সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:০০ অপরাহ্ন

আমতলীতে দীর্ঘ ২৮বছর দেওয়ানী আদালত না থাকায় দু ’উপজেলার বিচার প্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার

এম.ইসহাক বাচ্চু, আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা :আমতলীতে দীর্ঘ ২৮ বছর দেওয়ানী আদালত না থাকায় বরগুনার আমতলী-তালতলী উপজেলার ৫লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে শিকার হচ্ছে। তিন কিলোমিটার প্রস্থ পায়রা নদী (বুড়িশ্বর) পাড়ি দিয়ে মামলা-মোকদ্দমার জন্য বরগুনা সদরে অবস্থিত সহকারী জজ আদালতে যেতে হয়। ২০১২ সালে তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের পক্ষে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিলেও গত সাত বছরে তা আলোর মুখ দেখেনি।

জানাগেছে, ১৯৮২ সালে আমতলী-তালতলীকে নিয়ে আমতলী উপজেলা গঠন হওয়ার পর থেকেই আমতলীতে মুনসেফ আদালত স্থাপিত হয়। ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে কোনো কারণ ছাড়াই আমতলী মুনসেফ
আদালত প্রত্যাহার করে বরগুনা জেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন দু’উপজেলার কয়েক হাজার বিচারপ্রার্থী। মুনসেফ আদালত বরগুনায় সংযুক্ত হওয়ায় এক বছরের মাথায় পায়রা নদী ও রাখাইন অধ্যুষিত এলাকা বিবেচনা করে ফৌজদারি আদালত পুনঃরায় আমতলীতে ফিরিয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে বরগুনায় দেওয়ানী আদালতে আমতলী-তালতলী উপজেলার প্রায় দুই হাজার মামলা চলমান রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানাগেছে।

গত ২৩ এপ্রিল ২০১১ সাথে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের আইজীবীরা আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে আবেদন করেন। এ আবেদনের প্রক্ষিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয় স্বারক নং বিচার-৪/০৫/সিটি-১/২০১১-১২৬৫, তারিখ
২৬/১২/২০১১ ইং চিঠিতে জেলা ও দায়রা জজ, বরগুনাকে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। মন্ত্রনালয়ের উল্লেখিত চিঠির আলোকে তৎকালীন জেলা ও দায়েরা জজ মোঃ আখতার হোসেন আদালত ভবন, এজলাস কক্ষ, বিচারকের বসার কক্ষ, অফিসকার্য পরিচালনার প্রয়োজনীয় কক্ষ এবং বিচারকের থাকার বাসস্থান ইত্যাদি ভৌত অবকাঠামো পূর্বেই বিদ্যমান থাকায় আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের পক্ষে সুপারিশ করে আইন মন্তনালয় একটি প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন তৎকালীন সময়ে
১২৪৯টি দেওয়ানী, ১৮৮টি মিস, ৫৩টি পারিবারিক ও ৭৩টি জারী মোকদ্দমাসহ সর্বমোট ১৫৬৮টি মোকদ্দমা বিচারাধীন ছিল।
বর্তমানে মামলার সংখ্যা প্রায় ২ হাজারে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সাত বছরেও আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপন হয়নি।
আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের দাবীতে জাতীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভূ বলেন, আমতলী- তালতলীর অসহায় দরিদ্র জনগনের পক্ষে জেলা সদরে আসিয়া মোকদ্দমা পরিচালনা করা যেমনি ব্যয়বহুল তেমনি কষ্টকর। অত্র এলাকার প্রায় ২০ হাজার রাখাইন থাকায় তাহাদের কৃস্টিকালচারের নিজস্ব ভূখন্ডের বাহিরে
জেলা সদরে গিয়ে মামলা চালানো প্রায় অসম্ভব। এ কারনে আমতলীতে অতি দ্রæত দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপন দরকার।

তালতলী উপজেলার বাসিন্দা, জজ কোর্টের সাবেক পিপি ও বরগুনা জেলা বারের সাবেক সভাপতি এ্যাড. আব্দুল মজিদ তালুকদার জানান, বরগুনা সহকারী জজ আদালতে (আমতলী) এখন প্রায় ২হাজার মামলা বিচারাধীন। উপকূলীয় এলাকা থেকে ভয়াল পায়রা নদী পার হয়ে ঝড়-বন্যা উপেক্ষা করে বরগুনা এসে মামলা পরিচালনা এবং স্বাক্ষী দিয়ে প্রমান করা খুবই দুরূহ ব্যাপার। তাই আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপন এখন সময়ের দাবি।আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী ও সংবাদকর্মী এম, ইসহাক বাচ্চু বলেন, ২৮
বছর পূর্বে আমতলী উপজেলা থেকে দেওয়ানী আদালত বরগুনা জেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত করায় বিচার প্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

বরগুনা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাড. এমএ কাদের মিয়া জানান, মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দেয়া হয়েছে।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আমতলীর কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট গাজী শাহআলম মুঠোফোনে দৈনিক কালের কন্ঠকে বলেন, বরগুনার আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপন একান্ত দরকার। আমতলী- তালতলী উপজেলার মানুষের দূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপন করা একান্ত প্রয়োজন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2019. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com