কিশোর বয়সে খালাতো বোনকে ধর্ষনের চেষ্টা করলে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় তাকে । ঢাকায় এসে পরিচয় হয় মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ আতাইকুলার রহমানের সাথে । স্বল্পদিনে অল্প পরিশ্রমে বড়লোক হবার ফন্দি আটে তারা । সাথে যোগ দেয় নকশাল শাজাহান, মোমিন এবং খালেক ।
প্রথমে টার্গেট করা হয় চকচকে নতুন কোনো ইজিবাইক। তারপর দেখা হয় চালকের শক্তি সামর্থ।এরপর বেশি ভাড়ার লোভ দেখিয়ে সন্ধ্যার দিকে ভাড়া করে আনা হয় ঘাতকের ভাড়া করা নির্জন বাসার সামনে । বলা হয় ঘরের ভিতর থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার আনতে হবে । ঘরের ভিতর আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকে ঘাতক। ইজিবাইক চালক ঘরে ঢুকতেই পিছন থেকে ঝাপটে ধরা হয় । স্কচটেপ পেচানো হয় মুখে।এরপর গলায় দড়ি পেচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয় । এরপর হত্যার আনন্দে ভুড়িভোজ। কখনো কখনো লাশের সাথে ঘুমায় সবাই এযেনো মামুলি ব্যাপার । তারপর সুবিধাজনক সময়ে নির্জন জায়গায় ফেলা হয় বস্তাবন্দি লাশ। ইজি বিক্রির টাকা বন্টন হয় ঘাতকদের মধ্যে । দুই ভন্ড হুজুর হয়ত চলে যায় মসজিদে জামাতের নামাজ আদায় করতে। এযেনো কিছুই হয়নি ।
শেষকথা ঘাতকেরা ধরা পড়েছে ইজিবাইক উদ্ধার হয়েছে, আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে । তখনো চলছে তাদের সালাত আদায়, ক্ষমা চাচ্ছে আল্লাহর কাছে ।আল্লাহ ক্ষমাশীল জানিনা তিনি মাফ করবেন কিনা। তবে কোনো দিন কি ক্ষমা করবে মারুফের স্বামী হারা স্ত্রী কিংবা তার পিতৃহারা শিশু সন্তান? কোনোদিন ক্ষমা করবে কি মানিকের সন্তান হারা বাব-মা? প্রশ্নটা মাথার মধ্যে বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে।
সূত্র ফেইসবুক SP Pabna
লেখনিঃ জনাব মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাসান
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেড়া সার্কেল), পাবনা

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 rajshahinews24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com