শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:০০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহী নগরীতে মাদক সম্রাজ্ঞী শেফালী আটক রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী (ভিডিওতে দেখুন) সকল দেশের জন্য করোনা ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে: ভাষণে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী স্বামীকে রক্ত দেওয়ার আশ্বাসে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২ অ্যামি কনিকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে মনোনয়ন দিচ্ছেন ট্রাম্প জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী চাকরিচ্যুত হচ্ছেন মাদকাসক্ত ২৬ পুলিশ সদস্য এবার রামেক হাসপাতালের আনসার সদস্যরা বেধড়ক পেটালো রোগীর স্বজনকে শিবগঞ্জের প্রতিবন্ধীর স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার বিচার চেয়ে মানববন্ধন স্মার্ট লাইসেন্স সিস্টেমের আওতায় এলো রাজশাহী

বৃষ্টির অভাবে গাইবান্ধায় ফেটে চৌ-চির আমন ক্ষেত

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
বৃষ্টির অভাবে গাইবান্ধায় ফেটে চৌ-চির আমন ক্ষেত

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ চলতি বছরের ভয়াবহ বন্যার ধবল কাটিয়ে চরা দামে আমনের বীজ সংগ্রহ করে জমিতে রোপন করেও স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না গাইবান্ধার আমন চাষীরা। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না থাকায় ইঞ্জিলচালিত শ্যালোমেশিন ও বৈদ্যুতিক পাম্প দিয়ে প্রতি ঘন্টা ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় ফসলে পানি দিতে হচ্ছে । উৎপাদন খরচ শেষে ধান বিক্রি করে বিঘা প্রতি কি পরিমান লোসকান গুনতে হবে। একেই তো ধানের দাম কম, তার পরে আবার রোদের তীব্রতায় আমন ক্ষেতসহ মাঠ-ঘাট ফেটে চৌ-চির।

 

 

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের সোনাই ডাংগা গ্রামের কৃষক ওয়াহেদুল ইসলাম। ধার দেনা করে চরা দামে ৫ বিঘা বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করে মহাবিপদে পরেছেন। তিনি ধারনা করেছিলেন যে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হবে বৃষ্টির পানিতেই আমনের আবাদ হবে কিন্তু সেই ধারনা কাজে লাগেনি। টানা ১ মাসেও এ উপজেলায় তেমন কোন বৃষ্টি হয় নি ফলে ১০০ টাকা ঘন্টা হিসাবে পানি সেচ দিয়ে আমনের আবাদ করতে হচ্ছে। ওই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, চরা দামে আমন ধানের চারা কিনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ঘন্টা পানি সেচ দিয়ে যে পরিমান ধান হবে তা বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলা সম্ভব না।

 

 

তাই ৩ বিঘা পরিত্যক্ত রেখেছেন আমনের চাষ করেননি। এই ইউনিয়নের তালুক সোনাইডাংগা গ্রামের কৃষক মাহবুবুর রহমান জানান, পানির অভাবে বৃষ্টির পানে চেয়ে থেকে জমি ফেটে চৌচির অবস্থা। তাই ৭০ টাকা লিটার ডিজেল কিনে ইঞ্জিলচালিত শ্যালোমেশিন দিয়ে সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে। সাঘাটা উপজেলার তেলিয়ান গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, চার মণ ধান বিক্রি করে ১ পোন আমন ধানের চারা কিনে জমিতে রোপন করে কি লাভ হলো। ধার দেনা করে কৃষাণ, সার, কৃটনাশক ঔষধ দিয়ে এখন প্রতিদিন সকাল বিকাল দেড় থেকে ২ ঘন্টা জমিতে পানি দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তার মতো শত শত কৃষক এবছর আমনের আবাদ করে প্রকৃতির বিরুপ আচরনে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে।

 

 
একই চিত্র গাইবান্ধা জেলার ৭ উপজেলার হাজার হাজার কৃষকের। পলাশবাড়ীর হরিনাবাড়ী এলাকা ঘুড়ে দেখা যায় সেখানকার কৃষক বন্যার পানি শুকে গেলেও এখনো আমনের চাষ করেন নি পানির অভাবে । এছাড়ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কৃষকরা চরা দামে আমনের চারা কিনে আবাদ করে প্রতি ঘন্টা ১০০ টাকা হিসাবে সেচ দিয়ে সঙ্কায় আছেন। কারন টানা বৃষ্টিতে আগামীতে বন্যার সম্ভাবনায়র কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই বন্যার সঙ্কায় কৃষকরা মনোযোগ দিয়ে নি¤œাঞ্চলের জমি গুলোতে বেশী খরচে সেচ দিতে আমনের চাষ করার সাহস পাচ্ছেন না।

 

 
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসরণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ফেরদৌস জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় গাইবান্ধা জেলায় মোট ৭ হাজার ৫শ ২০ হেক্টর জমির আমন ধানের ক্ষেত সম্পুর্ন নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতি লাঘব করতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদেও মাঝে বিনামুল্যে আমনের বীজ দেয়া হচ্ছে। এব ছর ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৬৭ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষমাত্র নির্ধারন করা হলেও বন্যার কারনে লক্ষমাত্র পুরন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কৃষকদের আগ্রহ থাকার ফলে আমরা আশাবাদী আমন চাষের লক্ষ মাত্র পুরন করতে পারবো। আবহাওয়া বিষয়ে বগুড়া আঞ্চলিক আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসাইনের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলে তিনি জাগো নিউজকে জানান, বঙ্গপোসাগরে লঘুচাপের ফলে বগুড়া, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গাইবান্ধাতেও যে কোন সময় বৃষ্টিপাত হতে পারে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
2627282930  
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com