বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

বিশ্ব বাণিজ্যে উদীয়মান নাম- বাংলাদেশ

বিশ্ব বাণিজ্যে উদীয়মান নাম- বাংলাদেশ

রূপকল্প- ২১ ও রূপকল্প -৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নত দেশের কাতারে। দেশের আর্থ -সামাজিক উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে দেশ। এই এগিয়ে চলার জন্য দেশে বিনিয়োগ অন্যতম ভূমিকা পালন করে। অর্থনীতির গতি সঞ্চালনের জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এজন্য বর্তমানে দেশে গড়ে তোলা হচ্ছে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। যাতে করে দেশীয় বিনোয়োগের পাশাপাশি বিদেশীরাও এই দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছে।

দেশে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার জন্য সর্বাধিক প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ। বর্তমানে বাংলাদেশ এই দুটি উপাদান চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে চাহিদা। এজন্য স্থাপন করা হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র ও এলএনজি টার্মিনাল। চলতি বছরের মধ্যে দেশে শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতাধীন করা হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এতে করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে উৎসাহী হচ্ছে। শিল্প বিকাশ এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির জন্য দেশে গড়ে তোলা হচ্ছে ১০০টি অর্থনৈতিক শিল্পাঞ্চল। সরকার বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি অ্যাক্ট-২০১০ নামে একটি আইন পাস করেছে।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেশের আইন মোতাবেক সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিনিয়োগে আর কোনো জটিলতা নেই। স্পেশাল ইকোনমিক জোনগুলোর কার্যক্রম শুরু হলে দেশের রফতানিতে বিপ্লব ঘটবে। সৃষ্টি হবে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান। দেশের অর্থনীতিতে দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে এফডিআই ছিল ২৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৮ সালে এফডিআই ছিল ৭৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে দেশে এফডিআই ছিল ২০০৩.৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিগত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫৪.৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

চলতি অর্থবছরে এই বিনিয়োগের হার আরও বাড়বে। একটি দেশে অর্থনৈতিক বিনিয়োগের জন্য দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে স্বল্পমূল্যে দক্ষ কর্মী পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যাতে কোনো সমস্যা না হয় এজন্য গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প। সব মিলিয়ে এখন বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত স্থান বাংলাদেশ।

চীনের চামড়াসহ অনেক সেক্টরের বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশে শিল্প গড়ে তোলার চিন্তা করছেন। কারণ চীনে এখন শ্রমিকের মজুরী ও পণ্য উৎপাদনের ব্যয় বেড়েই চলেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চীনাদের পক্ষে স্বল্পমূল্যে পণ্য বাজারজাতকরণ অনেকটা অসম্ভব হয়ে যাবে। এ কারণেই তারা চিন্তা করছেন যে বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন করে এই দেশ থেকেই পুরো বিশ্বে পণ্য রফতানি করা।

ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নানা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানোর লক্ষ্যে ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয় কাজ সহজ করতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে; যাতে করে বিনিয়োগকারীদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অনুমতিসহ লাইসেন্স, গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ইত্যাদির জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে দীর্ঘদিন সময় দিতে না হয়।

বিনিয়োগের জন্য সব সেবা এক স্থান থেকেই দেয়া হচ্ছে। ট্যাক্স হলিডে, কাস্টমস ডিউটি, ইনকাম ট্যাক্স, রিপেট্রিয়েশন, ফ্রি ফ্লো এফডিআই অর্থাৎ বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগে কোনো লিমিট নেই, ব্যাকোয়ার্ড লিংকেজ সুবিধা, লোকাল সেল, সাব-কনটাক্টিং, স্ট্যাম্প ডিউটি হ্রাস, ভ্যাট হ্রাস, রফতানিতে কাস্টমস ডিউটি হ্রাস, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে শর্ত শিথিল, ডাবল ট্যাক্সেশনে ছাড়, এক্সপার্টদের বেতনের ওপর ইনকাম ট্যাক্স হ্রাস, কাস্টমস বন্ডে সুবিধা প্রদান, সহজ ফরেন কারেন্সি (এফসি) লোন সুবিধা, নন-রেসিডেন্টদের ফরেন কারেন্সি (এফসি) একাউন্ট সুবিধা, শেয়ার হস্তান্তরের সুবিধা, এক্সপার্ট নিয়োগের জন্য সহজেই ওয়ার্ক পারমিট প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই সহজ করে দেয়া হয়েছে বিনিয়োগকারীদের জন্য। ইতোমধ্যে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, জাপান, কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে।

দেশের এই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৩০ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে ২৬তম অর্থনীতির এবং ২০৫০ সালে ২২তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। একসময় বাংলাদেশ আমদানিমুখী দেশ ছিল। সেই দেশ বর্তমানে রফতানিতে রাখছে অবদান। গত বছর ৪১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছে।

বর্তমানে সরকার তৈরী পোশাকের পাশাপাশি ঔষধ, আইটি, ফার্নিচার, জাহাজ, কৃষিজাতপণ্য, চামড়াজাত পণ্য এবং অপ্রচলিত পণ্য রফতানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের আন্তরিক সহযোগিতায় বিশ্ব বাণিজ্যের সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com