বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৪২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

রাজশাহীতে প্রতি টন ওএমএস আটায় তিনশ টাকা উপরি!

রাজশাহীতে প্রতি টন ওএমএস আটায় তিনশ টাকা উপরি!

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অফিস সহকারী মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।ওএমএস আটা সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে চুক্তিকৃত মিল মালিকদের কাছে টনপ্রতি নির্দিষ্ট হারে টাকা আদায় করছেন এ কর্মচারী।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে দীর্ঘ তিন বছর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত এ অফিস সহকারী ইতোমধ্যে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট হারে ‘কমিশন’ দিয়েই তিনি এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহকারী মশিউর রহমান বলেছেন, চুক্তিকৃত মিল মালিকদের কাছে অর্থ নেয়ার অভিযোগ সঠিক না। আমি এসব কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত না।জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সংশ্লিষ্ট একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের কোন ঘটনার সাথে যুক্ত থাকলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরো রাজশাহী মহানগরীতে সুলভ মূল্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে আটা সরবরাহের জন ৩০ জন ডিলার রয়েছেন। শুক্রবার এবং সরকারি ছুটির দিন ছাড়া নগরীর ১৫টি পয়েন্টে আটা বিক্রি করা হয়। ৩০ জনের মধ্যে ১৫ জন করে একদিন পর পর পালাক্রমে আটা বিক্রি করেন। প্রত্যেক ডিলারের বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে দিনপ্রতি একটন আটা।
এদিকে আটা সরবরাহের জন্য বর্তমানে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সাথে চারটি মিলের চুক্তি রয়েছে। এগুলো হলো- রাজশাহীর বিসিক শিল্প নগরী সপুরা এলাকার মেসার্স পদ্মা ফ্লাওয়ার মিল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিসিক নয়াগোলা এলাকার রমজান ফুড ইন্ডান্ট্রিজ, একই এলাকার মেসার্স রমজান ফ্লাওয়ার মিল এবং সিরাজগঞ্জের এসবি ফজলুল হক রোডের মেসার্স সবুজ ফ্লাওয়ার মিল।
আটা সরবরাহের জন্য এ চারটি মিলকে রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের আওতাধীন রাজশাহী সদর খাদ্য গুদাম থেকে গম সরবরাহ করা হয়। এ গমের বিপরীতে প্রতিমাসে এ চারটি মিল থেকে কমপক্ষে ৩৭৫ টন আটা সরবরাহ করা হয়। সরবরাহকৃত আটা ডিলাররা সদর খাদ্য গুদাম থেকে সংগ্রহ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটন আটার বিপরীতে অফিস সহকারী মশিউর রহমান মিল মালিকদের কাছ থেকে তিনশ টাকা করে ‘উৎকোচ’ গ্রহণ করেন।
এ হিসাবে তিনি প্রতিমাসে এক লাখ ১৫ হাজার টাকার ওপরে হাতিয়ে নেন। টাকা না দিলে চুক্তি বাতিলের হুমকি দেন মশিউর। এভাবে গত তিন বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন।
তবে মশিউর রহমানকে উৎকোচ দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রমজান ফুড ইন্ডান্ট্রিজ এবং মেসার্স রমজান ফ্লাওয়ার মিলের মালিক রমজান আলী।
তিনি বলেন, আটা সরবরাহের জন্য কোন টাকা দিতে হয় না। তবে আটা সরবরাহের ফলে আপনিও (রমজান আলী) আর্থিকভাবে লাভবান এবং ব্যবসায়ীক কারণে বিষয়টি স্বীকার করছেন না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজী হন নি।
এ ব্যাপারে কথা বলতে চাননি রাজশাহীর মেসার্স পদ্মা ফ্লাওয়ার মিলের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম। তিনি কোন মন্তব্য করতে চান নি।
আর সিরাজগঞ্জের মেসার্স সবুজ ফ্লাওয়ার মিলের মালিক আবদুল কাদেরের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভুইয়া বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের ‘কমিশন’ দেয়ার অভিযোগ সঠিক না। মিল মালিকদের কাছ থেকে প্রতিটনের বিপরীতে মশিউর রহমান টাকা নেন বলে যে অভিযোগ আসছে, সেটিও আমার জানা নেই।
আমি গত চারমাস আগে রাজশাহীতে দায়িত্ব নিয়েছি। তবে অভিযোগ সত্য হলে তদন্ত করে মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এ খাদ্য কর্মকর্তা।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com