শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন

খাদ্যে ভেজাল রোধ ও আমাদের যা করণীয়

খাদ্যে ভেজাল রোধ ও আমাদের যা করণীয়

সকল সুখের ও সৌন্দর্যের মূলে হচ্ছে সুস্বাস্থ্য। সুস্বাস্থ্য ছাড়া জীবনের সকল অর্জনই বৃথা। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ খাদ্য। যে খাদ্য দেহের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয় পূরণ ও রোগ প্রতিরোধ করে তাই স্বাস্থ্যসম্মত বা নিরাপদ খাদ্য। নিরাপদ খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় করে। তবে আশার কথা এই যে, ভেজাল খাদ্য রোধে সরকারের নির্দেশনায় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টায় এটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ভেজালের অভিযোগে অনেক পণ্যই সরিয়ে নেয়া হয়েছে বাজার থেকে। তবে সরকারের পাশাপাশি ভেজাল খাদ্য রোধে আমাদেরও রয়েছে কিছু করণীয়।

সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ২৫ লাখ ক্ষুদ্র বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়ী ও ১৮টি মন্ত্রণালয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া দেশে প্রায় ৪৮৬টি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের অধীন প্রায় ১২০টি আইন ও নীতিমালা রয়েছে। সর্বস্তরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যত আইন রয়েছে, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সেগুলো কার্যকর করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

৬৪টি জেলায় ও আটটি বিভাগীয় শহরে ৭৪টি নিরাপদ খাদ্য আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন মেনে চলার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী নানা সংগঠনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বিধিমালাগুলো প্রণয়নের কাজ অব্যাহত রেখেছে। নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন আবশ্যক। আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চাষাবাদের জন্য কৃষককে আগ্রহী করতে হবে। এ ছাড়া এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ ও সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। সচেতনতার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে।

এক গবেষণা সূত্রে জানা যায়, আমাদের শরীরে ৩৩ শতাংশ রোগ হওয়ার পেছনে রয়েছে ভেজাল খাদ্য। পাঁচ বছরের নিচে শিশুর ৪০ ভাগ রোগ হয় দূষিত খাদ্য থেকে। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে খাবার টেবিলে আসা পর্যন্ত নানা পর্যায়ে দূষিত হয়। এর মূল কারণ অসচেতনতা।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমাদেরকে নিম্নোক্ত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবেঃ

১। কৃষকদেরকে স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক চাষাবাদ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সচেতন করতে হবে।
২। যথাযথ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ছাড়া ফসলে কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৩। খাদ্যের মান অক্ষুন্ন রাখতে সরবরাহকারীকে কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।
৪। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৫। খাদ্যে ভেজালকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৬। নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে সর্বস্তরে সচেতনতা তৈরী করতে হবে।
৭। খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিক্রয় ও ভোক্তার খাদ্য গ্রহণ প্রতিটি স্তরে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৮। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
৯। নিরাপদ খাদ্য ও এ সংক্রান্ত বিষয়াদি পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
১০। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে।

নিরাপদ খাদ্য যেমন সবার জন্য প্রয়োজন, তেমনি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সকলকে সচেতনতার সাথে স্বীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য পণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বিপণন প্রতিটি পর্যায়ে সচেতনতা প্রয়োজন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com