মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন

দীপ্ত জীবন উপাখ্যানের একটি বৃহৎ আলেখ্য নজরুল ইসলাম তোফা

দীপ্ত জীবন উপাখ্যানের একটি বৃহৎ আলেখ্য নজরুল ইসলাম তোফা

নজরুল ইসলাম তোফা: ”ভোর হলো দোর খোল খুকু মনি উঠোরে” এভাবেই যেন ডেকে তাঁর বাবা খুব ভোরে কোলে নিয়ে আদর, সোহাগ করতেন। সে ডাকে নাকি ‘নজরুল ইসলাম তোফা’ সাড়া দিয়ে বাবার সাথে আধো আধো অস্পষ্ট কথায় যেন মগ্ন হয়ে থাকতেন। ছেলের ছোট্ট চোখে স্বপ্নও দেখতো তাঁর ‘বাবা’, তাকে ধরে রাখার তখন কোনো ক্যামেরা পান নি, ছোট্টবেলার সেই প্রতিটি মুহূর্ত ও প্রতিটি দিন, অতীতের বহু স্বপ্ন গুলো স্মৃতিরপটে তাকে ধরে রাখা বা না রাখাই যেন একেকটা ছবি বা চিত্র, মহামূল্যবান কাব্যতেই যেন রূপ নিত। তাঁর বুকের ভেতরের শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্রটাও যেন সারাপৃথিবীর সর্বোচ্চ বড় গুদাম, তাই তো সেখানে সুরকে বেঁধে রাখা কোনো এক পণ্যের বস্তার মতোই যে।

 

 

আরো তো আছে ছেলে বেলার সেই সু-মধুর সময় নিয়ে কথা। তাঁর বাবার প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর অনেক ভক্ত ছিলেন, তাই তাঁর নামও হয়ে গেল নজরুল ইসলাম তোফা। কাজী নজরুলের-তোফা না কি তিনিই। সেই জাতীয় কবি-নজরুলের রেখে যাওয়া এমন তোফা কিংবা উপহারই যেন তিনি। তাঁর বাবার এ ধারণা নিয়েই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও মঙ্গল কামনা করতেন। তাঁর চোখে মুখে শৈশব থেকেই দেখতে পেলেন যেন শিল্প সংস্কৃতির ছোঁয়া। তিনি দিনেদিনে বড় হচ্ছেন, বুঝতে বা জানতেও পারছেন বহুকিছু। তাঁর শুরু হয়ে যায় গাঁয়ের মেঠো পথ ধরে ভাবুক মনে একাকিত্বে হাঁটাহাঁটি।

 

 

অনেক সকালেই সূর্য-উদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে যেন পথে-ঘাটে পড়ে থাকা ”ময়লা কাগজ” পড়া শুরু করেন। পড়ে থাকা সেই ময়লা যুক্ত কাগজের ছড়া বা কবিতা পছন্দ হলেই যেন তা কাটিংকরে ঘরে এনে আবৃত্তির পাশাপাশি সেগুলোর ভাব ধারায় অনেক কবিতা ও ছড়া খেলা লেখি করতেন এবং নিজের সে লেখাগুলোতে মনের মাধুরী দিয়ে নানা ধরনের ইলাসট্রেশন, ক্যালিগ্রাফি করা আরম্ভ করতেন। তাছাড়াও বইয়ের মলাটে প্রচ্ছদ অংঙ্কন সহ ছড়া কিংবা কবিতা লিখে নিজস্ব প্রতিভার আলোয় মনের অজান্তে ছুটে চলতেন। এইগুলো দেখে তাঁর বাবা আনন্দ পেতেন এবং তাঁর নিজের গ্রাম ‘পাঁজর ভাঙ্গা’ বাজার থেকে ক্রয় করে দিতেন কাজী নজরুল ইসলামের ছড়া ও কবিতার বই। সেই সময় বাবা মনে করেছিল, তরুণ জীবনে এমন শিল্প জ্ঞানহীন ছেলের প্রতিভার বিকাশ অমন্দ নয়, এক দিন তাকে শিল্পের মাস্টার তৈরি করবো। আজ তা সত্য হয়েই গেছে, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর চারুকলা বিভাগ থেকেই এমএফএ করেছেন। এখন তিনি কর্মরত আছেন কর্মরত রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয় অর্থাৎ চারুকলার এক জন মাস্টার বা চিত্রশিল্পী।

 

 

‘শুনেছো- ঠিকই শুনেছো। তাঁর কেনো সুনাম থাকবে না, কেন বলো? কতকাল ধরে কৃতিত্বের সঙ্গে এ কাজ করে আসছি’ শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নাটক সংগ্রহ’ গ্রন্থের ‘স্বর্গে কিছুক্ষণ’ নাটকের সংলাপ এটি। এমন এ সংলাপ তাঁর অনেক ভালো লাগে। তাই মাঝেমধ্যেই এমন গ্রন্থটি বের করে তিনি পড়েন। কথা গুলো তিনি এক নাগাড়েই যেন বললেন। গ্রন্থ-প্রেমী, নাট্যকার এবং নাট্যাভিনেতা- নজরুল ইসলাম তোফা বলা যায় যে, তিনি সরল মনের মানুষ। তাঁর অভিনয়ে অবাধ বিচরণ ছিল গাঁয়ের মেঠো পথ ধরে বহমান আত্রাই নদী’র তীর। নওগাঁ জেলার ১৩ নং কশব ইউনিয়নেই স্থায়ী ঠিকানা।

 

 

তাঁর পিতার হলেন, মোঃ কমর উদ্দীন শাহানা। তাঁর দ্বিতীয় সন্তান- নজরুল ইসলাম তোফা। তিনি পড়া শোনা করেন, গ্রামের স্কুলেই ৫ম শ্রেণী আর চকউলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এস এস সি’র পরপরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগে ভর্তি হন। তারপরে প্রচণ্ড স্বপ্নবাজ এমন গ্রন্থ-প্রেমী সাদা মনের মানুষটি নাট্যাঙ্গনের প্রতি মনোযোগী হয়েছেন। এ ভাবে দিনেদিনে নানা ধরনের নাটক নির্মাণ করার সহিত নানান নাটকের চরিত্রে অভিনয়ে মগ্ন থেকেছেন তিনি।

 

 

নজরুল ইসলাম তোফার জন্ম ০৫ জুলাই ১৯৭৫ সালে। তিনি এখন থাকেন রাজশাহীর বর্নালীর মোড়েই, হেতেম খাঁতেই অবস্থিত- “গ্রীন গার্ডেন টেকনিক্যাল এন্ড বি.এম কলেজের পার্শ্বে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর চারুকলা বিভাগ থেকে পড়া শোনা শেষ করে রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশিই অভিনয় করেন। গ্রন্থপ্রেমী নাট্যসমগ্র সংগ্রহে নেশা পূর্ণভাবে শুরু করেন। নান্দনিক দৃষ্টিতে ঘরে অসংখ্য পুস্তকের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন। বই গুলো শুধু সংস্কৃতিমনা মানুষদের ভালো লাগবে মনে করি। শুধু বই ক্রয় করে সেলফে রাখেননি, কাজের ফাঁকে ফাঁকে প্রতিদিনই যেন একটি হলেও নাট্য পান্ডু লিপি পড়েন। জানা গেল, তাঁর মনের ক্ষুধা অনেক বড়। সেই ক্ষুধা মেটানোর জন্য তিনি যখনই সুযোগ পান তখনই বই পড়েন। শৈশবে নজরুল ইসলাম তোফা স্কুল ও পূঁজা-পার্বণেও যাত্রা করেছেন।

 

 

তাঁর নিজ গ্রামে গ্রামে ঘুরে অভিনয় ও কৌতুক করে মানুষ হাঁসাতেন। সে যাত্রা কিংবা কৌতুক পরিবেশনের পাণ্ডু লিপি যেন তিনি কপি করতেন নিজ হাতে লিখে। আর তাঁর সঙ্গে যারা কৌতুক বা অভিনয় করতেন তাঁদের ‘প্রম্পট ও অভিনয়’ শিখিয়ে দিতেন। এইভাবেই তাঁকে বই পড়ার নেশাটি পেয়ে বসে। পরে ভিডিও নাটকে অভিনয় শুরু তাঁর। এইভাবেই বৃহৎ পরিসরে প্রতিশ্রুতিশীল ও প্রতিভাবান এই নাট্যাভিনেতা আলোচিত ব্যক্তি হয়ে উঠেন।

 

এলাকাজুড়ে সমালোচিত হতেও শুরু করেন, কারণটি হলো এই তাঁর নিজ গ্রামের বাড়ির পাশে আত্রাই নদীর পাড় এবং সেখানেই স্কুলমাঠ আর সে মাঠে বিরাট কড়ই গাছ। গাছের গোড়ায় বসেই ঘন্টা পর ঘন্টা উচ্চস্বরে ও হেলে দুলে অভিনয় চর্চা আর মাঝে মাঝে বিরতি নিয়েই ‘ক্রিয়েটিভ চিত্রকর্ম’ চর্চা করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বলা যায় যে, সবই ছিল তাঁর পাগলের মতো। তারই ফলশ্রুতিতে প্রায় চার হাজার মতোই নাট্য সমগ্র গ্রন্থ তাঁর সংগ্রহে রয়েছে। যে কারণেই কোনো প্রহসন নয়, অনুপ্রেরণার গল্পই বলা চলে।

 

কোনো দুর্লভ এবং ব্যতিক্রমধর্মী নাট্য সমগ্র পুস্তকসমূহ সংগ্রহের প্রয়োজন পড়ে, সবার আগেই তিনি মনে করে রাজশাহীর বুক পয়েন্টের মালিক চন্দন দার কথা। তিনি কলকাতা ও ঢাকা গিয়ে তাঁকে মনের খোরাক মেটানোর জন্য নাট্য সমগ্র এনে দিতেন। নিজস্ব বুদ্ধিদ্বীপ্ত চেতনায় বই পাগল নাট্যপ্রেমী মানুষ বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে নাটক করছেন এবং আগামীতেও দক্ষতার সহিত করে যাবেন। তাঁর নাট্য গুরু শিমুল সরকারের অবদান তিনি কখনোই অস্বীকার করতে পারেন না।

 

কারণ- তাঁর গুরু ‘অনুপ্রেরণা বা সুযোগ’ না দিলে জীবনের অনেক অর্জন অপূর্ণ থেকেই যেত। গ্রন্থ-প্রেমী ‘নজরুল ইসলাম তোফা’ নিজের শৈল্পিক চিন্তায় বইয়ের মলাট করে রাখেন তুলি কলম দিয়ে পূর্নাঙ্গভাবেই প্রচ্ছদ অংকন করে। শুধু তাই নয়, সেই গ্রন্থ গুলোকে ক্রমিক নম্বরের আওতায় এনেই তা ডায়রিতে ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী লিপিবন্ধ করেছেন।আর তিনি এমন রুচিশীল ব্যক্তি হবেনা কেন? তিনি তো চিত্রশিল্পী, চারুকলা কলেজের শিক্ষক।

 

তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে গ্রন্থ খুঁজে পেতে চমৎকার লেখাটি মনোযোগ আকর্ষণ করবে। নাট্যগ্রন্থ প্রেমী নজরুল ইসলাম তোফা দেশি-বিদেশের লেখকদের লেখা নাটকের সমগ্র সংগ্রহ করেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, উৎপল দত্ত, বাদল সরকার, বুদ্ধদেব দাশ গুপ্ত, বুদ্ধদেব বসু,শরবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, মনোজ মিত্র, অলোক রায়, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, শুম্ভ মিত্র, নভেন্দু সেন, চন্দন সেন, লোকনাথ ভট্টাচার্য, ধনঞ্জয় বৈরাগী, ব্রাত্যরাইসু, সেলিম আল দীন, আব্দুল্লাহ আল- মামুন, মান্নান হীরা, মামুনুর রশীদ,হুমায়ূন আহমেদ,মমতাজউদ্দীন আহমদ, রামেন্দ্র মজুমদার, আসাদুজ্জামান নূর, আলী যাকের,আহম্মেদ ছফা, আবুল হোসেন, সিকান্দার আবু জাফর, প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক সহ দেশি-বিদেশি খ্যাতিমান সব লেখকদের বাংলা ভাষায় লেখা নাটকের অনেক রুচিশীল নাটকসমগ্র। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া শোনা চলাকালীন থেকেই বহু ধরণের বই সংগ্রহের নেশায় মগ্ন ছিলেন। তাঁর সংগ্রহ শালাতে আজও রয়েছে ১ম শ্রেণী থেকেই আরম্ভ করে শিক্ষা জীবনের কেনা যত গুলি বই- সবগুলোই।

 

তবে তাঁর নাটকের সমগ্র সংগ্রহের নেশা তৈরি হয়েছিল- ১৯৯২ সালের দিকেই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগে ভর্তি হবার পরে। নাটকের গ্রন্থ সংগ্রহের বিষয়ে বলতে গিয়েই তিনি বলেছেন ২০১০ সালের দিকে আমি ধারাবাহিক ‘চোরকাব্য’ নাটকে কাজ করেছিলাম। তখন শ্যুটিং এর জন্যে ঢাকায় ছিলাম। সেইজন্য ‘টিভি নাটক সমগ্র’ গ্রন্থটি সংগ্রহ করার জন্যেই গিয়ে ছিলাম ঢাকার নীলক্ষেতে। আর সেখানে গিয়ে পড়তে হয় ভোগান্তিতে। আমার পরনের শার্টটি ছিঁড়ে যায় দ্রুত চলমান রিকশায় বেঁধে। সেই ছিঁড়া টিশার্ট পরেই মার্কেটের ভিতরে ঘুরতে থাকি। নতুন শার্ট কেনার জন্যে না, পছন্দের সেই গ্রন্থটি কেনার জন্যে। মনটা খারাপ হলেও টি-শার্ট কেনার জন্য কোনও আগ্রহ ছিল না।

 

 

কারণ হলো শার্টের চেয়ে গ্রন্থটি বেশি প্রয়োজন ছিল তখন। আবেগ জড়িত কন্ঠেই তিনি আরো বলেন, আর একটা বিষয় হলো সেসময় চাইলেই হয়তো টি-শার্ট কিনে নিতেই পারতাম, তবে শার্ট কিনলে গ্রন্থটি কেনার টাকা হতো না। ‘ঢাকা থেকে বাড়ি’ ফিরতে বই কেনা টাকা ব্যতিত পকেটে ছিলো মাত্র ৫ শত টাকা। যাক অনেক কথাই তাঁর স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠে, তাঁর বাবা হঠাৎ একদিন বলেই বসেছেন, এতো পুস্তক সংগ্রহ করছো কি হবে- এতো? উত্তরে তিনি বলেন, বই আমার অপূর্ণতাকে কাটিয়ে উঠার সহায়ক হচ্ছে, তা ছাড়া তুমি তো একদিন থাকবে না। তখন আমার ছেলেকে বলবো, আমার বাবা আমাকে এমন এ লাইব্রেরি করে দিয়েছে। তুমিও তোমার সন্তানদেরকে বলবে। আসলেই নজরুল ইসলাম তোফার বাবা সেইসময় কান্না জড়িত কন্ঠে তাঁর দিকে চেয়ে বলেন, তোমার চিন্তা-চেতনার জায়গা আমি বুঝি রে বাপ। তারপরে তাঁর বাবা বই সংগ্রহ নিয়ে কোন কথা বলেননি। এটি ছিলো তোফার পুস্তক সংগ্রহের বড় শক্তি।

গ্রন্থ সংগ্রহ করতে করতে বর্তমানে তার সংগ্রহে শুধুমাত্র নাটকের সমগ্র গ্রন্থ প্রায় ৪ হাজারের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ের গ্রন্থও প্রয়োজনের তাগিদে কিনে থাকেন। তাঁর সংগৃহীত বইয়ের মধ্যে যেন আছে বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান লেখককের শুধু বাংলা ভাষায় লেখা নাট্য সমগ্র বা অনুবাদ করা নাট্যগ্রন্থ। সেই গ্রন্থগুলো দিয়েই নিজের বাড়িতে তৈরি করেছেন একটা সংগ্রহশালা।

 

 

কেন তিনি এতো গুলো নাট্য সমগ্র সংগ্রহ করেছেন কিংবা এখনো তা সংগ্রহ করেই যাচ্ছেন এবং সেই গুলোকে সযত্নে সংরক্ষণ করেন জানতে চাইলেও নজরুল ইসলাম তোফা বলেছেন,- ‘’ছোট বেলা থেকেই নাটকে অভিনয় করি আর ‘নাটকের বই’ পড়ার দরকার পড়ে, সে চেতনা থেকেই নাটকের বই কিনি এবং পড়তে ভালোবাসি। স্কুলে পড়া কালে মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়েই শুরু হয় নাটক বা অভিনয় করা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পরেই নাট্যগুরু পরিচালক শিমুল সরকারের সঙ্গে থিয়েটারে যুক্ত হই। এই ভাবে নাটক করতে করতে এক সময় টিভি নাটকে কাজের সুযোগ আসে। সুতরাং- সেখানে গিয়ে কাজ করার সময়, নিজের ভিতরেই কিছু অপূর্ণতা আছে তা মনের মধ্যেই যেন জাগ্রত হওয়া শুরু করলো। অপূর্ণতাকে কাটিয়ে উঠতে, আর নাটক কিংবা অভিনয় সম্পর্কে আরো বেশি জ্ঞানার্জনের লক্ষ্যেই যেন বিভিন্ন খ্যাতিমান নাট্যকার ও লেখকদের লেখা নাট্যগ্রন্থ সংগ্রহ করে পড়তে শুরু করি। এভাবেই আমার সংগ্রহে জমা হতে থাকে একের পর এক নাট্যগ্রন্থ।

 

 

পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষের জীবন ভাবনা থাকে আর থাকে স্বপ্ন। কিছু মানুষ আছে যাদের মধ্যে স্বপ্নের জগৎ অনেক বড়। নজরুল ইসলাম তোফাও যেন সে ভবিষ্যত স্বপ্ন পরিকল্পনায় স্বপ্ন বাজদের দলেই। তিনি পথ নাটক, মঞ্চ নাটক এবং টেলিভিশনে শতাধিক নাটকে অভিনয় করে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তারমধ্যেই যেন টিভিতে তাঁর প্রচারিত নাটক- প্রায় তিরিশটার মতো। বর্তমানে একটি টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। নাট্যকার ও পরিচালক শিমুল সরকারের সেই টেলিফিল্মের নাম- “গুপ্তধন এবং একজন বৃদ্ধ”।

 

 

অভিনয়ের পাশাপাশি কয়েকটি নাটকও লিখেছেন। আগামীতেই একটি স্ক্রিপ্ট পরিচালক শিমুল সরকার পছন্দ করেছেন। সুতরাং- নাট্যগ্রন্থ সংগ্রহ তাঁর দিনে দিনেই কাজে দিচ্ছে। এই নাট্যগ্রন্হ নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করার পরিকল্পনা আছে কিনা তা জানতে চাইলেও তিনি বলেন, ‘এসব কাগজের গ্রন্থ তো বেশি দিন অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করা সম্ভব না। সেই জন্যে এসব দেশ বিদেশের ‘মূল্যবান গ্রন্থ গুলো’ অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করার জন্য ই-বুকে রুপান্তরিত করে একটি ‘ই-লাইব্রেরি বা অনলাইন আর্কাইভ’ তৈরির পরিকল্পনা আছে। যাতে সযত্নে নিজের সংগ্রহে রাখার পাশাপাশি গ্রন্থগুলো দ্বারা অন্যদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে সহায়তাও করতে পারেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
25262728293031
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com