মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:২৭ অপরাহ্ন

রাণীনগরে আবাদী জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায় : কমছে কৃষি জমি

রাণীনগরে আবাদী জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায় : কমছে কৃষি জমি

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায় আর দিন দিন কমে যাচ্ছে কৃষিজমির পরিমাণ। উপজেলার ১০টি ইট ভাটার মালিকরা ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করছেন। কৃষকদের অর্থের লোভ দেখিয়ে কৃষি জমির টপ সয়েলগুলো কেটে ব্যবহার করছেন ইট ভাটায়। ফলে তিন ফসলের কৃষি জমিগুলো পুকুর ও জলাশয়ে পরিণত করা হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য আর কমছে উৎপাদনের হার।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ২১হাজার হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে। শ্রেণী ভেদে প্রায় সকল
জমিতেই সারা বছর কোন না কোন ফসল চাষ করা হয়। ধান চাষে লাগাতার
লোকশান হওয়ার কারণে কৃষকরা ভাটার মালিকদের দ্বিগুন অর্থের লোভে প্রতি
গাড়ি (ট্রাক্টর) মাটি ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায় বিক্রয় করায় এক ফিট গর্ত করে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৮হাজার টাকার মাটি বিক্রয় করছে কৃষকরা। ফলে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে কৃষি জমি থেকে মাটি খনন করায় দিনদিন কমে যাচ্ছে ফসলী জমির পরিমাণ। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ২শতাধিক ট্রাক্টর, মিনি ট্রাক মাটি কেটে ভাটায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ
করে যাচ্ছে। উপজেলার কাশিমপুর, মিরাট, ধনপাড়া, রামরায়পুর,মন্ডলেরপুল,
খট্টেশ্বর হাদিপাড়া এলাকায় কৃষি জমি থেকে অবাদে মাটি কেটে ইট ভাটার মালিকরা ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শুধু ইট ভাটায় কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রয় করার কারণে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে প্রায় ৪শ’ হেক্টর জমিতে ইরি ধান চাষ কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে জমির মাটি ইট ভাটায় বিক্রির প্রবণতা। মাটি কেটে জমি নিচু করার ফলে ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। উর্বর শক্তি কমে যাওয়ার ফলে এই জমিতে আশানুরুপ ফলন হবে না। কৃষকরা না বুঝে অর্থের লোভে জমিগুলোর স্থায়ী ক্ষতি করছেন। পরবর্তিতে এই জমিগুলোতে ফসলের ফলন কম হওয়ার কারণে কৃষকরা ফসল চাষে আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তাই দ্রুত এই মাটি বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ করতে না পারলে আশঙ্কা জনক হারে ক্ষতির সম্মুখিন হবে দেশের কৃষি সেক্টর।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল-মামুন বলেন, এই বিষয়ে লিখিত ভাবে অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2019. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com