বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ১২:১১ অপরাহ্ন

রাণীনগরে ঘর পেয়ে খুশি অতিদরিদ্ররা ॥ শুরু করেছে বসবাস

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮
রাণীনগরে ঘর পেয়ে খুশি অতিদরিদ্ররা ॥ শুরু করেছে বসবাস

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় জমি আছে ঘর নাই এই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার অসহায় অতিদরিদ্র ৩শত ৮৫টি পরিবার মাথা গোজার ঠাঁই পেয়ে খুশি। কেউ কেউ অন্যের বাড়ির বারান্দায় আবার কেউ কেউ পরিবার নিয়ে অন্যের জমিতে কুঠির ঘর তৈরি করে বসবাস করছিলো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দয়ায় উপজেলার প্রায় চার শত পরিবার এখন উন্নত মানের ঘরে বসবাস করতে পারছেন। বর্তমানে এই প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ শেষের দিকে বলে জানা গেছে। আর কিছু দিনের মধ্যেই প্রকল্পের সবগুলো ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যাবে। ইতিমেধ্যই অনেকে সেই ঘরে বসবাস করাও শুরু করেছে।

 

সূত্রে জানা, ‘জমি আছে ঘর নেই’ ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিলের অর্থায়নে যে সব পরিবারের বসত বাড়ি করার মত জমি আছে কিন্তু ঘর তৈরি করার মত আর্থিক সামর্থ নেই এমন ৩ শত ৮৫ টি পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের কাজে টিন, ইট, খোয়া, কাঠ, বালু, রড়, সিমেটসহ নির্মাণ কাজে ডিজাইন মোতাবেক সব উন্নত মানের সামগ্রী ব্যবহার করে এই প্রকল্পের কাজ সরকারী নিয়ম অনুয়াযী শতভাগ সঠিক ভাবে করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

রাণীনগর উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫ টি ইউনিয়নের অসহায় অতিদরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ইউনিয়নগুলোতে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নে ৬৫ টি, কাশিমপুর ইউনিয়নে ৭৯ টি, কালিগ্রাম ইউনিয়নে ৯৬ টি, একডালা ইউনিয়নে ৫৯ টি ও বড়গাছা ইউনিয়নে ৮৬ টি ঘর বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। আর ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা দিয়ে এই ৩ শত ৮৫ টি ঘর নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। একটি পরিবারকে একটি করে গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি গৃহ নির্মানে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। টিনসেডের মেঝে পাঁকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের সাথে আধা-পাকা লেট্রিনও দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্ত প্রতিটি ইউনিয়নে গৃহ নির্মাণ কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ হয়েছে। কোন কোন স্থানে সেই সব ঘরে বসবাস শুরু করেছে দরিদ্ররা। আর এই গৃহ নির্মান কাজের তত্ত্বাবধান করছেন রাণীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর।

 

সদর ইউনিয়নের খট্টেশরগ্রামের মোছা: রহিমা বেওয়া বলেন, আমাদের জায়গা ছিলো কিন্তু ঘর করার মত কোন আর্থিক অবস্থা ছিলো না। এখন বিনা খরচে সরকারের কাছ থেকে ঘর পেয়ে আমি বিধবা খুবই খুশি।

 

কাশিমপুর ইউপি’র বাহাদুরপুর গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই। নিজের একখন্ড জমি ছিলো কিন্তু নিজেদের পেট চালাবো না ঘর বানাবো। সেই জায়গায় সরকার একটি ঘর তৈরি করে দিলো। আমি সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান বলেন, সরকারী নিয়ম অনুসারে ঘর তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। যে সব ঘর নির্মাণ শেষ হয়ে গেছে সেগুলোতে মানুষ বসবাস করাও শুরু করেছে। আশা করছি আর কিছু দিনের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে গেলে আমরা সবগুলো ঘর হস্তান্তর করতে পারবো।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিজ তহবিল থেকে দেশব্যাপী যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মূলত যাদের জায়গা আছে কিন্তু বাড়ি নির্মাণ করার মতো সামর্থ নেই সেই সব পরিবারকে মানসম্মত একটি করে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। আর কিছু দিনের মধ্যেই সবগুলো ঘর আমরা হস্তান্তর করতে পারবো বলে আশা করছি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com