শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন

“বঙ্গবন্ধুর ঋণ”

"বঙ্গবন্ধুর ঋণ"

এ কে সরকার শাওন: “হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান!” আমি ও আমার পরিবারবর্গ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এই উক্তিটি দুঃসময়ে করেছিলাম এবং আজও করছি! তাঁর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালবাসা যা পোষণ করতাম ১৯৭৫ সালে আজও তা চির সবুজ। সেই অবস্থান থেকে একচুলও বদলাইনি। এর মাঝে তৈলের হার ০%! চাওয়া পাওয়ার হার ০%!

বঙ্গবন্ধুর শততম জন্ম বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

আমি তখন কিশোর। ঝালকাঠি উদ্বোধন স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। ১০ কাপুড়িয়া পট্টি আমাদের বাসা ছিল। বাসা থেকে মিনিট পাঁচেক দূরের পথ সোনালী ব্যান্ক! সোনালী ব্যান্কের চিলে কোঠায় আমার বড় দুই ভাই পড়াশুনা ও রাত্রি যাপন করতেন। আমি সব সময়ই ভাইয়াদের সাথে থাকতে চাইতাম। কারণ চিলেকোঠা আমার খুব ভাল লাগে। ছাদে দাঁড়িয়ে বিশাল নীলাকাশের নীচে প্রায় অর্ধেক ঝালকাঠি এক দৃষ্টিতে দেখা যেত। দেখা যেত আমার স্কুল, আমাদের বাসা, প্রিয় জনতা ক্লাব, ষ্টেডিয়াম ইত্যাদি। আমি তাদের সাথে চিলেকোঠায় থাকার বায়না ধরলে ছোট ভাই ইংরেজী বলতেন, “নো, ইউ ষ্টে হোম”! বড় ভাইয়ের নিস্কৃিয় আচরণ ছিল! একদিন অনুমতি পেলাম! সেই দিন ১৪ আগষ্ট ১৯৭৫! পরে বড় ভাইয়ের চাকরী হলো। তিনি চলে গেলেন খুলনায়। ছোট ভাই আর আমি থাকতাম সেই চিলেকোঠায়। গরমের সময় রুমে থাকতাম না ছাদে থাকতাম। বৃষ্টি হলে রুমে আবার বৃষ্টি শেষে ছাদ শুকানো মাত্র ছাদে চলে যেতাম। সে সব অনেক মধুর স্মৃতি। দুঃখের স্মৃতি প্রথম রাত। পরদিন ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ সাল। সকালে বের হয়ে দেখি ১৪৪ ধারা চলছে। আমরা তিন ভাই আটকা পড়লাম ঝালকাঠির সোনালী ব্যান্কের চিলে কোঠায়। সম্মানিত পাঠক সেই দিনে কিশোর আমি যা দেখেছি সেই স্মৃতি নিয়ে আমার কবিতা”বঙ্গবন্ধুর ঋণ” আপনাদের জন্য নিবেদন করলাম।

“বঙ্গবন্ধুর ঋণ”
এ কে সরকার শাওন

চুয়াল্লিশ বছর আগে,
এমনি শ্রাবণের দিনে
ভোরের আকাশে যত কাল মেঘ ছিল
তারচেয়ে কুৎসিত কাল জঘন্য ছিল
হায়েনাদের ষড়যন্ত্রের জালটা!
আজো মনে পড়ে সেই
১৫ আগষ্টের সেই বিষাদময় সকালটা।
সুগন্ধার জলে সেদিন সুগন্ধ ছিল না,
কল কল করুণ অশ্রু ধারায়
বিষাদময় ছিল মনটা।

স্তম্ভিত শোকাহত দেশবাসীর সাথে
কিশোর আমিও
বন্দী ছিলাম আপন নিলয়ে!
১৪৪ ধারা জারি চরম বাড়াবাড়ি!
বাহিরে বের হলে দেখামাত্র গুলি
চারিদিকে ফিসফিসানি
ভয়ার্ত কন্ঠে কথা বলাবলি!
ভয়ে থর থর জানালাটা একটু ফাঁক করে
দৃষ্টি নিপতিত কাপড়িয়া পট্টির রাস্তায়;
নিরব নিস্তদ্ধ জনমানবহীন ঝালকাঠি,
এমন বিজন বিরান ভূমি
দেখে নাই কেউ কোনদিন!

জলপাই রংয়ের জংলী গাড়ীর
সামনে পিছনে মারণাস্ত্র তাক করা!
মনে হচ্ছে সামনে পেলে এক ম্যাগজিন
গুলিতে বুকটাকে ঝাঝরা করে নিথর
করে দিবে বর্বর পাকিস্তানী প্রেতাত্মারা!

মাঝে মাঝে তাদেরই ছোট্ট ঠোলার দল
মার্চ করে বুটের আওয়াজ তোলে,
টক টক টক শব্দে বুকে জাগে ভয়,
কখন ইচ্ছেমত ব্রাশ ফায়ার করে
কাজ করে দিবে সারা!

আজ বেশ আন্দাজ করতে পারি
সেদিন দেশের সকল খণ্ডিত চিত্র
সবখানেই এমনটা ছিল।
দেশটা গভীর নিমজ্জিত ছিল শঙ্কায়!
বলা না যায় সওয়া না যায়
দুঃখে বুকটা ফেটে যায়!
অস্ফুট বোবা চাপা কান্নায়!

আচমকা থাস, ঠাস, খটাশ
ঝড়ের মত বিদ্যুৎ বেগে মা এসে
দু’টি থাপ্পড় দিলেন কষে!
সম্বিত ফিরে পাই
প্রথমটি ঘাড়ে গর্দানে,
অতপরটি পৃষ্ঠদেশে শেষটি
জানালা আটকানোর তরে!
মা বলেছিলেন দাত কড়মড় করে
হতভাগা, লক্ষীছাড়া ওরে
এত বড় সাহস তোর হয় কি করে!
তোকে মেরে দিবে গুলি করে
দয়া-মায়া নেই সিপাইদের অন্তরে!
খবরদার! জানালায় যেন কারও
হাত না আর পড়ে!

আমরা আটটি প্রাণি বাবা মা ভাই বোন
একঘরে জড়সড় কোন টু শব্দ করিনি
মাঝে মাঝে শুধু টহল গাড়ীর শব্দ!
আজো কানে ভাসে
সেই ভয়ঙ্কর টহল গাড়ীর প্রতিধ্বনি!

প্রাণপ্রিয় নেতার অপ্রত্যাশিত
নিঃষ্ঠুর মৃত্যুর খবরে
বাবা প্রায় বাকরুদ্ধ হতভম্ব।
উদভ্রান্তের মত বিড়বিড় করে
বলছিল, “পাকিস্তানী মিলিটারিরা
যা করতে সাহস পায়নি;
তা করেছে বেইমান বাঙালী!
জাতির জনককে হত্যা করতে
তোদের কি বুকটা একটুও কাঁপেনি!
মোস্তাক হবে বড় মীরজাফর
তা কেউ কখনও ভাবেনি!

শতকোটি বছর প্রতীক্ষার পরও
এ ক্ষতি নয়কো পোষার কোনদিন!
বোধ ফিরলে কাঁদবে বাঙ্গালী,
ব্যাকুল হয়ে ঢুকরে কাঁদবে চিরদিন!
জীবন দিয়েও শোধ হবে না
বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম ও ভালবাসার ঋণ”!

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২০
শাওনাজ, , ঢাকা

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
11121314151617
18192021222324
252627282930 
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com