মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

একটি খাল খনন প্রকল্প নওগাঁর দেড় লাখের বেশি কৃষকের জীবন বদলে দিয়েছে

একটি খাল খনন প্রকল্প নওগাঁর দেড় লাখের বেশি কৃষকের জীবন বদলে দিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি খাল খনন প্রকল্প নওগাঁ জেলার দেড় লাখের বেশি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের জীবন বদলে দিয়েছে। হতাশা যখন তাদের গ্রাস করছিল, নতুন স্বপ্ন দেখার আশা থমকে গিয়েছিল। ঠিক তখনই বিএমডিএ’র উদ্যোগে একটি খাল খনন প্রকল্প তাদের নব উদ্যোগে এগিয়ে যাওয়ার সাহস যুগিয়েছে। হাসি ফুটিয়েছে তাদের মুখে।

আজ থেকে বছর চারেক আগেও জলাবদ্ধতার কারণে হেক্টরের পর হেক্টর জমি চাষ করতে পারেননি কৃষক। ঋণ করে ফসল বুনেছিলেন, তবে অধিকাংশ সময়ই সেই ফসল ঘরে উঠেনি। এতে করে পরিবারপরিজন নিয়ে তারা চরম কষ্টে দিনযাপন করতে থাকেন। নতুন করে কৃষি ফসল উৎপাদনে আগ্রহ কমতে থাকে তাদের। আর ওই সময়ই ‘ভূ-পরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও জলাবদ্ধতা দূরিকরণ প্রকল্প’ গ্রহণ করে বিএমডিএ। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছর (২০১৯) পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে নওগাঁ জেলার নওগাঁ সদর, মান্দা, রাণীনগর, আত্রাই, পত্নীতলা এবং ধামুইরহাট উপজেলা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প এলাকায় আবাদের আওতায় এসেছে ১৬ হাজার হেক্টরের বেশি পতিত আবাদি জমি। বেড়েছে ধান উৎপাদন। সুফল ভোগ করছেন নওগাঁর ৬টি উপজেলার দেড় লাখের বেশি কৃষক। সরেজমিনে এই এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) উদ্যোগে এই খাল খনন প্রকল্পই তাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আগে তারা কৃষি ফসল উৎপাদনে কোনো সুফলই পাননি। আর যখনই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, তারপর থেকেই কৃষি ফসল উৎপাদনে তারা আলোর মুখ দেখতে থাকেন।

বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় নওগাঁ সদর, মান্দা, রাণীনগর, আত্রাই, পত্নীতলা ও ধামুইরহাট এই ৬ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রায় ৯৩ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। ফুটওভার ব্রিজ ও ক্রস ড্যাম রয়েছে ১৩টি। এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রকল্পটি শেষ হয়। যার কারণে বছর প্রতি ধান, রবি শষ্যসহ ৪ লাখ মেট্রিক টনের বেশি অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। যদিও এর আগে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও কিছু এলাকায় পানি না থাকার কারণে এই এলাকাগুলো পতিত থাকতো বলে জানান কৃষকরা।

নওগাঁ সদর উপজেলার মাগনা কোমরকোঠা এলাকার কৃষক আফজাল শাহ বলেন, বন্যার পানি জমে থাকতো। আগে ঘরবাড়ি ডুবে যেতো। ধান লাগাতে ২ থেকে ৩ মাস দেরি হয়ে যেতো, আর বাকি সময় ধান কাটার আগেই বন্যা চলে আসতো। অনেক ধান উঠানো যায়নি। তবে এখন সময় মতোই ফসল আবাদে সক্ষম হয়েছেন তারা।

মান্দা উপজেলার গড়িয়াচান এলাকার কৃষক ইনছার আলী বলেন, বোরো আবাদ নিশ্চিত করেছে এই প্রকল্পটি। জমিগুলো চাষ উপযোগী হয়েছে। প্রতি হেক্টরে যেখানে আগে ধান উৎপাদন হতো ৬০ থেকে ৭০ মণ। সেখানে এখন ১০০ থেকে ১১০ মণ ধান উৎপাদন হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী সানজিদা খানম মলি রাজশাহীর সময়কে বলেন, এই এলাকায় বন্যার পানিতে যে জলাবদ্ধতা তৈরি হত, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে তা নিরসন হয়েছে। এতে পুরুষের পাশাপশি নারীরাও উপকৃত হচ্ছেন। আগে যেখানে নারীরা ঘরে বসে থাকতেন। এখন তারা খালের পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে সবজি উৎপাদন, হাঁস পালন করছেন। খননকৃত খালের উভয়পাশে ৩০ হাজারের মত বিভিন্ন ধরণের ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক ও বিএমডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ টি এম মাহফুজুর রহমান রাজশাহীর সময়কে বলেন, আগে আমন, আউশ, বোরো এবং রবি শষ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। এখন পতিত জমিগুলো আবাদের আওতায় এসেছে। যার উপকার ভোগ করছেন প্রায় ৮০ হাজার নারী ও ৮৫ হাজার পুরুষ। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বছরে প্রায় ২৩০ কোটি টাকার ফসল অতিরিক্ত উৎপাদন হচ্ছে এই এলাকা থেকে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2019. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com