বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

সন্দ্বীপে প্রথমবারের মত জ্বললো বিদ্যুতের আলো

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮
সন্দ্বীপে প্রথমবারের মত জ্বললো বিদ্যুতের আলো

মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন, তাই উন্নয়নের নানা ক্ষেত্রেও পিছিয়ে ছিল সন্দ্বীপ। জাতীয় উৎপাদন বাড়লেও এতদিন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল দ্বীপের চার লাখ মানুষ। অবশেষে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে আক্ষেপ ঘুচে সন্দ্বীপবাসীর। দেশে প্রথমবারের মতো ১৫ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সাথে সংযুক্ত করা হয় সন্দ্বীপকে। গতকাল বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটের দিকে সফলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সন্দ্বীপের আবাসিক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফরহাদুল ইসলাম।

অনেকটা পরীক্ষামূলকভাবে ৩ হাজার গ্রাহক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে। কোনো প্রকার ত্রুটি ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। গ্রিড সংযোগের অধীনে বিতরণ সংস্থা ইতোমধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৪০০টি বিদ্যুৎ সংযোগ সরবরাহ করেছে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে সন্দ্বীপে ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা করা যাচ্ছে। এখন সাবমেরিনের মাধ্যমে দৈনিক ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ক্ষমতা রয়েছে।

এদিকে প্রথমবারের মতো বিদ্যুতের আওতায় আসায় সন্দ্বীপের বাসিন্দাদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সন্দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ায় সন্দ্বীপের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। উত্তর সন্দ্বীপ কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সন্দ্বীপবাসীর জন্য অনেক বড় পাওয়া। বিদ্যুৎ আসায় এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো প্রেরিত অলস বৈদেশিক মুদ্রায় এখন ছোট খাটো শিল্প-কারখানা চালু করা সম্ভব হবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে পর্যটন স্পট সৃষ্টির পাশাপাশি এখানকার মৎস্য ও দুগ্ধজাত শিল্প বিকাশের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ মিজান।

সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল সন্দ্বীপকে আলোকিত করা। আজ আমি অত্যন্ত খুশি। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কারণে সন্দ্বীপের মত বিচ্ছিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ আনা সম্ভব হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একনেকের সভায় প্রকল্পটি পাশ হয়। এরপর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের করে ঠিকাদার নিয়োগ ও কার্যাদেশ প্রক্রিয়া শেষ হয়। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেডটিটির মাধ্যমে ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে। প্রথমে সন্দ্বীপের বাউরিয়া বেড়িবাঁধ থেকে মাটি খুঁড়ে ১০ ফুট নিচ থেকে ড্রেন করে টানা হয় সাবমেরিন ক্যাবল। ২১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ওয়াটার জেটের সাহায্যে সন্দ্বীপ চ্যানেল নদীর তলায় মাটির ১০ থেকে ২০ ফুট গভীরে দুটি সাবমেরিন ক্যাবল বসানোর কাজ। জাতীয় গ্রিড থেকে ১১ কেভি (কিলো ভোল্ট) ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি তার সীতাকুণ্ডের বাকখালী সাবস্টেশনে আসে। সাবস্টেশন থেকে ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে ৩৩ কেভি একত্রিত হয়ে একটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে নদীর তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ এসে সংযুক্ত হয় বাউরিয়াঘাট এলাকায় স্থাপন করা ট্রান্সমিটারে। সেখান থেকে আবারো ১১ কেভি করে ভাগ হয়ে ৩টি তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে এনাম নাহারের পশ্চিমের সাবস্টেশনে। উক্ত সাবস্টেশন হতে সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছবে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com