শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৩১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

দেশের মানুষ আর এই সরকারকে চায়না: মিনু

দেশের মানুষ আর এই সরকারকে চায়না: মিনু

মাসুদ রানা রাব্বানী: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপি’র সকল স্তরের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের দাবীতে গতকাল বৃহস্পতিবার সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেন মহানগর বিএনপি। মহানরগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে বেলা ১১টায় নগরীর ভূবন মোহন পার্কে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সবাবেশ শেষে বিএনপি নেতৃবৃন্দ ৭দফা দাবী সম্মিলিত স্মারকলিপি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে প্রদান করেন।

 

 

বিভাগীয় কমিশনা না থাকায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আমিনুল ইসলাম স্মারকলিপি গ্রহন করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের অন্যতম উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য জননেতা মিজানুর রহমান মিনু

 

 

প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন শওকত, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পূণর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সহিদুন্নাহার কাজী হেনা ও বাগমারা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর।

 

 

অন্যদের মধ্যে জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মহসিন আলী, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সভাপতি শওকত আলী, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু, মতিহার থানা বিএনপি’র সভাপতি আনসার আলী, শাহ্ মখ্দুম থানা বিএনপি’র সভাপতি মনিরুজ্জামান শরীফ, রাজপাড়া থানা বিএনপি,র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদ আলম, শাহ্ মখ্দুম থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, সাবেক কাউন্সিলর শাহজাহান আলী, ও দিলদার হোসেন, রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুল হক হারু,

 

 

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্ত, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইল হিকল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, তাঁতী দলের সভাপতি আরিফুল হক বনি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন, মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বাবলু, মাহনগর স্বেচ্ছাসবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর তারেক, জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন প্রাং, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক নুরুন্নাহার ও সামসুন নাহার, রাজশাহী মহানগর বিএনপি, সাংগঠনিক ৩৭টি ওয়ার্ডের অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা মিনু বলেন, এই সরকারের আমলে দেশে কোন উন্নয়ন হয়নি।

 

 

 

দেশের মানুষ এই দুর্নীতিবাজ সরকারকে আর দেখতে চায়না। উন্নয়ন হয়েছে শুধু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের নেতাকর্মীদের। এই দুর্নীতিপরায়ন সরকারের পতন এবং বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করার জন্য জনগণ প্রস্তুত হয়ে আছে। ইতোমধ্যে আন্দোলন শুরু গেছে। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের শান্তিপুর্ণ আন্দোলন দেখেই সরকার ভীত হয়ে পড়েছে। আগামীতে এই আন্দোলন আরো তীব্র করে বেগম জিয়ার মুক্তি নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করে আসছে সংসদ নির্বাচন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অতি উৎসাহী ও যারা জনগণের ভোট আওয়ামী লীগ সরকারের প্রার্থীদের পক্ষ নিয়ে ভোট কাটে সেইসব পুলিশ কর্মকর্তাদের আর বারাবারি না করার জন্য হুঁশিয়ারী দেন তিনি। ইতোমধ্যে তাদের নাম তালিকা ভূক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সকল পুলিশ কর্তকর্তাদের জনতার আদালতে বিচার করার জন্য তুলে দেওয়া হবে তিনি জানান। এই সরকার দুর্ণীতিবাজ উল্লেখ করে মিনু আরো বলেন, পদ্মা সেতুর ব্যায় সাড়ে ৭শত কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩৮শ কোটি টাকা হয়েছে। এই অর্থের সিংহভাগ সরকার লুটপাট করছে ।

 

 

 

শুধু তাই নয় অন্যান্য মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পাচার করেছে তারা। প্রতিদিন মানুষ খুন, বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক, খুন, গুম ও নির্যাতন করছে। এছাড়া গায়েবী মামলা দিয়ে সর্বদা হয়রানী করছে। সরকারের এই দুর্নীতি ও হায়নারুপী আচরনের মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা দেখে এই অবৈধ সরকার নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে। পুনরায় বিনা ভোটের নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু জনগণ তা আর মেনে নেবেনা। জনগণ এখন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচন চায়। এই দাবী মানতে বাধ্য করতে আগামীতে কঠোর আন্দোলনে সবাইকে সক্রিয় অংশ গ্রহন করার আহবান জানান তিনি। প্রধান বক্তা হারুনুর রশিদ বলেন, পুলিশ বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা প্রদান করছে। একদিনের নোটিশে ঢাকার সোরওয়ার্দী মাঠে জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। বিএনপি যদি মাঠে নামে তাহলে একদিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের মসনদ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। দেশে যদি এই সরকার এতই উন্নয়ন করতেন তাহলে নিজের ঢোল আর নিজেকে বাজাতে হতনা ।

 

 

জনগণ এমনিতেই জানতে পারত। কিন্তু নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে উন্নয়ন মেলার নামে হাজার হোজার কোটি টাকা লোপাট করছে এই সরকার। স্কুল কলেজ বন্ধ করে মেলা করায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার অপুরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। গত রাজশাহী সিটি নির্বাচনে চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে যে সকল পুলিশ কর্তকর্তা ভোট নিতে এসেছিলেন তারা সবাই সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ৮০০- ১০০০ করে ভোট নিজেরা কেটে ব্যালট বাক্সে ভরে ছিলেন। বিনিময়ে সবাই ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা কেরে পেয়েছেন বলে তার নিকট প্রমান রছেয়ে বলে জানান হারুন। দেশের প্রধান বিচারপতি এস.কে সিনহাকে মিথ্যা ও সাজানো ভাবে ক্যান্সার রোগি বানিয়ে অস্ত্রের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে এই সরকার। অথচ এই বিচারপতিকে দিয়ে সরকার বহু নিরিহ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকে ফাঁসি দিয়েছে। এখন তাকেও মেরে ফেলার জন্য স্বরযন্ত্র এবং হয়রানী করার জন্য দুর্নীতির মিথ্যা মামলা দিচ্ছে সরকার।

 

 

 

এই সরকারের সকল দুর্নীতি ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে থাকা এবং বেগম জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে সংসদ নির্বাচন দেওয়ার দাবীর আন্দোলনে বাংলার মানুষ ও নেতাকর্মীদের রাজপথে আসার আহবান জানান তিনি। বিএনপি নেতা মিলন বলেন, এই সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মানুষকে জিম্মি করে পুণরায় ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সংবাদপত্রের গলা টিপে ধরেছে। মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা বিনষ্ট করে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন উন্মুক্ত কারাগারে বাস করছে। চলাফেরা করতে পারলেও স্বাধীনভাবে কোন কাজ করতে পারছেনা বলে জানান মিলন। তিনি দ্রুত বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপি’র সকল নেতাকর্মীর নি;শর্ত মুক্তির দাবী জানান। সভাপতির বক্তব্যে বুলবুল বলেন, এই সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা ও অধিকার খর্ব করেছে। সরকার দলীয় আসামীর নামে গুরুত্বর মামলা থাকলেও তাদের জামিন দিয়ে জেল হাজত থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ বেগম জিয়ার একটি মামলা নিয়ে দিনের পর দিন জামিন নিয়ে টালবাহানা করছে এই অবৈধ সরকার। গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দেশে এখন কোন ধরনের গণতন্ত্র নাই। বাংলার মানুষ ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে বেগম জিয়া একাই স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। বেগম জিয়া ক্ষমতায় এসে দেশে বহু উন্নয়ন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশের শুধুমাত্র খুন, গুম ও ভোটচুরির উন্নয়ন করেছেন। এই স্বৈরাচার অবৈধ সরকারের দ্রুত পতনের আন্দোলনে সকল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে একতাবদ্ধভাবে রাজপথে নামার আহবান জানিয়ে তিনি সমাবেশ সমাপ্ত করেন।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com