শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে পুরনো রূপে ফিরেছে পদ্মা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে এমন একটা সময় ছিলো, যখন পদ্মা নদীর ভয়ঙ্কর গর্জন প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে থেকে শোনা যেন। পদ্মা নদীর কানায় কানায় ভরে থাকতো পানি। বন্যায় প্লাবিত হতো শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লা।

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে এমন একটা সময় ছিলো, যখন পদ্মা নদীর ভয়ঙ্কর গর্জন প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে থেকে শোনা যেন। পদ্মা নদীর কানায় কানায় ভরে থাকতো পানি। বন্যায় প্লাবিত হতো শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লা।

আবার কোন কোন পাড়া মহল্লা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে মানুষের বশত ঘরে ঢুকে যেত পানি। শরনার্থী হয়ে শত শত মানুষ আশ্রয় নিতো বিভিন্ন সরকারী- বেসরকারী স্কুলে। বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সরকারী লোকজন সেই শরনার্থীদের ত্রান দিয়ে সহযোগীতা করতো। এছাড়াও রাস্তায় জমে থাকতো হাঁটু জল। ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ বেড়াতে দেখা যেতো। মাঠ-ঘাটে বড়শি দিয়ে বিভিন্ন বয়সি লোকজন মাছ ধরা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতো। নদীতে নৌকা ভাসিয়ে মাছ ধরা নিয়ে ব্যস্ত থাকত মৎস্যজীবীরা।

এসকল ঘটনা সেই ৮০-৯০ দশকের। কিন্তু এখন বছরের বেশিরভাগ সময়ই নদীর অর্ধেকেরও বেশি অংশ শুকিয়ে পরিণত হয় ধু ধু বালুচরে। শুধু বর্ষাকালে পদ্মায় পানি আসে। মাস তিনেক পর আবার সৃষ্টি হয় বালুচর।

গেল এক মাস ধরে পদ্মা নদীতে অল্প অল্প করে পানি বাড়ছে। পদ্মা এখন ফিরেছে তার পুরনো রূপে। আগের মতো পদ্মার গর্জন এখন না থাকলেও নদীর বুক ভরেছে পানিতে। নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচরগুলো আবার ডুব দিয়েছে পানিতে। এখন নদীর পানির ঢেউয়ের সাথে সাথে ভেসে যাচ্ছে কচুরিপানা। জেলেরাও ব্যস্ত হয়েছেন মৎস্য শিকারে। কেউ কেউ পরিকল্পনা করছেন নৌকা ভ্রমণের।

অবশ্য নদীতে পানি আসার ফলে রাজশাহীর অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙনের শঙ্কা। এ অবস্থায় বন্যা ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারের কাছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা চেয়েছে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পদ্মার পানির তোড়ে কোথাও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সে টাকায় তা মেরামত করা হবে।

রাজশাহী পাউবোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভরা মৌসুমে পদ্মার পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ১৯ মিটার। এরপর পানি কমতে কমতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সর্বনিম্ন উচ্চতা হয় ৯ দশমিক ৪৬ মিটার। অবশেষে গেল জুনের প্রথম থেকে পদ্মায় অল্প অল্প করে পানি বাড়তে শুরু করে।

রাজশাহী পাউবোর গেজ রিডার এনামুল হক জানান, রাজশাহী মহানগরীর বড়কুঠি পয়েন্টে গতকাল রোববার পানির পরিমাপ পাওয়া গেছে ১৪ দশমিক ৭৩ মিটার। এর আগে ভোর ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৭১ মিটার। আগের দিন শনিবার ভোর ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৬৪ মিটার। গত শনিবার ভোর ৬টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত পানি বাড়ে দুই সেন্টিমিটার। রাজশাহীতে পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। সে অনুযায়ী পানি এখনও বিপদসীমার ৩ দশমিক ৭৭ মিটার নিচে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বৃষ্টির কারণে এখন নদীতে পানি বাড়ছে। তাছাড়া ভারত থেকেও পানি আসছে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, গেল জুন মাসে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার। এর মধ্যে গত শনিবার ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার। গতবছর রাজশাহীতে মোট বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ১ হাজার ২৪১ দশমিক ৭ মিলিমিটার।

রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলম বলেন, বৃষ্টির কারণেই মূলত নদীতে পানির পরিমাণ বাড়ছে। বর্তমানে যেভাবে পানি বাড়ছে এটা অস্বাভাবিক নয়। অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত হলে বন্যার সম্ভাবনা থাকে। রাজশাহীতে বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না তা আগামী কয়েকদিনের পানির প্রবাহ দেখে বোঝা যাবে।

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির জন্য আমাদের জরুরি কাজের পরিকল্পনা থাকে। এবারও আছে। যেসব এলাকায় পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তার সংস্কারের জন্য আমরা তালিকা করেছি। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা চেয়েছি। আশা করছি অর্থ বরাদ্দ করা হবে, সেটা দিয়ে আমরা কাজ করতে পারব। তবে পানি বিপদসীমা অতিক্রম না করলে সমস্যা হবে না।

গত ১৮ বছরে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে মাত্র দুইবার। এর মধ্যে ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত একটানা ৮ বছর রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। কেবল ২০০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিপদসীমা ছাড়িয়ে রাজশাহীতে পদ্মার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ৮৫ মিটার।

এরপর রাজশাহীতে ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। ওই বছর পদ্মার উচ্চতা দাঁড়িয়েছিল ১৮ দশমিক ৭০ মিটার। এরপর আর এই রেকর্ড ভাঙেনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
2627282930  
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com