মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

নাচোলে ৬ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত: ছাত্রছাত্রীদের অবস্থান কর্মসূচি পালন

নাচোলে ৬ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত: ছাত্রছাত্রীদের অবস্থান কর্মসূচি পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাচোল: চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে এক প্রধানশিক্ষকের কারণে ৬ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত। ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষা দিতে বিড়ম্বনায় পড়েছে ওই শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহসপ্রতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা চত্বরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য শিক্ষার্থীদের আশ্বাস প্রদান করেছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগপত্রে জানাগেছে, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মাধবপুর স্কুল থেকে ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায় পাস করে ৬ শিক্ষার্থী। ৬জনের মধ্যে ৪জন ছাত্রী ২০১৮/’১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয় উপজেলার মসলিমপুর গার্লস একামেীতে ও ২জন ছাত্র ভর্তিহন পীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে।

 

মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রশংসাপত্র, প্রবেশপত্র, বিদ্যালয় পরিত্যাগের ছাড়পত্র, নিবন্ধনপত্র ও নম্বরপত্রের জন্য ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা বিগত ২বছর যাবত ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আতাউরের নিকট ধর্না দিয়েও শেষ পর্যন্ত কাগজপত্র পায়নি বলে উপজেলা নির্বহী অফিসার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেছেন। তারা আরো অভিযোগ করেন ২০২০সালের এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন করতে ওইসব কাগজপত্র না থাকায় ওই সব শিক্ষার্থীরা ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেনা। তাই বাধ্য হয়ে গত ১৬ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ওইসব কাগজপত্র সরবরাহের দাবিতে আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

 
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ওই ৬ শিক্ষার্থী কাগজপত্র পাওয়ার দাবিতে উপজেলা পরিষদের সামনে প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপি অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানার নিকট তাদের দাবী সম্পর্কে অবহিত করে স্মারক লিপি প্রদান করেছেন। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হলো, সিংরইল গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে লিজা খাতুন, একই গ্রামের জগদিস চন্দ্র বর্মনের মেয়ে তমা রানী, ও তহরুল ইসলামের মেয়ে তাসলিমা খাতুন, আমলাইন গ্রামের দুরুল হোদার মেয়ে রেহেনা খাতুন, টাকাহারা গ্রামের জাম বাবু রায় এর ছেলে সুবাস রায়, ও একই গ্রামের জয়দেব ঘোষের ছেলে প্রসেনজিৎ ঘোষ।

 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা জানান, ১৬ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের আবেদন পেয়েই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহের জন্য ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নিদের্শ দিয়েছেন। এবিষয়ে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ওই ৬ শিক্ষার্থী আমার স্কুলে লেখাপড়া করেছে। তারা তাদের কাগজপত্র আমার নিকট থেকে কোনদিন নিয়ে যায়নি। আমি ওই শিক্ষার্থীদের ২০২০ সালের এসএসসির নিবন্ধনের জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছি।

 
৬শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা অভিযোগে জানান, বিগত ২বছর ধরে হেড মাস্টার সাহেবের নিকট ঘুরেও ছেলেমেয়েদের কাগজপত্র পায়নি। এদিকে মুসলিমপুর গার্লস একাডেমীর প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও পীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুসলেহুদ্দীন জানান, তাঁরাও মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানকে ওই ছাত্রছাত্রীর কাগজপত্র চেয়ে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু উনি সময়মত কাগজপত্র সরবরাহ করেননি তাই ওই ৬ এসএসসি পরীক্ষার্থীর ২০২০সালে পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতান বলেন ছাত্রছাত্রীদের আবেদন পেয়ে ওই শিক্ষককে কাগজপত্র সরবরাহের জন্য নির্দেশ প্রদান কারা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে এব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
18192021222324
25262728293031
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com