শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৩৯ অপরাহ্ন

নিয়ামতপুরের গোবিন্দপুর-বুধুরিয়া ২ কিলোমিটার কাঁচা সড়কে মানুষের দূর্ভোগ চরমে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০
শাহজাহান শাজু, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : ‘দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কে সবচেয়ে বেশি কষ্ট কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করতে।

শাহজাহান শাজু, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি :
‘দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কে সবচেয়ে বেশি কষ্ট কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করতে। কাদাপানির এই রাস্তা দিয়ে কৃষিপণ্য আনা নেওয়া করা রীতিমত একটা যুদ্ধ। মাথার ঘাম পায়ে পড়ে কৃষকের। অথচ এ দূঃখ কষ্ট কারো চোখে পড়েনা। প্রতিবার ভোটের সময় চেয়ারম্যান, এমপি প্রার্থী সবাই রাস্তাটা পাকা করে দিবে বলে কথা দেয়। কিন্তু ভোটে পাশ করার পর কথা রাখেনা কেউ।’ কথা গুলো আক্ষেপের সুরে বলছিলেন উপজেলার চন্দনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান।’
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের অবহেলিত একটি গ্রাম নাম গোবিন্দপুর। গ্রামের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই গ্রামের একমাত্র গোবিন্দপুর-বুধুরিয়া কাঁচা সড়কে যতায়াতে মানুষের দূর্ভোগ এখন চরমে পৌঁচেছে। সড়কের দুই কিলোমিটার জুড়ে প্রায় হাঁটু সমান কাদা। দেখে মনে হবে ধানের চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে আবাদী জমি। বর্ষা মৌওসুমের শুরুতেই ওই কাদাপানির রাস্তা দিয়ে কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে বিপাকে পড়েছেন গ্রামের চাষীরা। শিক্ষার্থীরাও গায়ে কাদা মেখে যাতায়াত করে থাকে স্কুল-কলেজে। জরুরী চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হন মূমূর্ষ রোগীরা। এছাড়াও কৃষকের প্রতিদিন কৃষিপণ্য আনা-নেওয়াসহ প্রয়োজনীয় কাজে চলাচলে গোবিন্দপুর গ্রামের দুই সহ¯্রাধিক বাসিন্দাকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে । গ্রামবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি রাস্তাটি পাকাকরণের। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেন মাথা ব্যথা নেই এ নিয়ে।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঁচা সড়কটির দুই কিলোমিটারজুড়ে প্রায় হাটুসমান কাদা। ওই কাদা-পানির মধ্য দিয়েই গ্রামের লোকজন ভ্যান, ভটভটি ও নসিমনে করে ধান বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাচ্ছে। কাদা পানিতে গাড়ীর চাকা আটকে মানুষের সহযোগীতার জন্য অপেক্ষায় বসে আছেন ভটভটি চালক হারুনুর রশিদ ।
ওই গ্রামের ভটভটি চালক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘এক মাস ধরে সড়কটিতে হাঁটুসমান কাদা। এই কাদার মধ্যেই মানুষের ধান নিয়ে হাটে যেতে হচ্ছে। রাস্তায় যে পরিমান কাদা তাতে শুধু ইঞ্জিনের শক্তি দিয়ে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই গাড়ির সাথে সাথে সহযোগীতার জন্য ২/৩ জন মানুষের ও প্রয়োজন পড়ে। প্রতি বছরই পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়ে দুর্ভোগের এই চিত্র লেগে থাকে।’
ওই গ্রামের ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়–য়া শিক্ষার্থী মেহরাব হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে রাস্তার এই দুুই কিলোমিটার অংশ পার হওয়া যে কত কষ্ট, তা কেবল আমরাই জানি। পায়ে হেঁটে এই গ্রামের ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যেতে হয়। বেশিরভাগ সময়ে জামাকাপড়ে কাদাপানি লেগে যায়। ভেজা কর্দমাক্ত পোশােেকই ক্লাশে অংশ নিতে হয় ত। পথি মধ্যে বর্জ্রপাতের ভয় তো থাকেই।
চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদিউľামান জানান, রাস্তাটিতে ওই গ্রামের বাসিন্দাদের দূর্ভোগের কথা আমার জানা আছে। রাস্তাটি পাকা করনে উপজেলার উনśয়নসভায় একাধিকবার দাবি উত্থাপন করেছি। স্থানীয় সাংসদ ও মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারও এ বিষয়ে অবহিত রয়েছেন।
রাস্তাটির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এই রাস্তাটির মতো উপজেলায় আরও কয়েকটি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে এগুলো পাকা করা হবে। মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করা গোবিন্দুপুর-বুধুরিয়া সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাকাকরণ করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
19202122232425
2627282930  
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com