মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপুরে কলেজে এমপিও বিলে স্বাক্ষর নিতে কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

দুর্গাপুরে কলেজে এমপিও বিলে স্বাক্ষর নিতে কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের আলীপুর মডেল কলেজের শিক্ষক কর্মচারিদের মান্থলি পেমেন্ট ওর্ডারে (এমপিও) বেতন বিলে স্বাক্ষর নিতে সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রায় কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। কলেজের সভাপতি ও অধ্যক্ষের ঘোষনা, চাঁদার টাকা না দিলে কোন শিক্ষক-কর্মচারির বেতন বিলে স্বাক্ষর করবে না তারা। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে বিনা বেতনে চাকরি করা এসব শিক্ষক কর্মচারিরা চাঁদা টাকা জোগাড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

 

 

ইতিমধ্যেই টাকার জোগান দিতে অনেকেই জমি বিক্রি, বন্ধক ও এনজিও থেকে ঋণ আবার কেউ কেউ স্ত্রীর গহনা বিক্রি ধার-দেনা করে টাকা তুলে দিয়েছেন অধ্যক্ষ ও সভাপতির হাতে। এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে কলেজটির শিক্ষক-কর্মচারিদের মাঝে। ওই ঘটনা কয়েকদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে (ফেসবুকে) শিক্ষক কর্মচারিরা নাম গোপন করে সভাপতি ও অধ্যক্ষের চাঁদাবাজি রোধে প্রশাসনের সহায়তা কামণা করছেন।

 
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর আলীপুর মডেল কলেজটি ১৯৯৯ সালে তৎকালীণ বিএনপি সরকারে আমলে প্রতিষ্টিত হয়। প্রতিষ্টিার পর তৎকালীণ সাংসদ নাদিম মোস্তফা বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর ২০০৪সালে তৎকালীণ সাংসদ নাদিম মোস্তফার জোড় তদবিরে কলেজটি একাডেমিক স্বীকৃতি না পেলে এমপিও হয়। কলেজটি এমপিও হলেও একাডেমিক স্বীকৃতি না থাকায় আইনি জটিলতায় শিক্ষক-কর্মচারিরা বেতন উঠাতে পারছিলেন না। এর পর বিষয়টি আদালতে গড়ালে গত বছর উচ্চ আদালত থেকে এমপিও ভূক্তির দিন থেকেই শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন প্রদানের জন্য নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আপিল আবেদন করা হয়। তবে গত বছর পুনরায় আদালত রায় দেন শিক্ষক-কর্মচারিদের পক্ষে। এরপর মন্ত্রণাণলয় থেকে বেতন ছাড়ের জন্য শুরু হয় রশি টানাটানি।

 

 
অভিযোগ উঠেছে, মান্থলি পেমেন্ট ওর্ডারে (এমপিও) বেতন বিলে স্বাক্ষর নিতে প্রায় ৩৬জন শিক্ষক-কর্মচারিদের কাছে থেকে প্রায় কোটি টাকা চাঁদা উত্তোলন করেছেন কলেজটির তৎকালীণ বিএনপি’র নেতা অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। বর্তমানে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম কৌশলে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। কলেজটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সহযোগিতায় এই টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগিরা শিক্ষক-কর্মচারিরা। শিক্ষককের কাছে ৩লাখ ১৫হাজার টাকা, ডেমোনেট্রেটর ও লাইব্রেরিয়ান ২লাখ ৩০হাজার, অফিস সহকারি (করণিক) ১লাখ ৪৫হাজার, এমএলএসএস (পিয়ন) ১লাখ ১৫হাজার টাকা।

 

 
কলেজের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, বেতন পাই না প্রায় ২০ বছর ধরে। এখন আবার বেতন ছাড়ের নামে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও কলেজের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিজে তার ইউনিয়ন পরিষদে কলেজের স্টাফ কর্মচারিদের ডেকে চাঁদা নিধারণ করেন। আর এই টাকা যে দিবে তার বেতন বিলে স্বাক্ষর করবেন না বলে হুমকি দেন কলেজের সভাপতি ও অধ্যক্ষ। ফলে চাঁদার টাকা দিতে নিজের জমিসহ মূল্যবান জিনিসপত্রও বিক্রি করে দিতে হচ্ছে তাদের। এ নিয়ে আমরা শিক্ষক-কর্মচারিরা চরম বেকায়দায় আছি। মন্ত্রণালয়ে টাকা না দিলে নাকি বেতন ছাড় হবে না। তাই টাকা নিচ্ছেন অধ্যক্ষ ও সভাপতি।

 

 
কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলার জন্য শিক্ষক-কর্মচারিরা চাঁদা তুলে টাকা সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু বেতন ছাড়ের জন্য টাকা তোলা হয়নি। এটা মিথ্যা কথা। তবে এতো টাকা উঠানো হয়নি বলে জানান তিনি।

 
এ বিষয়ে জানতে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল বলেন, দীর্ঘ ১৫বছর ধরে কলেজটির এমপিও নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলে। মামলার খরচ বাবদ টাকা তোলা হচ্ছে শুনেছি। আমি কারো টাকা নেয়নি। বরং আমি নিজেই ওই মামলায় উচ্চ আদালতের যাওয়া আসার খরচ বহন করেছি। টাকা কারা নিয়েছে বলতে পারবো না বলে জানান তিনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2019. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com