শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

রাজশাহী ওয়াসায় খাতা কলমে থাকলেও মালামাল নেই স্টোরে

রাজশাহী ওয়াসায় খাতা কলমে থাকলেও মালামাল নেই স্টোরে

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাতা কলমে থাকলেও নেই স্টোরে। স্টোরকে ঘিরে প্রহরী ও সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তাহলে মালামাল গেলো কোথায়? আর চুরিই বা হলো কিভাবে। এই চুরির দায়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের। যদিও এক দফা অভিযুক্তদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে থানা পুলিশ। পরে এই বিষয়টি ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের গত নয় সেপ্টেম্বর রাজশাহী পানি সরবারহ ও পয়ঃনিস্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) স্টোরের গোডাউনের টিন কেটে ৩৬ কয়েল বৈদ্যুতিক তার, ৩০টি এনার্জি বাল্ব চুরি হয়।

এর প্রেক্ষিতে দফতরটির সিকিউরিটি গার্ড, স্টোর কিপার ও ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগ মিলে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। পরে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ কর্তৃপক্ষ অভিযোগের ভিত্তিতে ১১জন কর্মচারীর জবাবনন্দি গ্রহণ করে। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে দফতরটির সিসি ক্যামেরার ফুটেজও দেখা হয়।

বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানউল্লাহ বলেন, ওই দফতটির সিকিউরিটি গার্ড থাকার পরেও ছোট একটি রুম থেকে মালামাল চুরি হয়েছে। চুরিটি রহস্যজনক। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অভিযুক্তরা হলেন, ইলেক্ট্রিক বিভাগের এরমান আলী, জহুরুল ইসলাম, জয়নাল, জুলফিকার, আমিনুল ইসলাম, আাবদুর রাজ্জাক ও ইফতেখার। আর সিকিউরিটি গার্ড সেলিম। আনসার সদস্য কুদ্দুস ও সেলিম।

এই ঘটনার জেরে গত বৃহস্পতিবার ১০ জনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে মামলা করে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই মামলায় ১১ জনের মধ্যে ইলেক্টিক ইঞ্জিনিয়ার জাফর ইমামকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু জবানবন্দির সময় জাফর ইমামও ছিলো।

ওয়াসার সহকারী স্টোর কিপার ইফতেখার বলেন, ‘মালগুলো গুনে (বুঝে) নেওয়া হয়। পরে আর মালগুলো পাওয়া যাচ্ছে না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মচারী বলেন, গার্ড ও সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তার পরেও চুরি হয়েছে। ঘটনার পরে অভিযুক্তদের পুলিশ তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এই স্টোরের মালামালের দায়িত্বে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার পারভেজ, সোহেল রানা ডন ও জাফর ইমাম।

এদের সহকারী হিসেবে কাজ করেন, আবদুর রাজ্জাক ও ইফতেখার। ঘটনার পরে জাফর ইমামসহ ১১জনের জবানবন্দিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু পরে মামলায় জাফর ইমামকে বাদ দিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশরাফ আলী জানায়, ‘এই বিষয়টি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে জানানো হয়েছে। তার সঙ্গে ওয়াসার এমডির কথা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা বসতে চেয়েছেন।’

রাজশাহী পানি সরবারহ ও পয়ঃনিস্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) এমডি সুলতান আবদুল হামিদ বলেন, ‘এই বিষয়ে মামলা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com