বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

করোনাভাইরাস গুজব রটনাকারীদের ছাড় নয়

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২০
করোনাভাইরাস গুজব রটনাকারীদের ছাড় নয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশ জনজীবনে যেমন ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তেমন এর অপব্যবহার কীভাবে হতে পারে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তা আমরা আরেকবার দেখছি। সতর্কতা-সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি সত্ত্বেও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই ভাইরাসকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহারকারীরা জনজীবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। রোববার সমকালের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ, চট্টগ্রামে এই সংক্রমণের বিষয়ে অডিও ক্লিপের মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার পিরোজপুরেও দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ত্বরিত তৎপরতায় আমরা স্বস্তিবোধ করছি। আমরা জানি, গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত।

সাংবিধানিক রক্ষা কবচ রয়েছে সংবাদমাধ্যমেরও। কিন্তু মতপ্রকাশ করতে গিয়ে বিকৃত ও অসত্য তথ্য দিয়ে কিংবা অসঙ্গত যে কোনো বিষয়ে নিজেদের দাবি জানাতে গিয়ে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা কিংবা রাষ্ট্র-সমাজে আতঙ্ক-অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনোই অবকাশ নেই। গুজব সব সমাজেই রয়েছে, তা অসত্য নয়। কিন্তু বাংলাদেশে এর শিকড় অনেক গভীরে বলেই বাংলা ভাষায় প্রবাদেরও জন্ম হয়েছে। ‘চিলে কান নেওয়া’- এই প্রবাদের প্রতিফলন কখনও কখনও আমাদের সমাজে মর্মন্তুদ হয়ে উঠেছিল। ফেসবুক, টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিস্তৃত হওয়ার পর নাগরিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ বেড়েছে বহুগুণ। গুজব রটিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত এক জামায়াত নেতা, কক্সবাজারের রামুতে গুজব ছড়িয়ে বৌদ্ধমন্দির ও বসতিতে আগুন দেওয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও রংপুরে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা দূর অতীতের নয়। নিকট অতীতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-আন্দোলনকে কেন্দ্র করেও এমন অপকর্ম চালিয়েছিল কেউ কেউ। আমরা দেখেছি, এর প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ব্যবহূত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সম্মিলিত প্রয়াসে যখন এই বিপদ মোকাবিলায় কাজ করছেন সরকারি-বেসরকারি দায়িত্বশীল ও সচেতন মানুষ, তখন গুজব রটিয়ে যারা আতঙ্ক সৃষ্টি করছে তারা জনশত্রু। করোনাভাইরাস নিয়ে এর পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়। অতীতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সামাজিক সচেতনতার কারণে অন্ধকারের শক্তিগুলো সফল হতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগ ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমও এ ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল। এবারও মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে। বস্তুত গুজবের বিরুদ্ধে সচেতনতার বিকল্প নেই। সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি শুভবোধসম্পন্ন নাগরিকদেরও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।

গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখা দরকার, নাগরিক সমাজের সতর্কতা-সচেতনতাই গুজব প্রতিরোধের উত্তম প্রহরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক অবদান আমরা দুষ্ট লোকের কারণে নস্যাৎ হতে দিতে পারি না। কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা কিংবা আতঙ্ক সৃষ্টির পরিকল্পনা কেউ করলে সেই ষড়যন্ত্রকারীর দ্রুত দৃষ্টান্তযোগ্য বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। গুজবে যেমন কর্ণপাত করা যাবে না, তেমনি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com