সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০২:৩৯ অপরাহ্ন

বগুড়ায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ মাথা ন্যাড়া, ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

নিউজ ডেস্ক : বগুড়ায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ এবং পরে বিচারের নামে মা-সহ তার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়ার তারিক শুনানির পর এ আদেশ দেন।

চার্জশিট দাখিলের দু’বছর পর এই অভিযোগ গঠন করা হলো। একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে। আদালতের এপিপি আসলাম আঙ্গুর এসব তথ্য জানান।

অন্য অভিযুক্তরা হলেন—পৌর কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি, তুফান সরকারের স্ত্রী তাসমিন রহমান আশা, শাশুড়ি লাভলি রহমান রুমি, আত্মীয় আঞ্জুয়ারা বেগম, তুফানের ক্যাডার মেহেদী হাসান রূপম, সামিউল হক শিমুল, আতিকুর রহমান আতিক, মো. মুন্না, আলী আজম দিপু,এমারত আলম খান ওরফে জিতু মিয়া ও নাপিত জীবন রবি দাস যতীন। তুফানের শ্বশুর জামিলুর রহমান রুনুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই এসএসএস পাশ করা ওই কিশোরীকে (১৭) ভালো কলেজে ভর্তির কথা বলে বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর চামড়া গুদাম লেনের বাড়িতে নিয়ে যান তুফান। তাকে সেখানে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর কিশোরীকে জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়ানো হয়। ঘটনাটি তুফানের স্ত্রী আশা জানতে পারেন। তিনি স্বামীকে শাসন না করে ঘটনাটি নিয়ে তার বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির সঙ্গে পরামর্শ করেন। তারা ওই কিশোরী ও তার মাকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন।

পরে ২৮ জুলাই আশার নির্দেশে আসামি মুন্না, আতিক, দিপু, রুপম ও শিমুলের সহযোগিতায় মা ও মেয়েকে তুলে নিয়ে রুমকির বাদুরতলার বাড়িতে আনা হয়। এরপর মা ও মেয়েকে লোহার পাইপ দিয়ে মারপিট করা হয়। এছাড়া আশা ও রুমকির নির্দেশে ক্যাডাররা কিশোরীর পুনরায় শ্লীলতাহানি করে। নির্যাতনের পুরো দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। এতেও তাদের রাগ না কমলে নাপিত যতীনকে ডেকে এনে কিশোরী ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এরপর তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বগুড়া শহর ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি ঝুঁকি নিয়ে নির্যাতনের শিকার মা-মেয়েকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হলে শুধু বগুড়ায় নয়; সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। তুফানকে শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কার ও কাউন্সিলর রুমকিকে পৌরসভার কাউন্সিলর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মামলাটি তদন্ত শেষে সদর থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর (অপারেশন) ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১০ জনের বিরুদ্ধে ও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া সংক্রান্ত দণ্ডবিধি আইনে ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক চার্জশিট দাখিল করেন। একটি মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এবং অপরটি অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে একজনকে অব্যাহত দেওয়া হয়েছে। ১২ জনের মধ্যে শুরু থেকেই আসামি আঞ্জুয়ারা বেগম পলাতক রয়েছেন। ধর্ষণ মামলায় তুফান সরকার ও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া সংক্রান্ত দণ্ডবিধির মামলায় শিমুল জেলে রয়েছেন। শিমুল ৭ নভেম্বর জামিন চাইলে আদালত নামঞ্জুর করেন। অন্য ১০ জন জামিনে রয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
22232425262728
29      
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com