বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

কৌশল বদলে রাজশাহীর ইলিশ শিকারীরা পদ্মায়

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৮
কৌশল বদলে রাজশাহীর ইলিশ শিকারীরা পদ্মায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে রাজশাহীর পদ্মায় কৌশলে ইলিশ শিকার করেছেন জেলেরা। ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র জেলার পবা, গোদাগাড়ী, চারঘাট ও বাঘাট প্রায় ৭ হাজার জেলে নেমেছেন ইলিশ শিকারে। মাঝে মধ্যে অভিযানে দু-একটি দল পাকড়াও হলেও বাকিরা থেকে যাচ্ছেন আড়ালেই।

যদিও মৎস দপ্তর বলছেন, জেলেদের তারা ইলিশ শিকার থেকে বিরত রেখেছেন। এনিয়ে জেলেদের একটি অংশকে দেয়া হয়েছে সরকারী চাল সহায়তা। তবে এই সহায়তা একেবারেরই অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত সোমবার দিনভর জেলার পবা, বাঘা ও চারঘাটেও অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে পবার হরিপুর এলাকার পদ্মা থেকে ইলিশ শিকারের সময় ১০ জেলেকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ হাজার মিটার কারেন্ট জাল।

অভিযানে ইলিশ পাওয়া যায় ১৫ কেজি। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল ইসলাম এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। পরে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে প্রত্যেক জেলেকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। আদালতের নির্দেশে পড়িয়ে ফেলা হয় জব্দকৃত কারেন্ট জাল। এছাড়া চারঘাট থেকেও ১৪ হাজার মিটার জাল জব্দ করে পুড়ানো হয়।

জেলা মৎস দপ্তর জানিয়েছে, ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র রাজশাহীর এই চার উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৭ হাজার ৫৪৮জন। এরমধ্যে পবায় ২ হাজার ৬৫৮ জন, গোদাগাড়ীতে ২ হাজার ৪৩৪জন, চারঘাটে এক হাজার ১৪৯ জন এবং বাঘায় এক হাজার ৩৬০জন।

এদের মধ্যে পবায় ৬৩১ জন, গোদাগাড়ীতে ৫৭৯ জন, চারঘাটে ২৭৯ জন এবং বাঘায় ৩১১ জন ২০ কেজি করে সরকারের চাল সহায়তা পেয়েছেন।

জেলা মৎস দপ্তর জানিয়েছে, জেলেরা ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞাকালীন নদীতে নামবেননা। তবে এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি মৎস দপ্তর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে প্রত্যেককে চাল সহায়তার আওতায় নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছিলো। কিন্তু বরাদ্দ মিলেছে সামান্যই। তারপরও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জেলেদের ইলিশ আহরণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে গত ৭ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই ৯ দিনে ব্যাপক চৎরপতা চালিয়েছে মৎস দপ্তর। এর মধ্যে ৯৯ অভিযানসহ সাতটি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। নিয়মিত মামলা হয়েছে একটি। এসময় এক জেলেকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে ৫ হাজার ১৭০ মিটার জাল।

এ ক’দিনে ১৪বার মৎস অবতরণ কেন্দ্রে, ৬২ বার মাছ ঘাটে, ৫০১ বার মাছের আড়তে এবং ৪০৫ বার হাটে-বাজারে গেছে মৎস দপ্তরের নজরদারিতে থাকা দল।

এসময় জেলার বাঘায় ২৭ কেজি এবং গোদাগাড়ীতে ৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো নিকটস্থ এতিম খানায় দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় ধরেই এই অভিযান চালবে।

কৌশল বদলে রাজশাহীর ইলিশ শিকারীরা পদ্মায়খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ ধরা পড়ছে রাজশাহীর পবা, গোদাগাড়ী, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার পমত্তা পদ্মায়। তবে প্রকাশ্যে নয়, লুকিয়ে-চুরিয়ে ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা।

দিনের বেলায় ছোট ছোট দলে পদ্মায় নামছেন তারা। তবে সন্ধ্যার পর থেকেই সদলবলে নেমে পড়ছেন। ইলিশ শিকার চলছে রাতভর। ভোররাতে মা ইলিশ চলে আসছে তীরে। এরপর বাড়ি থেকে ব্যাবসায়ীদের ডেকে পানির দামে বিক্রি করছেন জেলেরা।

এই মূহূর্তে সবচেয়ে বেশী ইলিশ ধরা পড়ছে গোদাগাড়ীর বিভিন্ন এলাকায়। অনেকটা প্রকাশ্যে এখানে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। সাইজ ভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দেড়শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকায়। ভোর হবার আগেই হয়ে যাচ্ছে বেচাকেনা। ক্রেতাদের একটি বড় অংশ স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশ কর্তা এমনকি প্রশাসনের কর্তারাও রয়েছেন ক্রেতাদের তালিকায়।

এমন বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের। তিনি বলেন, গত বছর ব্যাপক অভিযান ছিলো। এতে এবার কৌশল বদলে ফেলেছেন জেলেরা। তবে শিগগিরই বড় ধরণের অভিযান শুরু করবে জেলা প্রশাসন।

অন্যদিকে জেলা মৎস কর্মকর্তা শামশুল আলম শাহ বলেন, মৎস দপ্তরের দল নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সাথে রয়েছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও অভিযানে অংশ নিচ্ছে বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাব। আইন অমান্যকারীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ইলিশ গভীর জলের মাছ। কিন্তু এবার পদ্মায় প্রবাহ তুলনামূলকভাবে কম। ফলে ইলিশের দেখা মিলছে সামান্যই। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সময়ে ইলিশ শিকার বন্ধ রাখলে ইলিশের পরিমাণ বাড়বে। এনিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com