বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্পাদক ও গনমাধ্যমের সহযোগীতা চেয়েছে ঐক্যফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে দেশের গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শুক্রবার গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়’ অনুষ্ঠানে ফ্রন্টের নেতারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় শেষে ফ্রন্টের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনটা থেকে আমরা তিন ঘণ্টা সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। মূল্যবান আলোচনা হয়েছে। কেননা, তারা বিভিন্ন ব্যাপারে তাদের মতামত দিয়েছেন। আমাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।’

কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে তারা কী আশা করেন—যদি দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হয়, সরকারের যেমন কর্তব্য আছে, আমরা যারা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি আছি, যারা নির্বাচন করতে যাচ্ছি, পরিবেশ রক্ষা করা, যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়। সম্পাদকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে কী কী জিনিস তারা অতীতে দেখেছেন।’

ঐক্যফ্রন্ট নেতা কামাল হোসেন জানান, তারা মনে করেন— আমাদের এবার যেগুলো থেকে বিরত থাকতে হয়, সবাইকে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করতে হয়, যে জনগণ সত্যিকার অর্থে নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং নির্বাচন যেন সত্যিকার অর্থে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়।

যেটা আমাদের জন্য সত্যিকার অর্থে মূল্যবান মনে করি এবং আমাদের সেই চেষ্টা থাকবে। সরকারের যেসব জিনিস আমরা চিহ্নিত করেছি, আশা করবো সংবাদপত্র এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখবে।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব ও ফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যা সহযোগিতা দরকার, সবই চেয়েছি।’

এর আগে বিকাল তিনটায় শুরু হয় মতবিনিময় অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, এএফপির ব্যুরো প্রধান শফিকুল আলম, রয়টার্সের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম কাদিরসহ সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদক মিলিয়ে প্রায় ৩০-৩৫ জন সিনিয়র সাংবাদিক।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তুজা বলেন, ‘মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অনেক সাংবাদিক পরামর্শ দিয়েছেন নির্বাচনে থাকতে হবে। নির্বাচনে সমান সুযোগ তৈরি করার জন্য প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দেখা করতে পারে। দেখা করার সুযোগ আছে, বারবার যেতে পারবেন।’

‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জানিয়েছে, বিএনপিসহ তাদের অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার আছে ও গ্রেফতার হচ্ছে, সেগুলো যেন গণমাধ্যম তুলে ধরে, সে ব্যাপারে তারা সহযোগিতা চেয়েছে’ বলে জানান গোলাম মোর্তুজা।

তিনি বলেন, ‘সম্পাদকরা বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়তো অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু তারা যেন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকে। আগামীর বাংলাদেশের জন্য নির্বাচনে থাকাটা জরুরি। গণমাধ্যম বিশেষ কারও পক্ষে নয়, বরং প্রকৃত সত্য উপস্থাপনের চেষ্টা করবে।’

এর আগে ঐক্যফ্রন্টের মতবিনিময় চলাকালে মাঝপথে বেরিয়ে যান আমাদের নতুন সময় সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান ও বিডি নিউজের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদী।

সাংবাদিকদের নাইমুল ইসলাম খান বলেন, ‘মতবিনিময়ে আমার প্রশ্ন এবং বক্তব্য ছিল, ঐক্যফ্রন্টের যে জনসভাগুলো হয়েছে, সেখানে আমি দেখেছি যে, পবিত্র কোরআন, বাইবেল, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়। এছাড়া, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার বিষয়ে নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলো তাদের ঐক্যবদ্ধ চিন্তার ফল কিনা? এগুলোতে সবাই একমত কিনা? এছাড়া, আমি উনাদের কাছে জানতে চেয়েছি, ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্টের বিষয়ে কোনও ঐক্যবদ্ধ চিন্তা আছে কিনা? আর এগুলো নির্বাচনের আগে আমাদের সামনে লিখিতভাবে উপস্থাপন করবেন কিনা?’

তিনি বলেন, ‘আমার আরেকটি প্রশ্ন ছিল, এই নির্বাচনের পর বাংলাদেশের জীবনে দুটি বিশাল উদযাপন আছে। একটি হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। আরেকটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী। নির্বাচনে বিজয়ী হোন বা পরাজিত হন, এই উৎসবগুলো সবাই মিলে পালন করবেন কিনা? এসব বিষয়ে তারা বলেছেন, এ বিষয়ে তারা তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবেন। ’

আমাদের নতুন সময় সম্পাদক জানান, মতবিনিময় সভা ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে। নির্বাচন কীভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে, এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের মতামত চেয়ে তারা বক্তব্যের সূত্রপাত করেন।’

বিডি নিউজ সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদী বলেন, ‘আমার প্রশ্ন ছিল নির্বাচনে যদি জয়ী হন, তাহলে আপনাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? এই প্রশ্নের উত্তর আমি পাইনি।’

তৌফিক ইমরোজ খালেদী বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই ঐক্যফ্রন্ট যদি বিজয়ী হয়, তাহলে তাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, এটা তাদের পরিষ্কার করতে হবে। কিন্তু সেটা তারা এখনও করেননি।’

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান জানতে চান জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে কিনা। ড. কামাল হোসেন উত্তরে বলেন, ‘নির্বাচন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমরা সরে যেতে পারি না।’

নির্বাচনি প্রচারণায় কী প্রাধান্য পাবে, সভায় এমন প্রশ্ন উত্থাপিত হলেও সুনির্দিষ্ট কোনও উত্তর আসেনি। সম্পাদকদের সঙ্গে কামাল হোসেন ছাড়াও মাহমুদুর রহমান মান্না কথা বলেন।

মতবিনিময় শেষে গণফোরামের নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, ‘নির্বাচনে অনিয়ম বন্ধে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছি আমরা। তারা যেন লেখালেখি করে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন, সে জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় যেতে পারলে কী কী করবে, এমন প্রশ্নে আমরা বলেছি, ১১ দফা দিয়েছি। সেটা বাস্তবায়ন করা হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন যেন হয়, তারা কীভাবে সাহায্য করবেন, তা আলোচনা করেছি।’


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com