বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে শঙ্কা বাড়াচ্ছে গবাদিপশুর “লাম্পি স্কিন” রোগ

নিউজ ডেস্ক : ‘লাম্পি স্কিন’ ডিজিস একটি মশা-মাছিবাহিত রোগ। মূলত মশার মাধ্যমেই রোগটি ছড়ায়। এখন পর্যন্ত রোগটির জন্য কোনো প্রতিষেধক ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। তাই আক্রান্ত গরু-মহিষ ভালো হতে অনেক বেশি সময় লাগছে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে মারাও যাচ্ছে। ফলে বাড়ির গরু-মহিষের শরীরে ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ এখন শঙ্কা বাড়াচ্ছে।

রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এ রোগ।

রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট জেলায় এ রোগের ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজশাহীর চারঘাট ও দুর্গাপুর উপজেলায় এ রোগের প্রদুর্ভাব বেশি। এছাড়া পাশের জেলা নওগাঁর সাপাহার, মান্দা, পোরশা উপজেলায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’।

এতে করে অনেক গবাদি পশুর মৃত্যুও হচ্ছে। এ পর্যন্ত রাজশাহীতে প্রায় ৬০ হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। ফলে এ রোগের আতঙ্ক ভর করেছে খামারিদের মধ্যে। যদিও আতঙ্কিত না হয়ে খামারিদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছি গ্রামের জামাল উদ্দিন জানান, রোগটি তাদের কাছে একেবারেই নতুন। প্রথমে গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুটি গুটি হয়ে ফুলে যায়। পরে গুটিগুলোতে ইনফেকশন হয়ে দগদগে ঘা সৃষ্টি হয়। এরপর ক্ষতস্থান থেকে চামড়া ও মাংস পচে যায়। শরীরে উচ্চমাত্রায় জ্বর ও ব্যথা থাকায় খাওয়া বন্ধ করে গরুগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ে। আক্রান্ত গরু দুর্বল হয়ে অনেক সময় মারাও যাচ্ছে। কোনো ভ্যাকসিন না থাকায় দেওয়া হয় সাধারণ চিকিৎসাই।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা ছাড়াও বাঘা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাগমারা ও মোহনপুর উপজেলায় এই রোগ ছড়িয়েছে। উপজেলাগুলোয় ‘লাম্পি স্কিন’ রোগে আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজারের বেশি গরু।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. নাজনিন নাহার বলেন, সাধারণত মশা-মাছি থেকে এ রোগ ছড়াচ্ছে বেশি। এর প্রতিষেধক ভ্যাকসিন না থাকায় খামারিদের সচেতন হতে হবে। সঠিক যত্ন ও খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘লাম্পি স্কিন’ রোগের ব্যাপারে তারা সতর্ক রয়েছেন। এ বছরই রাজশাহী অঞ্চলে নতুন করে এই রোগ দেখা দিয়েছে। এই রোগের কোনো ভ্যাকসিন না থাকায় সবার মনে শঙ্কা কাজ করছে। তবে আশার কথা হচ্ছে এ রোগে মৃত্যুহার খুবই কম। তবে অন্যান্য কারণে খামারের গরু-মহিষ দুর্বল হয়ে পড়লে মারা যেতে পারে।

ডা. হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, ‘লাম্পি স্কিন’ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। আক্রান্ত পশুর যত্ন ও খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আপাতত এছাড়া অন্য রোগটি প্রতিরোধের অন্য উপায় নেই। গরু-মহিষের শরীরে জ্বর বেশি থাকলে কেবল প্যারাসিটামল দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

©2014 - 2019. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com