সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫২ অপরাহ্ন

ভারতীয় নাগরীকের সাথে চুক্তিবদ্ধের অভিযোগ: রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের

নিজস্ব প্রতিবেদক (রাজশাহী-রাব্বানী)
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০
ভারতীয় নাগরীকের সাথে চুক্তিবদ্ধের অভিযোগ: রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের

ঠিকাদারী নিয়োগে ভারতীয় নাগরীকের সাথে চুক্তিবদ্ধের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রায়হানুল কবীরের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এমএস সুভেচ্ছা ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রোপাইটার সুভাষ ভদ্র ভারতীয় নাগরীক নির্মল কর্মকারের রিরুদ্ধে বাংলাদেশ খাদ্য মহাপরিচালক (ঢাকা) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয় রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন ঠিকাদার নির্মল কর্মকারের রাজশাহীতে খাদ্য শষ্যের বিপরীতে পরিবহন বিলে জাল স্বাক্ষর করে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তলোনের করেছেন। শর্তানুযায়ী গত (৩০ জুন ২০২০) পরিবহন ঠিকাদারের সাথে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের চুক্তির মিয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হতে হলে ঠিকাদারদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব লেটার প্যাডে সম্মতিপত্র ও তিনশত টাকা মুল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামাসহ যোগদান, সম্মতিপত্র নিম্নস্বাক্ষরকারীর নিকট ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়ার কথা।

 

কিন্তু এ ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন নির্মল কর্মকারসহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক।  খাদ্য বিভাগের পূর্ব অনুমতি গ্রহন না করে নির্মল কর্মকার গত ১৫ জানুয়ারী ২০২০ হতে ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করছেন। ইহা শর্তেও তিনি কিভাবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয়ে অনুপস্থিত হয়েও এই চুক্তিবদ্ধ হলেন, এ নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে ।

 

 

এ বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশের দ্বৈত্য নাগরীক রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন ঠিকাদার নির্মল কর্মকারের চুক্তিপত্র বাতিলের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগটি করেছেন মেসার্স সুভাষ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক চন্দ্র ভদ্র। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, নির্মল কর্মকার খাদ্য বিভাগের অনুমতি ছাড়াই গত ৫ মাস থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। ইহা শর্তেও দীর্ঘ সময় খাদ্য বিভাগ তাহার নামে ধারাবাহিক ভাবে চলাচল সূচী জারী অব্যাহত রেখেছেন।

 

পরিবাহিত খাদ্য শষ্যের বিপরীতে পরিবহন বিলে স্বাক্ষর জাল করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের বিল শাখা থেকে। এছাড়া নির্মল কর্মকারের এক ছেলে ও এক মেয়ে ভারত সরকারের অধীনে সরকারী চাকরীতে কর্মরত আছেন। অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন, নির্মল কর্মকার কোন দেশের নাগরীক ? বিষয়টি নিস্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। আইনগত ভাবে ভারতীয় নাগরীক সরকারের সাথে কোন চুক্তি করতে পারেনা।

 

 

এদিকে গত (২৩ জুন ২০২০) আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. রায়হানুল কবীরের স্বাক্ষরিত একটি আদেশে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের অবশিষ্ট সময় ও ২০১৯-২০ মেয়াদের রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহণ ঠিকাদার এর সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের ৪.১ নং অনুচ্ছেদের শর্তানুযায়ী একই শর্তে ও দরে ৩ মাস অর্থাৎ আগামী ১জুলাই হতে ৩০ সেপ্টেম্বর অথবা নতুন ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন ঠিকাদারী কাজের চুক্তির মেয়াদ বর্ধিত করা হলো।

 

 

এ শর্তে কাজ করতে রাজী থাকলে আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের অবশিষ্ট সময় ২০১৯-২০ মেয়াদ এবং বর্ধিত সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ আগ্রহী ঠিকাদারগণকে তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব লেটার প্যাডে সম্মতিপত্র ও তিনশত টাকা মুল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামাসহ যোগদান-সম্মতিপত্র নিম্নস্বাক্ষরকারীর নিকট ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়ার কথা।

 

তা শর্তেও এ আদেশের নিজেই ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রায়হানুল কবীর। নির্মল কর্মকারের অনুপস্থিতিতে তার জালকৃত স্বাক্ষরে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, একাধিক ঠিকাদাররা জানান, মোটা অংকের বিনিময়ে নিমূল কর্মকারকে ৫০ মেট্রিকটন গম সাইলো থেকে রংপুর সদর খাদ্য গুদামে পরিবহনের সুযোগ করে দিয়েছে খাদ্য নিয়ন্ত্রক।

 

 

গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন নিমূল কর্মকার জানান, আমি ভারতীয় নাগরীগ না। আমার দুই ছেলে মেয়ে ভারতে চাকুরী ও সংসার করছে। ভারতে জমি আছে কিন্তু ছেলে মেয়ের নামে। তিনি আরও বলেন, রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সাথে আমার যে চুক্তি হয়েছে। সেটি আমি ভারত থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলাম। এছাড়াও গত ৩০ বছর যাবত আমি খাদ্য অধিদপ্তরের সাথে ব্যবসা করে আসছি বলেও তিনি দাবি করেন।

 

 

সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও রসায়নবিদ মোঃ মোমিনুল ইসলাম বলেন, ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নিমূল কর্মকারের স্বাক্ষরের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তিনি বলেন, নির্মল কর্মকার একজন পুরানো ব্যবসায়ী। রাজশাহীর সকল ঠিকাদারই নির্মল কর্মকারের হাত ধরেই এই ব্যবসায়ে এসেছেন। বর্তমানে তারাই তার শত্রুতা করছেন বলেও সাফাই দেন। জানতে চাইলে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রায়হানুল কবির বলেন, এখানে কোন অনিয়ম হয়নি।

 

 

ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতীয় নাগরীক প্রমান করতে বলেন অভিযোগকারীকে । এ বিষয়ে বাংলাদেশ খাদ্য মহাপরিচালক (ঢাকা) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এই ধরনের অভিযোগ হাতে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
19202122232425
2627282930  
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com