বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

নাচোলে এক প্রধান শিক্ষকের ক্ষমতার দাপট!

নাচোলে এক প্রধান শিক্ষকের ক্ষমতার দাপট!

একেএম.জিলানী, নাচোল:  চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে এক প্রধান শিক্ষকের ক্ষমতার দাপট চরমে! জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিকে অফিসে না টাঙিয়ে অবমাননা করে মেঝেতে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ক্ষমতার দাপটে বিদ্যালয়ের গাছ কাটা, স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না দেয়া, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ছুটিপুর আদিবাসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমি মোস্তারীর বিরুদ্ধে।

 
পিইসি পরীক্ষা বঞ্চিত শিক্ষার্থীর পিতা ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতির পৃথক অভিযোগপত্রে জানাগেছে, উপজেলার কসবা ইউনিয়নের ছুটিপুর আদিবাসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমি মোস্তারী দীর্ঘ ৩ বছর যাবত কর্মরত আছেন। ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর সকল অনিয়ম যেন তার নিকট নিয়মে পরিনত হয়েছে।

 

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীর কোলে প্রধান শিক্ষকের সন্তান আগলে রাখার কাজে ব্যস্ত থাকায় ২০১৯ সালের পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেনা আব্দুল আদেল নামের এক ৫ম শ্রেনীতে ১৪নং রোলনম্বরধারী শিক্ষার্থী। আদেল ২০১৯ সালের পিইসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারছেনা জেনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে।

 

 

 

সে সব্দলপুর গ্রামের কৃষক মোতাকাব্বেরের ছেলে। সে জানায়, প্রধান শিক্ষক রুমি মোস্তারী তার জমজ সন্তান নিয়ে স্কুলে আসলে এক বছরের ২ ছেলে সন্তানকে কোলে চাপিয়ে দেয় আদেলের কাছে। যা শিশু শ্রমের সামিল বলে সচেতন মহল মনে করেন। স্কুলে লেখাপড়া বাদ দিয়ে প্রধান শিক্ষকের আদেশ মেনে ২টি শিশু সন্তানকে নিয়ে ৫ম শ্রেনীর ওই শিক্ষার্থী দিনভর আগলে রাখে। স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের সন্তান লালন পালন করা নিয়ে আদেলকে জিজ্ঞেস করাহলে সে বলে প্রধান শিক্ষক আমাকে পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দিবেন বলে জানিয়েছেন।

 

 

 
প্রধান শিক্ষক ৫ম শ্রেনীর টেষ্ট পরীক্ষায় ১টি পরীক্ষা দিয়ে আর বাকী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি আদেলকে। আদেলের পিতা মোতাকাব্বের জানান ২০১৯ সালের পরীক্ষা দিতে পারবেনা আদেল এটা সে ভাবতেই পাছেনা, তিনি জানেন না যে, শেষ পর্যন্ত পিইসি পরীক্ষায় আদেলের নাম ডি আর ভুক্ত করা হয়নি। তাই তিনি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার রোখছানা আনিছা অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 
এদিকে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি(এসএমএস)’র সভাপতি সুকচান বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষকের ক্ষমতার অপব্যবহার, মনগড়া ভাবে রেজুলেশন বহি তৈরী ও রেজুলেশন বহি ছেড়াসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ দায়ের করেন প্রধান শিক্ষক রুমি মোস্তারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন, রুমি মোস্তারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে নিজের ইচ্ছায় বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ১২টি গাছ কেটে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি নিজের ইচ্ছায় তড়িঘটি করে গাছের ডাল পালা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিকট ৩ হাজার টাকায় বিক্রীও করেছেন।

 

 
সুকচান চন্দ্র সরকার আরো বলেন, বিদ্যালয়টি আমাদের নিজ হাতে গড়া । তাই বিদ্যালয়টির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সহকারি শিক্ষা অফিসার মোত্তালিব এর উপর দায়িত্বভার অর্পন করা হলে তিনি ওই শিক্ষকের পক্ষে রিপোর্ট প্রদান করেন। তবে এ অভিযোগটি অস্বিকার করে সহকারি শিক্ষা অফিসার আব্দুল মোত্তালিব বলেন, কাউকে সন্তষ্ট নয় বরং ঘটনার সাথে যারা যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে।

 

 
২০১৮ সালের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ওই স্কুলের সহকারী এক শিক্ষকের বদলী হলেও বহাল তবিয়তে থেকে যান প্রধান অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা ধরনের অনিয়ম আর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন ওই শিক্ষক।জাতীর জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান ও মামনীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অফিসে না টাঙিয়ে মেঝেতে ফেলে রাখার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট। প্রধান শিক্ষক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে বিদ্যালয়ের ১২টি বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে ফেলেছেন।

 

 

গাছ গুলির ডাল পালা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রয় করেছেন বলে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সুকচান জানান। প্রধান শিক্ষক গত ২৫-৭-২০১৯ তারিখের প্রকৃত রেজুলেশনকে রদবদল করলেও ১৭/৮/২০১৯এর রেজুলেশনের কপি সম্পুর্ন ছিঁড়ে ফেলেছেন বলে জানাগেছে।

 

 
এ বিষয়ে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমি মোস্তারির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিদ্যালয় সম্পর্কে কোন ধরনের তথ্য দিতে অপারাগতা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার রোখছানা আনিছার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলে আদেল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পাবে তবে প্রধান শিক্ষকের যাবতীয় অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930   
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com