মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০২:১২ অপরাহ্ন

গাইবান্ধায় ১২টি স্কুল নদীতে বিলীন হওয়ায় গাছ তলায় পাঠদান

গাইবান্ধায় ১২টি স্কুল নদীতে বিলীন হওয়ায় গাছ তলায় পাঠদান

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ এবারের বন্যায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ৫টিসহ জেলার তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র নদীতে বিলীন হয়েছে ১২টি স্কুল। বন্যার পানি নেমে গেলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান শুরু করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এতে করে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে কোমলমতি এসব ছাত্রছাত্রীদের। ফলে চলতি বছর ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষকরা। আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছি বরাদ্দ পেলে স্কুলের কক্ষ তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হবে।
এবারের দুই দফা বন্যায় ফুলছড়ি, সাঘাটা, সদর, সুন্দরগঞ্জ উপজেলাসহ অন্যান্য এলাকার ২২০টি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। তবে পানি নেমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ২০৮টিতে ক্লাস শুরু হয়। আর ফুলছড়ির হারোডাঙ্গা, ধলিপাটাধোয়া, কেতকিরহাট, জামিরা, আঙ্গারীদহ, গাইবান্ধা সদরের চিথুলিয়ার চর, চিথুলিয়া দিগর নতুন পাড়া, বাজে চিথুলিয়া, মৌলভীর চর, কেবলাগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জের উজানবুড়াইল, চরপূর্ব লাল চামার সরকারি প্রাথমিক স্কুলসহ বাকি ১২টি স্কুল বন্যার সময় তীব্র নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

 
জানা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংলগ্ন কেতকির হাট সরকারি প্রাথমিক স্কুলের দৃষ্টিনন্দন দ্বিতল ভবনের কোনো অস্তিত্ব নেই। সেখানে ভাঙনের চিহ্ন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে দুই-তিনটি পিলার। অথচ বন্যার কয়েক দিন আগেই স্কুলটির ছাত্রছাত্রীরা নতুন দ্বিতল ভবনে শিক্ষকদের কাছে পাঠগ্রহণ করত। পাশের একতলা পুরনো ভবনটিতেও ছিল তাদের ক্লাসরুম।

 

প্রশস্ত আঙিনায় ছিল খেলার সুযোগ। পাশেই ছিল কেতকিরহাট বাজার। সবেই পাওয়া যেত সে বাজারে। কিন্তু ভাঙনের তোড়ে ভবন দুটিসহ প্রায় শতাধিক দোকানপাট, বাড়িঘর মুর্হুতের মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে হারিয়ে যায়। স্কুলের আসবাবপত্র, বেঞ্চ, টেবিলসহ সব জিনিস ডুবে যায়। হারিয়ে যাওয়া স্কুল ভবনের পাশে গাছতলা ও ছাপরাঘরে বসে তারা এখন হতাশ চোখে ক্লাস করছে। পাঠ নিতে গিয়ে তাদের শুধুই মন খারাপ হয়।
কেতকিরহাট সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সহকারি শিক্ষক মো: মতিয়ার রহমান বলেন, ভাঙনের তোড়ে ভবনগুলোর সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে হারিয়ে গেছে তাদের আসবাব, বেঞ্চ, টেবিলসহ সব জিনিসপত্র। হারিয়ে যাওয়া স্কুল ভবনের পাশে গাছতলা ও ছাপরাঘর তুলে সেখানে পাঠদান করান হচ্ছে। কারণ সমানে সমাপনী পরীক্ষা।
কেতকিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক মোছা: লিমা খাতুন জানান, এ স্কুলে ৩২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

 

তাদের সামলাতে আমরা হিমশীম খাচ্ছি। ক্লাসরুম থাকলে এ ঝামেলা পোহাতে হতো না। খোলা জায়গায় ক্লাস নিতে গিয়ে তাঁদের নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু শ্রেণিসহ ছয়টি ক্লাস নিতে গিয়ে কোলাহলপূর্ণ খোলা জায়গায় মনসংযোগ হারিয়ে ফেলেন শিক্ষকরা। রোদ-বৃষ্টিতে সংকট বাড়ে।
কেতকির হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোছা: রেজিয়া খাতুন বলেন, ভেঙে যাওয়া স্কুলের পাশে তাঁরা নিজেরা একটি ছাপরা ঘর তুলেছেন। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মহোদয় টিন দিয়েছেন। সেখানে পাঠদান করা হচ্ছে। এদিকে স্কুল ভবন না থাকায় এবার চর এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সংখ্যা বাড়তে পারে।
এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হোসেন আলী জানান, নদীভাঙনে ১২টি স্কুল বিলীন হয়েছে। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জে ২টা ফুলছড়িতে ৫টা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৫টা। উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছি বরাদ্দ পেলে স্কুলের কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

©2014 - 2019. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com