সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে“ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে কলেজছাত্রীকে বিএসটিআই কর্মকর্তার বিয়ে: সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে হুমকি”

নিজস্ব প্রতিবেদক  : রাজশাহীতে ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন বিএসটিআই’র পরিদর্শক মিুঠন কবিরাজ। এরআগে নাটোর টিএমএসএস টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের ইনচার্জ ছিলেন তিনি। মিঠুন কবিরাজ রাজশাহীর পবা থানাধীন নওহাটা বড় মসজিদ সংলগ্ন এলাকার শ্রী রতন কবিরাজের ছেলে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার বাড়ইপাড়া গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের মেয়ে সাবনাম আক্তার সাথি অভিযোগ করে বলেন, ২০১৩ সালে এসএসসি পাশ করার পর নাটোর টিএমএসএস টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে কম্পিউটার বিভাগে ভর্তি হই। আমাদের বিভাগে ক্লাশ নিতেন মিঠুন কবিরাজ। সেই থেকে নিজের ধর্মীয় (সনাতন-হিন্দু) পরিচয় গোপন রেখে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন এবং বিয়ে করবেন বলে প্রলোভন দেখান। এক পর্যায়ে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। যখন বুঝতে পারি, তিনি হিন্দু ধর্মালম্বী তখন তার সাথে সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত নিই। পরে মিঠুন ২০১৪ সালের ৩ ডিসেম্বর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

তার তিনদিন পর ২০১৪ সালে ৬ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে রাজশাহী নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায় মিঠুনের বন্ধুর বাসায় ইসলামী শরিয়তের বিধান মোতাবেক আমরা বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হই। কিন্তু কথিত একজন মাওলানার মাধ্যমে ওই বিয়ে যে ভুয়া ছিল তখন তা বুঝতে পারিনি। পরে মিঠুনের বিএসটিআইয়ে পরিদর্শক পদে চাকুরি হয়। এরপর পোস্টিং নিয়ে রংপুরে চলে যান। আর আমাকে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রেখে দেন। সেখানে প্রতি সপ্তাহে যাওয়া আসা করতেন মিঠুন। ইতোমধ্যে আমাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ১১ মাস বয়সে শিশুটি মারা যায়। তার তিন মাস পর থেকে মিঠুন কবিরাজ আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

ভুক্তভোগী আরো জানান, পরবর্তীতে স্বামীর সন্ধানে আমি শশুর বাড়ি নওহাটা যাই। সেখানে মিঠুনের দুলাভাই রনজিৎ ও মিলন আমাকে বলেন, মিঠুন একটি হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করেছে। তাই আমি যেনো তাকে ভুলে যাই এবং আমাকে অন্যত্র বিয়ে করে নেয়ার কথা বলেন। সেখান থেকে ফিরে আসার পর আমার উপর চলে মিঠুনের নজরদারি। কিছুদিন পূর্বে তিনটি মোটরসাইকেল করে মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় ৬ জন যুবক আমার বাড়িতে গিয়ে গলায় ধারালো ছুরি ধরে হুমকি প্রদান করেন। যাতে করে আমি আর কখনো মিঠুনের বিরুদ্ধে থানায় বা সাংবাদিকদের কাছে কোনো অভিযোগ না দিই। আর তাদের অবাধ্য হলে আমার বাবাসহ আমাকে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এখানেই শেষ নয়, পুঠিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বাচ্চুও তার চেম্বারে ডেকে গালিগালাজসহ বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য বলেন। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আর আমি নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘর ছেড়ে আত্নগোপনে রয়েছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মিঠুন কবিরাজ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে ভুয়া বিয়ে করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, যা পারেন লিখেন। আপনার কাছে কী প্রমাণ রয়েছে।

এ ব্যাপারে পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হীরা বাচ্চু বলেন, আামি তো প্রশাসনের কেউ না। আমি কীভাবে পদক্ষেপ নেবো। এক পর্যায়ে তিনি জানতে চান-আপনার কাছে কী প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সঠিক নয়।

এদিকে, মিঠুন কবিরাজের এই প্রতারণার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন পুঠিয়ার বাড়ইপাড়া ও পবার নওহাটা এলাকার লোকজন। একইসঙ্গে মিঠুনের প্রতারণার অভিযোগ অনেক পুরনো বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। এখন যেহেতু বিষয়টি শুনলাম খোঁজ নিয়ে নিয়ে দেখছি। আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাচ্ছি।

এদিকে মিঠুন কবিবার একটি লিখিত প্রতিবাদ রাজশাহীর সময় সম্পাদকের মেইলে পাঠায়, সেখকানে উল্লেখ করেন,

২০১৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু করে টিএমএসএস পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, নাটোরসহ পরবর্তীতে যে সকল প্রতিষ্ঠানে আমি চাকুরীরত ছিলাম ও বর্তমানে আছি, কোথাও আমার ধর্মীয় ও ব্যক্তিগতসহ প্রয়োজনীয় পরিচয় গোপন করিনি।

তাই এমন অভিযোগ শুধুই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজানোর প্রয়াসমাত্র।

টিএমএসএস পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, নাটোরে চাকুরীরত অবস্থায় ‘‘শবনম আক্তার সাথী’’ নামের মেয়েটি আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করতো। আমি সবসময় সেই প্রস্তাব এড়িয়ে যাই ও প্রত্যাখ্যান করি এবং বিরক্ত না করার জন্য নিষেধ করি।

গেল জুন/২০১৯ মাসে আমার পারিবারিক সিদ্ধান্তে আমি বিয়ে করি। এরপর থেকেই তিনি (শবনম আক্তার সাথী) ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট ও বিভিন্ন মাধ্যমে আমার নামে মানহানিকর মিথ্যা তথ্যাদি প্রকাশ করা শুরু করে। এ বিষয়টি আমার নজরে আসলে আমি মেয়েটির (শবনম আক্তার সাথী) বাবাকে (মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, মোবাইল ফোন নং-০১৭১৭১৩৭০৩২) বিষয়টি অবহিত করি এবং একইসাথে পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হীরা বাচ্চুকেও অবহিত করি।

এ বিষয়ে কোন প্রতিকার না পেয়ে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে কোতয়ালী থানা, রংপুরে গত ০১-০৮-২০১৯ খ্রিঃ তারিখে একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করি (ডায়েরী নং- ৩২) এবং একইসাথে তার পরিবারকে মিথ্যা তথ্যাদি প্রকাশের বিষয়টি অবহিত করি। পরবর্তীতে মেয়েটি বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট থেকে আমার স্ত্রীকে অশালীন এসএমএস পাঠায়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যগণ ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্নতার মধ্যে এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে অসহনীয় অবস্থায় জীবন যাপন করছি।

এদিকে সাথির সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ ককরা হলে সে জানায়, আমি ও আমার পরিবারকে ভয়ভীতি আর হুমকি-ধামকি উপর রেখেছে মিঠুন কবিরাজ।

সে আরো বলে, আমার বাবার সাথে আপোষ মিমাংসার কথাও হচ্ছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

©2014 - 2019. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com