বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

বাগমারায় কাবিননামার টাকা আদায়ে সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে এক অসহায় নারী

বাগমারায় কাবিননামার টাকা আদায়ে সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে এক অসহায় নারী
বাগমারায় কাবিননামার টাকা আদায়ে সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে এক অসহায় নারী

নুর কুতুবুল আলম,স্টাফ করেসপনডেন্ট: রাজশাহীর বাগমারায় জোর পূর্বক তালাকনামায় স্বাক্ষর এবং কাবিননামার টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, প্রায় তিন বছর পূর্বে উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের বীরকয়া গ্রামের ইয়াদ আলীর ছেলে শাহজামালের সাথে একই উপজেলার নরদাশ গ্রামের আফাজ উদ্দীনের মেয়ে সালমার বিয়ে হয়। তাদের একটি শিশু পুত্র সন্তান রয়েছে।

 

পঞ্চাশ হাজার টাকা যৌতুক দাবী ও কাজ কর্ম না করার অপরাধে সালমার শশুর বাড়ির লোকজন সালমাকে মাঝে মধ্যে মারধর করতো বলে জানান, কনের বাবা আফাজ উদ্দীন। মেয়েকে মারধরের সংবাদে সালমার বাবা ও চাচা বীরকয়া গ্রামে গেলে জামাই, জামাইয়ের পিতা ইয়াদ আলী ও তাঁদের আত্মীয়স্বজন মিলে তাদের আটকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সাদা কাগজ ও তালাকনামায় জোর পূর্বক স্বাক্ষর, টিপসহি আদায় করে নেয়। দেনমোহর ধার্য ছিল ৯০ হাজার টাকা। সাদা কাগজে কুড়িজন গণ্যমান্য ব্যক্তির স্বাক্ষর থাকলেও, কনে পক্ষের বাপ-চাচা ছাড়া নরদাশ গ্রামের কোন গণ্যমান্য ব্যক্তির স্বাক্ষর নাই।

 
কনের পিতা আরও জানান, তালাকের সময় আমার মেয়ের শিশুপুত্রকে কেড়ে নেয়া হয়। পরে বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে আই ও ঘটনাস্থলে আসেন নাই। ওসি সাহেবকে অবহিত করলে তাঁর হস্তক্ষেপে কয়েক দিন পর নাতিকে ফেরৎ দেয়। কাবিন নামার ৫৫ হাজার টাকা দেয়, সেখান থেকে গহনা চুরির অপবাদ দিয়ে মেয়ের আরও ৬ হাজার টাকা কেটে নেয়া হয়।

 
সন্তান উদ্ধারের সময় পুলিশ চাপ প্রয়োগ করলে বাঁকি মোহরানার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় শাহজামাল। যা দিচ্ছি দিব বলে টালবাহানা করছেন প্রভাবশালী শাহজামাল পরিবার। অসুস্থ্য মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন দিনমজুর বাবা আফাজ উদ্দীন । তিনি এ প্রতারণার বিচার দাবী করেন।

 
সরজমিন বীরকয়া গ্রামে গেলে শাহজামাল প্রতিবেশীর বিয়েতে বরযাত্রী হওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। শাহজামালের বোন ও মা জমেলা বিবি জানান, বিয়ের সময় ৫৫ হাজার টাকা নেয়া হয়েছিল ঐ টাকা দিয়ে আপাষে তালাক দেয়া হয়েছে। কেন তালাক হলো জানতে চাইলে তাঁরা জানান, আমার ছেলে শাহজামালকে বউমার পছন্দ না তাই।

 
বীরকয়া গ্রামের যে নিকাহ রেজিস্ট্রার রফাতুল্যা (কাজী) তালাকনামা সম্পন্ন করেন, তিনি কাচারী কোয়ালপিাড়া ইউনিয়নের কাজী এবং বীরকয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলে দাবী করেন। আপনার বাড়ি বীরকয়া বাসুপাড়া ইউনিয়নে, আর আপনি কাচারী কোয়ালপিাড়া ইউনিয়নের কাজী হলেন কী ভাবে? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন আমার কোয়ালীপাড়া এবং রাজশাহীতেও বাড়ি আছে।

 

 

কাজী রফাতুল্যা ৫৫ হাজর টাকায় তালাকনামা হয়েছে বলে স¦ীকার করেন। ৯০ হাজার টাকা দেন মোহর আর ৫৫ হাজার টাকায় রফাদফা এটা কোন আইনে সমর্থন করে কাজী সাহেব এমন প্্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি। বাগমারা উপজেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, রফাতুল্যা কাজীর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, তিনি আমাদের সদস্য নন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2019. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com