রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

নওগাঁয় বাড়ছে কিনডি রোগীর সংখ্যা: কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯
নওগাঁয় বাড়ছে কিনডি রোগীর সংখ্যা: কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁ আধুনিক সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টারে দিন দিন বাড়ছে কিনডি রোগের রোগীর সংখ্যা। সেবার মান ভাল হওয়ায় অন্যান্য জেলা থেকেও এ হাসপাতালে আসছেন কিনডি রোগীরা। তবে প্রয়োজনীয় তুলনায় যন্ত্রপাতি ও জনবল না থাকায় কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। অপরদিকে হেপাটাইটিস বি পজেটিভ মেশিন না থাকায় রোগীদের অন্যত্র চলে যেতে হচ্ছে। কিনডি চিকিৎসায় পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও জনবল দেয়ার দাবী জানিয়েছেন রোগী ও সচেতনরা।

 

২০১২ সালের আগষ্টে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম জননেতা আব্দুল জলিল এর নিজস্ব উদ্যোগে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সৌজনে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঁচ শয্যা বিশিষ্ট ‘আব্দুল জলিল হেমো ডায়ালাইসিস সেন্টার’ চালু করা হয়। চালুর পর থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ৮ হাজার ৪২১জন রোগী সেবা নিয়েছেন।

 

সূচরিতা দেবনাথ। বাড়ি বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের দৈনিক বাজারে। তিনি নওগাঁ সরকারি কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন। গত দুই বছর আগে কোমরে ব্যাথা অনুভব করেন। এরপর ডাক্তারের পরামর্শে গ্যাসের ও ব্যাথার ট্যাবলেট খেতে থাকেন। কিন্তু কোন উপশম না হওয়ায় শরীর ও পা ফুলতে থাকে। এরপর ভারতে গিয়ে ধরা পড়ে কিনডির সমস্যা। সেখানে ৩২ দিন চিকিৎসা শেষে ফিরে আসেন দেশে। এতে খরচ হয় প্রায় ৭ লাখ টাকা। এরপর সপ্তাহে দুইবার নওগাঁ আধুনিক সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টারে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাড়ির পাশে পার্শবর্তী জেলা নওগাঁ হওয়ায় যাতায়াতে ভোগান্তীর হাত থেকে যেমন রক্ষা হচ্ছে, তেমনি ভাল চিকিৎসা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন।

 

শুধু সূচরিতা নয়, নিজ জেলায় বাড়ির পাশে হাসপাতালে গত সাড়ে তিন বছর ধরে কিডনির চিকিৎসা নিচ্ছেন গৃহবধু আনজু বেগম। স্বল্পতার মাঝেও ভাল সেবা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন রোগীরা। আবার অনেক রোগীরা এসে ফিরে যাচ্ছেন চিকিৎসা না পেয়ে। তবে প্রয়োজনীয় তুলনায় যন্ত্রপাতি ও জনবল বাড়ানো দাবী জানিয়েছেন সচেতনরা। এখানে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসকসহ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে জেলার অনেক গরীব ও অসহায় রোগীরা বাড়ির পাশে কম খরচে কিনডি রোগের মান সম্মত চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ্য হয়ে বেঁচে থাকতো।

 

নওগাঁ আব্দুল জলিল হেমো ডায়ালাইসিস সেন্টারের তদারককারি হায়াত মাহুমদ বলেন বর্তমানে সেন্টারে ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত পাঁচটি ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে সেবা দেয়া হচ্ছে। তবে মেশিনের সংখ্যা কম হওয়ায় তালিকাভুক্ত রোগীদের সিরিয়াল অনুসারে ডেকে সেবা দেয়া হয়। মেশিনের সংখ্যার পাশাপাশি জনবল নিয়োগ দিলে সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে।

 

নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মুনির আলী আকন্দ বলেন জেলার ১১টি উপজেলা ছাড়াও পাশের বগুড়া, জয়পুরহাট জেলা থেকেও কিনডি রোগীরা এখান থেকে সেবা নিচ্ছেন। ডায়ালাইসিস সেন্টারে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের দিয়ে কিনডি রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ অন্য জেলা থেকে এসে সপ্তাহে একদিন করে রোগী দেখছেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, জনবল ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করলে এই সেন্টার থেকে কিডনী রোগীরা কম খরচে আধুনিক মানসম্মত চিকিৎসা পাবেন। এ সেবার মান আরো বৃদ্ধি করতে হেপাটাইটিস-বি পজেটিভ মেশিনসহ পর্যাপ্ত জনবলের খুবই প্রয়োজন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com