শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

নাটোরের পাসপোর্ট অফিসের কর্মীরাই যখন দালালের ভুমিকায়

নাটোরের পাসপোর্ট অফিসের কর্মীরাই যখন দালালের ভুমিকায়

শামীম পারভেজ, নাটোর : ‘পাসপোর্ট নাগরিক অধিকার নিঃস্বার্থ সেবাই আমাদের অঙ্গীকার’- এই স্লোগানের সঙ্গে বাস্তবতা খুব কমই খুঁজে পান পাসপোর্ট গ্রাহকরা। পাসপোর্ট অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতি নতুন কিছু নয়। তবে নাটোরে বাইরের দালাল চক্র নয়, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিন্ডিকেটের হাতেই জিম্মি সেবাগ্রহীতারা। প্রায় প্রকাশ্যেই চোলছে প্রতারণা, আর সে সকল দালালদের একটি কথা সেটি হচ্ছে অফিস খরচ।

 

 

নাটোর পাসপোর্ট অফিস। মূল ফটকে ঢুকতেই চোখে পড়ল দালালের সঙ্গে দর কষাকষি চলছে। সরকারি ফি জমা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত খরচ দুই হাজার টাকা দাবি করছেন ওই দালল। কেন অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে- এমন প্রশ্ন করলে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।অফিসের ভেতরে চোখে পড়ল আরেক দালালকে। তিনি কর্মচারী। নিজ অফিস চলাকালীন অনায়াসে চালিয়ে যাচ্ছেন পাসপোর্ট আবেদন জমা নেওয়ার কাজ।পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা কর্মীরাও পেছনের ফটক দিয়ে পাসপেোর্টের আবেদন ফরম জমা নিচ্ছেন। এ জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় গ্রাহকদের।

 
যারা দালালের সহযোগিতা ছাড়াই, পাসপোর্টের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, সেখানে লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আর আবেদন যাচাই-বাছাই করছেন নৈশ প্রহরী (এমএলএসএস) লিংকন। তিনি শুধু দেখছেন দালালের দেওয়া স্লিপ আবেদনের সঙ্গে আছে, কি না। স্লিপ থাকলে আবেদন জমা নিচ্ছেন। অন্যথায় আবেদন সঠিক হয়নি বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন গ্রাহকদের।দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রবিউল ইসলাম বলেন, তিনি জরুরি পাসপোর্ট করতে নির্ধারিত ফি ছাড়াও দেড় হাজার টাকা দিয়েছেন দালালকে। তারপরও এক মাস পার হয়ে গেছে।

 

 

আজ দেব, কাল দেব বলে কালক্ষেপণ করছেন অফিসের কর্মকর্তা।শামীম নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছেন তিন দিন পূর্বে। কিন্তু আবেদন জমা নিচ্ছেন না কাউন্টারে বসা লোকটি। তিনি দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলছেন। তাই নির্ভরযোগ্য দালাল খুঁজছেন।পাসপোর্ট আবেদনকারী দুলাল মিয়া বলেন, এ পর্যন্ত তিন দিন এসেছেন পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে। জমা নেননি কাউন্টারে বসা লোকটি। এই ভুল, সেই ভুল- বলে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। আজ বাধ্য হয়ে এক দালালের সঙ্গে কথা বলেছেন। দালালের দাবি অনুযায়ী তাকে অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা দিয়েছেন। পরে তার ফাইলটি অফিসে জমা পড়েছে।পাসপোর্ট অফিসের নতুন পাসপোর্ট সংক্রান্ত যারা আসছে তারা বেশিরভাগই হয়রানির শিকার হচ্ছে এই প্রতারক গোষ্ঠীর হাতে।

 

 

 

এই প্রতারণায় জড়িত আছে অফিসের কিছু দালাল, কি ভাবছেন কেন বললাম অফিসের কর্মচারী বেশি কিছু দালাল? তারা আনসার বেসে হেল্প ডেক্সে বসে আছে। তারা আনসার হলেও তারা তাদের অফিসের দালাল হিসেবে কাজ করছে। হেল্প ডেক্স দেখে যারা তার কাছে এগিয়ে যাচ্ছে তারাই ফাঁদে পড়ছেন। মূলত তারা আনসার তাদের কাজ হেল্প ডেক্সে বসে অফিস সংক্রান্ত সব তথ্য দিয়ে গ্রাহকদের সঠিক ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া ও সহায়তা করা।

 

 

 

কিন্তু সহায়তা দূরে থাক তারা নিজেরাই ফাঁদে ফেলেছেন গ্রাহকদের। ইতিমধ্যে প্রায় শতাধিক গ্রাহক এ পর্যন্ত প্রতারিত হয়েছে। প্রতারিত হবার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক জানায়় অফিসে নাকি পাস্পোর্ট প্রতি পনেরশো টাকা লাগে। পনেরশো টাকা না হলে তারা কাজটি হতে দেয় না, চলে নানা রকম বায়না। নানা রকম অজুহাত এবং গ্রহকদের কোন অংশে লক্ষে পৌছাতে দেয়না এই চক্র.।. অযুহাত টা এমন যে তার পকেট থেকে দেওয়া লাগবে অফিসের সকল ইস্টাফকে। আসলেই কি তাদের সঙ্গে অফিসের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ জড়িত? তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রতারক চক্রের পরিচিত এক নাম “ভাই”। তিনি সকলের সাথে ভাই ভাই সম্পর্ক রাখলেও তিনি টাকার বিনিময় ছাড়া কোনো কাজই করতে রাজি নয়। আর তাকে টোপকে কেউ কিছু করার সাধ্য নেই। কারণ সে বসে থাকেন অফিসের মেইন গেটে আনসারের পোশাক পরিহিত অবস্থায়। তার চোখকে ফাঁকি দেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই।

 

 

 

তার দায়িত্ব নজরদারি কড়া নিরাপত্তার সব দায়িত্ব তার। কিন্তু তার নিরাপত্তা চলছে বেআইনিভাবে প্রতারক চক্রের মূল হাতিয়ার হিসেবে। এরকম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস গুলোতে শত শত ভাই রয়েছে। আবার কিছু সংখ্যক সাহায্যের নামে এগিয়ে প্রতারনা চালাচ্ছে।যারা হয়রানির শিকার হয়েছে তাদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি নিউজটি শেয়ার করে সকলকে জানার সুযোগ করে দিন এবং সচেতন করুন অন্যকে এটি অবশ্যই আপনার দায়িত্ব কারণ আপনি এদেশের নাগরিক। দেশের সব কিছু সব জায়গাতে সুষ্ঠু হবে হোক এটা আপনি নিশ্চয় চান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930   
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com