বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০২:০৬ অপরাহ্ন

পুলিশের উপস্থিতিতে ‘ধর্ষণ মামলার’ সাক্ষীকে পেটালো সন্ত্রাসীরা

পুলিশের উপস্থিতিতে ‘ধর্ষণ মামলার’ সাক্ষীকে পেটালো সন্ত্রাসীরা
পুলিশের উপস্থিতিতে ‘ধর্ষণ মামলার’ সাক্ষীকে পেটালো সন্ত্রাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাবনায় পুলিশের কাছে মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আসামির সহযোগী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন এক যুবক। পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও ভুক্তভোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেননি। সিসিটিভি ফুটেজে হামলার সময় পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখা গেলেও বিষয়টি আকস্মিক দাবি করে, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা সাতচল্লিশ মিনিট। সদরের গাছপাড়া এলাকার একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে নীল রঙের ব্লেজার পরিহিত অবস্থায় সদর থানার পরিদর্শক খাইরুল ইসলাম এক সঙ্গীর সাথে দ্রুত চলে যাচ্ছেন। ঠিক তখনই একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আব্দুল আলীম নামে যুবককে লোহার রড, হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছে। প্রকাশ্যে পিটিয়ে তারা চলে যায়।
আব্দুল আলীমের অভিযোগ, মালিগাছা ইউনিয়নের একটি ধর্ষণ মামলার তদন্তের বিষয়ে কথা বলতে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে ডেকে নেন সদর থানার ওসি তদন্ত খাইরুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী আব্দুল আলীম বলেন, ওসি আমাকে ধর্ষণ মামলার তদন্তের বিষয়ে কথা বলার জন্য ফোন করে ডাকে। তখন আমি ওসিকে বলি, আপনি গাছপাড়া আসেন এখানে বসেই আমরা কথা বলবো। তারপর আমরা গাছপাড়ায় যাই। এবং ওসি সেখানে বসেই ৫ জন সাক্ষীর নাম লিখে নেয়। যখন ৬ নম্বর সাক্ষীর নাম লিখতেছে, তখনই একদল লোক এসে আমার ওপর হামলা চালায়। কিন্তু ওসি সেখানে থেকে নীরবে সরে যায়। আর ওরা আমাকে মারতে থাকে।

ভুক্তভোগীর এক স্বজন বলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বলে গেছে, যে আমি পুলিশের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। কোন সমস্যা হলে পুলিশই আমাকে সাহায্য করবে।
ভুক্তভোগীর মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা ছেলে তো কোন দোষ করেনি। তাহলে আমার ছেলেকে কেন এভাবে মরল। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

পুলিশসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও মানবাধিকার কর্মীরা।

মানবাধিকার কর্মী মুজতাবা আব্দুল আহাদ বলেন, পুলিশ তো রাষ্ট্রের একটা অংশ। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের নিরাপত্তা দেয়ার। তিনি সঠিক ভাবে যদি দায়িত্ব পালন না করে থাকেন। তাহলে অবশ্যই এটা বিভাগীয় ভাবে তদন্ত করতে হবে। এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

হামলার ঘটনাকে আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত দাবি করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
পাবনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘটনার পর থেকেই আসামি গ্রেফতারের ব্যাপারে আমাদের তৎপরতা ছিল। ঘটনার রাতেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি।

এ ঘটনায় আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন বাদী হয়ে দশ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। এদের মধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
22232425262728
29      
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com