শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে চার জঙ্গির ফাঁসির আদেশ

রাজশাহীতে চার জঙ্গির ফাঁসির আদেশ

স্টাফ রিপোর্টার : পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ উপজেলার সোনাপাতা এলাকার চাঞ্চল্যকর শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের প্রধান পুরোহিত অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলাকেটে হত্যার মামলার রায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবির) চার সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধীও রয়েছে। রায়ে আদালত তিনজনকে বেকসুর খালাসও দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির অন্য সদস্যরা হলো, বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ক্ষুদ্র কুষ্টিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী মোল্লার ছেলে রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন, পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ উপজেলার দেবগঞ্জ কামাতপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন এবং দেবিগঞ্জের প্রধানাবাদ মসজিদপাড়া গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের ছেলে রমজান আলী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা রাজীব গান্ধী গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পূর্ব ভূতমারা গ্রামের ওসমান গণির ছেলে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রাজিবুল ইসলাম মোল্লা পলাতক রয়েছে। অন্যরা রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত দেবিগঞ্জের কালীরডাঙ্গা গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে হারেজ আলী, বানিয়াপুর প্রধানপাড়া গ্রামের মৃত তায়েজ উদ্দিনের ছেলে খলিলুর রহমান ও পূর্ব দেবিডুবা নাজিরনপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে মো. রানাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এদের মধ্যে রানা পলাতক রয়েছে। বাকি দুইজনকে কারাগার থেকে মুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাজিবুল ইসলামকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ উপজেলা সদরের চীন-মৈত্রী সেতু সংলগ্ন সোনাপাতা এলাকায় পুরোহিত অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলাকেটে হত্যা করা হয়। ওই সময় গুলিবিদ্ধ হন একই মঠের আরেক সেবক। এ ঘটনায় ১০ জনকে আসামী করে দেবীগঞ্জ থানায় দুটি মামলা হয়। একটি হত্যা মামলা ও অপরটি অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলা। মামলা দুটির আইও ছিলেন তৎকালীন ওসি তদন্ত আইয়ুব আলী। মামলার বাদী ছিলেন, পুরোহিতের বড়ভাই রীন্দ্রনাথ রায়।
তৎকালীন পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার গিয়াসউদ্দিন আহমদ পিপিএম এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারির রাতে জঙ্গিরা একজন পুরোহিতকে হত্যা করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও দেশকে অস্থিতিশিল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে চেয়েছিল। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছিল এবং ঘটনার সংগে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই হত্যাকান্ডের সংগে জড়িত একজন রিক্সাভ্যান চালকের বাড়ির একটি ঘরের মাটির নীচ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ।
পুরোহিতের সেবক গোপাল চন্দ্র রায় এই রায়ে সন্তুষ্ট। তিনি দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকালে মঠের রান্নাঘরে গুরুর জন্য রুটি বানাচ্ছিলাম। এমন সময় গুরুজির চিৎকার শুনতে পেয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে দেখি ঘর থেকে দুজন লোক বের হচ্ছে। তাদের পরণে প্যান্ট ও জ্যাকেট ছিল। আমাকে দেখামাত্র ওই দুজনের একজন কোমর থেকে পিস্তল বের করে আমার ওপর গুলি চালিয়ে বলে তোর গুরুকে কতল করা হয়েছে। এতে আমি আহত হই।
পুলিশ তদন্ত শেষে পঞ্চগড় আদালতে মামলা দুটির চার্জশিট প্রদান করেন। এতে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোপত্র দেয়া হয়।
পঞ্চগড়ের পাবলিক প্রসিকিউটার ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সরকার পক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, আদালতে অভিযোগপত্র দেয়ার পর ২০১৬ সালের ৮ নবেম্বর পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দুটির বিচার শুরু হয়। এতে ১৪৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে রাজশাহীস্থ দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে মামলাটি প্রেরণ করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিহত পুরোহিতের বড়ভাইয়ের (বাদীর মেয়ে) খুন্তি রানী (৩০) এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি খুব দ্রুত ফাসির দন্ডাদেশ প্রাপ্তদের ফাসি কার্যকরের দাবি জানান।
পুরোহিত হত্যাকান্ডের সংগে তার আগের বছর রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও, বগুড়ায় শিয়া মসজিদে হামলা ও ঢাকার আশুলিয়্য় পুলিশ চেকপোষ্টে পুলিশ হত্যাকান্ডের ঘটনা একইসূত্রে গাথা। এসব হামলাদেও আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ছিল।
রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান, পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য রাজশাহীর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এখানে ঘোষিত রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
11121314151617
18192021222324
252627282930 
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com