রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ০৭:৩১ অপরাহ্ন

তামিম ঝড়ে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক : বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ফাইনাল খেলেই বাজিমাত করলেন টাইগার ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। এভিন লুইস, রুশো, ভিলিয়ার্সরা বিপিএলে চলতি আসরে সেঞ্চুরি করেছেন। কিন্তু তা দিয়ে কি মন ভরে বাংলাদেশের দর্শকদের। দেশি কোন তারকার ব্যাট থেকে সেঞ্চুরির ইনিংস দেখতে না পাওয়ায় আক্ষেপ ছিল তাদের মনে। তামিম এবার সেই খেদ মেটালেন। ফাইনালেই দেখা মিললো টর্নেডো তামিমের। তার বিধ্বংসী ব্যাটেই ঢাকাকে ২০০ রানের বড় টার্গেট দেয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানেই থেমে গেল ঢাকা। কুমিল্লা জিতলো ১৭ রানে। প্রথমবারের মত বিপিএলের শিরোপা পেল তামিম। আর কুমিল্লা পেল বিপিএলের দ্বিতীয় শিরোপা।বিপিএলের ইতিহাসে দু’বার ফাইনাল খেলছে কুমিল্লা। কিন্তু বিপিএল ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা তামিমের এই প্রথম। নতুন অভিজ্ঞতা নতুন স্মৃতি দিয়ে স্মরণ করে রাখলেন তামিম ইকবাল। খেললেন ৬১ বলে ১৪১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।

হাইভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে কুমিল্লা। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কুমিল্লার। শুরুতেই রুবেলের আগুনঝড়া বোলিংয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরেন ফর্মে থাকা এভিন লুইস। বিদায়ের আগে ৭ বলে এক বাউন্ডারিতে ৬ রান করেন তিনি।

এরপর জুটি গড়েন তামিম-বিজয়। ১২তম ওভারে সাকিবের বলে এলবি ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন তিন নম্বরে নামা এনামুল হক বিজয়। এর আগে তামিমের সঙ্গে ৬১ বলে ৮৯ রানের জুটি গড়েন। বিজয় ৩০ বলে দুই বাউন্ডারিতে করেন ২৪ রান। কোনো রান না করেই রানআউট হন শামসুর রহমান শুভ। দলীয় ৯৯ রানে তিন উইকেট হারায় কুমিল্লা।

এরপর মিরপুরে শুরু হল তামিম ঝড়। একের পর এক চার-ছক্কায় সাকিবদের তুলোধুনা করছিল তামিম। মাত্র ৩১ বলেই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ড্যাশিং ওপেনার। এরপর আরো রূদ্রমূর্তি ধারণ করেন। হয়ে ওঠেন আরো বিধ্বংসী। পরের পঞ্চাশ করেন মাত্র ১৯ বলে। সব মিলিয়ে মাত্র ৫০ বলে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। সেঞ্চুরি তুলে নিয়েও থামেননি, টর্নেডো চলেছেই। তার সাইক্লোনে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রানের পাহাড় গড়ে কুমিল্লা। তামিম নিজের প্রথম ফাইনাল খেলতে নেমে সেঞ্চুরি হাঁকান। ৬১ বলে ১০টি চার আর ১১টি বিশাল ছক্কায় করেন অপরাজিত ১৪১ রান। ইমরুল ২০ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

২০০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ক্যারিবিয়ান তারকা ব্যাটসম্যান সুনীল নারাইনকে হারায় ঢাকা। সাইফউদ্দিনের থ্রোতে রানআউটের শিকার হয়ে শূন্যরানেই ফেরেন তিনি। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন উপুল থারাঙ্গা ও রনি তালুকদার। দলীয় ১০২ রানে উইকেট বিলিয়ে দেন থারাঙ্গা। পেরেরার করা নবম ওভারের শেষ বলে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৪৮ রানে ফেরেন তিনি। ২৭ বলে ৪৫ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ইনিংসটি খেলেন থারাঙ্গা। এরপর ব্যাটিংয়ে আসেন অধিনায়ক সাকিব। তবে দলীয় ১২০ রানে তাকে ফেরান ওয়াহাব রিয়াজ। তার করা ১২তম ওভারের প্রথম বলে ব্যক্তিগত ৩ রানে ফেরেন সাকিব।

সাকিবের বিদায়ের পর ১ রানের ব্যবধানে রানআউট হয়ে ফেরেন রনি তালুকদার। ফেরার আগে ৩৮ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এই ব্যাটসম্যান। এরপর দলীয় ১৩২ রানে আন্দ্রে রাসেলকে ৪ রানে ফেরান থিসারা পেরেরা। তার করা ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়াহাব রিয়াজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রাসেল। দলীয় ১৪১ রানের মাথায় কাইরন পোলার্ড ১৫ বলে ১৩ রান করে সাজঘরের পথে হাঁটেন।

স্কোরকার্ডে ২ রান যোগ যোগ হতেই সাইফউদ্দিনের বলে পেরেরার ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন শুভাগত হোম। শেষদিকে ঝড় তোলে ঢাকার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান। কিন্তু দলীয় ১৭৩ রানে ওয়াহাব রিয়াজের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আনামুলের তালুবন্দী হন। ১৫ বলে ১৮ রান করেন তিনি।

১৯তম ওভারে ১৫ বলে দুই ছক্কায় ১৮ রান করে বিদায় নেন নুরুল হাসান সোহান। আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ঢাকা। কুমিল্লার পেসার ওয়াহাব রিয়াজ তিনটি, থিসারা পেরেরা দুটি আর সাইফউদ্দিন দুটি করে উইকেট পান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com