শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মেহেরপুরে গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যা:স্বামী আটক পাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রের দুই সদস্য আটক রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় কাপড়ের ব্যাগ থেকে নবজাতক ছেলে শিশু উদ্ধার!!! টেকনাফে মাদক ব্যাবসায়ীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে-২ ‘হাসিনা’ : ‌‌’এ ডটার’স টেল’ বহু প্রতিক্ষিত ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে আজ কাঁঠালের পাতায় ও মুষ্ঠিবদ্ধ চাল সংগ্রহের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নবান্ন উৎসব আয়োজন রাজশাহীর হরিপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত-১:আহত অন্তত-১০ জন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির গ্রেফতার নিপুন রায় গ্রেফতার:বেবী নাজনীনকে আটকের পর ছেড়ে দিলো ডিবি

কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ

নিউজ ডেক্স:প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাস্তার চারদিকে ব্যারিকেড দিয়ে বুধবার রাত থেকে চলা অবরোধের শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।

বুধবার রাত ৮টার দিকে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল করতে করতে শাহবাগ গিয়ে অবরোধ করে। তাদের অবরোধের ফলে শাহবাগে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। মন্ত্রিপরিষদের কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।

সরকারি চাকরির সব ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে থাকবে না। এটা হতে পারে না। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতেও আগের মতো ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকতে হবে। নইলে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’

এদিকে দাবি আদায়ে আগামী শনিবার বিকেল ৩টায় শাহবাগ মোড়ে মহাসমাবেশ করবে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম আল সনেট এই তথ্য জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বুধবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে কোটা পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোঃ শফিউল আলম বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে সরাসরি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকছে না। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে কোটা থাকবে কিনা সময়ের প্রয়োজনে বিবেচনা করবেন সংশ্লিষ্টরা।

তিনি আরও বলেন, আজ কালের মধ্যেই মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে। সে অনুসারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এ নিয়ে সব মিলিয়ে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।

এর আগে সরকারি চাকরির নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেড পর্যন্ত কোনো কোটা না রেখে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নিয়ম চালু করতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে গঠিত কোটা পর্যালোচনা কমিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সুপারিশ জমা দেয়।

ওই কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর বুধবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে তোলা হয়। বৈঠকে ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কার/বাতিলে’ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, কমিটির রিপোর্ট মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। তিনটি সুপারিশ ছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, কোটা বাতিল এবং কোটা বাতিলের ফলে বিদ্যমান জনগোষ্ঠীর বিষয়ে যথাপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

মন্ত্রিসভা সচিব কমিটির তিনটি সুপারিশই অনুমোদন দিয়েছে জানিয়ে শফিউল বলেন, যদি কখনও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য কোটার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তবে সরকার তা করতে পারবে।

তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১৪তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড) নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি। সচিব বলেন, আজ-কালের মধ্যে আমরা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। আশা করছি দুই-তিন দিনের মধ্যে (প্রজ্ঞাপন) হয়ে যাবে। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে এটা কার্যকর হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৩৮, ৪০ তম বিসিএস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুসারে হবে।

এতদিন সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত ছিল; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে কয়েক মাস আগে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তাদের সেই আন্দোলন ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com