শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ০১:৫২ অপরাহ্ন

প্রাধান্য কর্মসংস্থানে ॥ ’২০-২১ অর্থ বছরের নতুন বাজেট

প্রাধান্য কর্মসংস্থানে ॥ ’২০-২১ অর্থ বছরের নতুন বাজেট

এম শাহজাহান ॥ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রাধান্য দিয়ে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। যা চলতি বাজেটের চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বেশি। আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে স্ব স্ব বাজেট কাঠামো তৈরি করে তা বাজেট অনুবিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রূপকল্প-২১ এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন এবং মুজিববর্ষ উদ্যাপনে এবারের বাজেট ঘোষণা ও তা বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন বাজেটের আগে ঋণের বিপরীতে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। এছাড়া রেমিটেন্সের টাকা বিনিয়োগে নিয়ে আসতে আগামী বাজেটে ‘বিশেষ পলিসি’ গ্রহণ করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, প্রতিটি বাজেটেই কর্মসংস্থানের বিষয়টি থাকে। এবারও এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে অর্জিত প্রবৃদ্ধির সুফল পাবে এদেশের প্রতিটি মানুষ।

জানা গেছে, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে চলতি বাজেটে একশ’ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এই বরাদ্দ শিক্ষা, প্রযুক্তি, কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণে ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এছাড়া চলতি বাজেটে ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণার পর রেমিটেন্স আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিটেন্স আহরণ ৫ বিলিয়ন ডলার বাড়বে বলে আশা করছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের টাকার সিংহভাগ ভোগব্যয় খাতে ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু বিপুল পরিমাণ এই অর্থ সরাসরি বিনিয়োগে নিয়ে আসা সম্ভব হলে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এ কারণে নতুন বাজেটে রেমিটেন্সের টাকা বিনিয়োগে নিয়ে আসার বিশেষ পলিসি গ্রহণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আজিজুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, চলতি বাজেটে রেমিটেন্সের ওপর ২ শতাংশ প্রণোদনার বিষয়টি খুব ভালভাবে গ্রহণ করেছেন প্রবাসীরা। ইতোমধ্যে রেমিটেন্স আহরণ বাড়ছে। চলতি অর্থবছর শেষে গত অর্থবছরের তুলনায় ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স আসবে দেশে। তিনি বলেন, এক কোটি প্রবাসী বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন। সামষ্টিক অর্থনীতিতে এই অর্থের গুরুত্ব ও অবদান দিন দিন বাড়ছে। তবে রেমিটেন্সের টাকা বিনিয়োগে নিয়ে আসার সেই রকম কোন পলিসি দেশে নেই। সরকারী প্রণোদনায় রেমিটেন্স আগামীতে আরও বাড়বে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর এ কারণে নতুন বাজেটে এ বিষয়ে একটি পলিসি গ্রহণ করার কথা ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, রেমিটেন্সের টাকা প্রবাসীরা যাতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন সেই উদ্যোগ নেয়া হবে।

জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসের শুরুতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রণয়ন সংক্রান্ত একটি বৈঠক করে। ওই বৈঠকে আগামী বাজেটের আকার কি রকম হবে, কোন কোন খাতে গুরুত্ব দেয়া হবে, মন্ত্রণালয়গুলোর বাজেট কাঠামো কত দিনের মধ্যে প্রেরণ করতে হবে, বিশেষ কোন পলিসি গ্রহণ করা হবে কি নাÑ এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ঘাটতির বিষয়টি মাথায় রেখে আগামী বাজেটের আকার ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাথমিক কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত আরও কয়েকটি বৈঠকের পর বাজেটের আকার চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়েছে, তবে কোনকিছুই চূড়ান্ত করা হয়নি। আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর বাজেট কাঠামো পাওয়ার পর এ বিষয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রসঙ্গত, ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শিরোনামে চলতি বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আর এতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২০ ধরা হয়েছে। নতুন বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারী অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত করব্যবস্থা থেকে আসবে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন সেবামূলক খাত থেকে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করে রাখা হয়েছে। তবে বরাবরের মতো আগামী বাজেটের ঘাটতিও থাকছে জিডিপির ৫ শতাংশ।

এদিকে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার সুযোগ পাওয়ায় বাজেটেও এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিবছর বাড়ছে বাজেটের আকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২১ বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হবে নতুন বাজেটে। ওই সময়ের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে কাতারে নিয়ে যাওয়া এবং দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী একশ’ বছরে কোনদিকে যাবে বাংলাদেশ সেজন্য করা হয়েছে ডেল্টা প্লান। এছাড়া ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রার নাম দেয়া হয়েছে রূপকল্প-৪১। এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়ছে, নেয়া হচ্ছে উন্নয়নমূলক কর্মসূচী। বাজেটে আনা হয়েছে আমার গ্রাম আমার শহরের মতো একটি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দর্শন। এটি একটি প্রশংসীয় ও ভাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু চলতি বাজেটে নেয়া এই দর্শনের কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে সেটিও কিন্তু দেখার বিষয়। তিনি বলেন, বাজেটের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নের হারও বাড়াতে হবে।

dailyjanakantha.com

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
25262728293031
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com