বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

ছাত্র রাজনীতি থাকা না থাকা বিতর্কের বিষয়!

এ কে সরকার শাওন : ছাত্র রাজনীতি থাকা না থাকা বিতর্কের বিষয়! এ বিষয়ে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতামত থাকতেই পারে। অনেকে বলে থাকবেন ছাত্র সংগঠনগুলি রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়ভিত্তিক কর্মকাণ্ড না করলেই হলো। দ্বিতীয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শক্তিশালী হলেই হলো! আমি একমত! কিন্তু ঐ দু’টির একটিও হচ্ছে না। হবার কোন লক্ষণ ও দেখছি না।
অর্ধ শতাব্দী কিন্তু পার হয়ে গেল।

সেই মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ফ্রন্ট (NSF) থেকে ছাত্রলীগ, ছাত্র সমাজ, ছাত্রদল। সবার একই চরিত্র। তফাৎ ১৮/২০. ক্ষমতায় থাকলে আমীর আর বিরোধী দলে থাকলে ফকির। এন এস এফ এর মাস্তান নেতা পাসু পাতুরা নাকি ক্যাম্পাসে সাপ নিয়ে ঘুরতো। এখনকার মাস্তানরা মারণাস্ত্র নিয়ে ঘোরে। রুমে টর্চার সেল বসায়। ঐ সময়ে ছাত্রগুন্ডরা কিন্তু শিক্ষকদের যতেষ্ট সম্মান সমীহ করতো। শিক্ষকদের যতেষ্ট ভয়ও পেতো। আর এখন মাস্তান ছাত্র নেতার পিছনে থেকে অপরাধের যোগালি হয় শিক্ষক! একসাথে সিগারেট পানিও খায়। একবার এক শিক্ষক হলে গিয়েছিলেন একজন ছাত্রের তদন্ত করতে। গিয়ে জানলেন সেই ছাত্র মাস্তান বা সম্মানিত ক্যাডার। হাফপ্যান্ট পরিহিত সেই ক্যাডার সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে সম্রাটের মত বিরক্ত হয়ে বের হয়ে এলেন! কি অইছে আ? শিক্ষক আগ বাড়িয়ে ছালাম দিয়ে বললেন, ভাইজান, আপনি ভাল আছেন? প্রিয় পাঠক, বুঝতে পারছেন কেমন তদন্ত হবে?৫০ বছরের অর্জন এই পর্যন্ত। তারপরও ছাত্র রাজনীতির পক্ষে নিম্নোক্ত ব্যাক্তিরা কথা বলবেন…
১. যাদের সন্তানেরা বিদেশে পড়াশুনা করে
২. যাদের সন্তানদের হলে থাকার প্রয়োজন নেই।
৩. যারা ক্ষমতায় যাবেন বলে আশা/দুরাশা করেন। কারণ তখন ছাত্রদের পেটোয়া বাহিনী হিসাবে ব্যাবহার করতে পারবেন। নৈশ ভোট বা ভোট জালিয়াতি করতে ব্যবহার করা যাবে।
৪. যারা ১৯৭৫ এর আগে হলে থেকেছেন। কারণ তখন ডাকসু’তে এবং ছাত্র সংগঠনের লিডিংয়ে ছিল আদর্শবান ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন । ছাত্রলীগ ও আজকের মত বিতর্কিত ছিল না! জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রদেরকে ছাত্রদের খুশীমত চলতে সাহায্য এবং অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন। তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ (শহীদ শেখ কামাল সহ) ডাকসু ভিপি জনাব মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে শ্রদ্ধা ও স্নেহের সম্পর্ক ছিল। আজকের ডাকসুর ভিপিকে কতবার হেনস্তা করা হলো! ১৯৭৫ এর ১৪ আগষ্ট রাতেও মরহুম শেখ কামাল সেলিম ভাইয়ের সাথে কাজ করেছেন!
৫. হল নিয়ে যাদের হলের তিক্ত অভিজ্ঞতা নেই।
৬. হলে অবস্থান সম্পর্কে যাদের কোন ধারনা নেই!
৭. হেভীওয়েট অভিভাবক
৮. যেসব অভিভাবক নিজেই মাস্তান। এবং
৯. ক্ষমতাসীন লোক এবং যারা ক্ষমতার স্বাদ এখনও ভুলতে পারেননি!

এ ছাড়া বেশীরভাগ গরীব, দুঃখী, আসহায়, ক্ষেত, চাষা, শ্রমিক ইত্যাদি সবাই চাইবেন জাতি ছাত্র রাজনীতির অভিশাপ থেকে মুক্তি পাক! সরকার এ বিষয়টি নিয়ে রেফারেন্ডম( হ্যাঁ/ না ভোট) দিয়ে দেখতে পারেন!

অনেকে বলবেন ছাত্র রাজনীতি না থাকলে ছাত্ররা ঐক্যবদ্ধ হবে কিভাবে? তাদের অবগতির জন্য বলবো বুয়েটের বর্তমান চলমান আন্দলোন, গত বছর ছাত্র আন্দোলন, গণজাগরণ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্বে কোন লিডিং বা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছিল না। সময়ের প্রয়োজনে সাধারন ছাত্রগণ এক হয়ে ঘুরে দাড়ায়। সাধারন ছাত্রগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে না। দরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শক্তিশালী স্বায়ত্বশাসন এবং ভিসি হিসাবে আদর্শবান শিক্ষক।

এ কে সরকার শাওন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

©2014 - 2019. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com