শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

করোনার আঁধার কেটে গিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গন আবারো মুখর হবে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০
করোনার আঁধার কেটে গিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গন আবারো মুখর হবে

#আমরা সৌভাগ্যবান যে শেখ হাসিনার মতো শিল্পীবান্ধব প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি: অনুপমা মুক্তি। #বাংলাদেশসহ পৃথিবীতে করোনার আঁধার একদিন কেটে যাবে, এই প্রত্যাশাই করি: ফারহানা নুপূর। #কর্মগুণে শিল্পী হয়, ইউটিউবে ভিউ দিয়ে শিল্পী হওয়া যায় না: লারা লোটাস। #এই দুর্যোগের সময় মানবিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে: মিতালী।
করোনার কারণে পৃথিবীর সব কিছুই থমকে গেছে। সেই সাথে থমকে গেছে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনও। তবে আশার কথা হলো লকডাউনের পর আবারো ধীরে ধীরে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে সংস্কৃতির অঙ্গন। করোনার এই আঁধার কাটিয়ে আবারো মুখর হবে সংস্কৃতির সব কিছু।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে শনিবার (১৮ জুলাই) এসব কথা বলেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষজন। ভোরের পাতা সংলাপে আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সংগীত শিল্পী অনুপমা মুক্তি, সংগীত শিল্পী ফারহানা নুপূর, অভিনেত্রী লারা লোটাস এবং সংগীত শিল্পী মিতালী। দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি।

অনুপমা মুক্তি বলেন, করোনা তো শুধু আমাদের একার সমস্যা না। আকাশ যেখানে আমরা অস্বীকার করতে পারছি না। তেমনি করোনাকেও অস্বীকার করতে পারছি না। এখন স্বপ্নের মধ্যেও করোনা চলে আসছে। আমরা যেহেতু পরিবার নিয়ে থাকি, তাই অনেক কিছু করতে হচ্ছে। কথা দিয়ে হোক আর ভালোবাসা দিয়ে হোক, আশে পাশের লোকদের পাশে থাকছি। আর গান চর্চা করছি। এভাবেই করোনাকালে দিনকাল কেটে যাচ্ছে। করোনার আগেও পৃথিবীতে মহামারী আকারে কলেরা, যক্ষা হয়েছিল। তখন গ্রামের পর গ্রামের মানুষ মারা যেত। এই অবস্থা এখনো সৃষ্টি হয়নি। এখন প্রতিষেধক আবিষ্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত কাজ করে যেতে হবে। আমিও ভয়কে কাটিয়ে কাল বিটিভি এবং একটি বেসরকারি টিভিতে শো করতে যাবো। এ অবস্থায় আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে রেকডিং করতে পারি।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও শিল্পীদের জন্য কেন কল্যাণ তহবিল নাই, এটা দুঃখজনক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়ের মতো স্নেহ দিয়ে যাচ্ছেন। শেখ রেহানা আপাও আমাদের সাথে মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানে গান করেছিলেন। শিল্পীদের যেকোনো প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাশে দাঁড়াচ্ছেন। আমরা এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়ে খুবই সোভাগ্যবান। একজন শিল্পীকে দুস্থ শিল্পী বলা ঠিক না। এন্ড্রু কিশোর দাদা কখনোই দুস্থ শিল্পীদের দলে ছিলেন না। উনার প্রতি দেশের মানুষের এবং সরকারের দায়িত্ব আছে। কেন যে আমরা তাদের দুস্থ শিল্পী বলা হয়। তখন আমার খুব লজ্জা ও দুঃখ লাগে। এই সরকারের মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতে একটা ভালো কিছু পাবো বলে আশা করি। কল্যাণ তহবিল থাকলে আমাদের এই দুর্যোগে কারো টাকা পয়সার অভাব হতো না। আশা করছি, এই সরকারের আমলেই সেটা পাবো। এছাড়া সমাজে যারা বিত্তবান আছেন, তারা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে সবাই ভালো থাকবে। এটাই আশা করছি।

ফারহানা নুপূর বলেন, আমি অনুপমা মুক্তি আপুর গানের অনেক বড় ভক্ত। আমি যেহেতু গান করার পাশাপাশি আনসার বাহিনীতে চাকরি করি। এই করোনায় বাইরে অনুষ্ঠানগুলো করতে পারছি না। তবে এই সময়ে পরিবারের বিশেষ করে সন্তানদের সময় দিতে পারছি। এটা একটা ভালো দিক করোনার সময়ে। তবে আমাদের যন্ত্র শিল্পীদের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আনসারের একটা আলাদা অর্কেস্টা টিম আছে। সেখানে ৮০ জনের একটা টিম রয়েছে। যেহেতু করোনার কারণে আমাদের সব প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে, সেনাবাহিনীর অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিতে হতো। সে কারণে আমরা সকাল ৯ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত প্যাকটিস করতাম। এখন করোনার কারণে সব বন্ধ রয়েছে। সবাই সবার পাশে দাঁড়াবো এবং বাংলাদেশসহ পৃথিবীতে করোনার আঁধার একদিন কেটে যাবে, এই প্রত্যাশাই করি।

লারা লোটাস বলেন, করোনার এই সময়ে সবকিছু মিলিয়ে যারা যারা কাজ করছেন তাদের আমি স্যালুট জানাচ্ছি। এই চার মাসের মধ্যে আজকেই প্রথম বের হয়ে একটি বেসরকারি টিভিতে অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলাম। আমি অভিনয়ের পাশাপাশি একটা স্কুলে কাজ করি। সেখানে অনলাইন ক্লাস নিচ্ছি। এই সময়ে বাবা মায়ের সাথে ডিনার করতে পারছি। এমনটা সব সময় হয়না।

তিনি আরো বলেন, আমি থিয়েটার করেই এখানে এসেছি। গত ঈদের সময় আফজাল হোসেনের একটা নাটকে অভিনয় করছিলাম। সেখানে আফজাল হোসেন বলেছিলেন, আমার এবং সুবর্না মোস্তফার তেমন ফলোয়ার নেই, কিন্তু ইউটিউবে ফলোয়ার বেশি হলেই কেউ শিল্পী হন না। শিল্পী হতে হলে বিনয়ী হতে হবে। আন্তরিকতা থাকতে হবে। মেধা ও যোগ্যতা অর্জন করেই টিকে থাকতে হবে, সেখানে ভিউ দিয়ে শিল্পী হওয়া যায় না। কর্মগুণেই শিল্পী বড় হন।

সংগীত শিল্পী মিতালী বলেন, আমরা যারা স্টেইজ পারফরমেন্স করি তারা এখন কিছুই করতে পারছি না। এখন স্টুডিওতে গিয়ে গান রেকর্ড করা এখন সম্ভব না। এই সময়ে ফেসবুক লাইভে এসে গান শুনাতে পারছি। এর বেশি কিছু করার নেই। আমি কিছুটা হতাশ হয়ে পরেছি। অনুপমা মুক্তি মিতালীকে হতাশ না হওয়ার সাহস দিয়ে বলেন, প্রতিষেধক আসার আগ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে।

মিতালী আরো বলেন, এই সময়ে আমাদের শিল্পীদের যে অবস্থায় হোক না কেন, আমাদের যন্ত্রশিল্পীদের অবস্থা আরো খারাপ। তাদের পাশে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতে হবে। এই দুর্যোগের সময় মানবিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আজকের এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। মুক্তি আপাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, উনি সাহস দিয়েছেন। এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

অনুষ্ঠান শেষে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা এবং আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা হাজার বছর ধরে সিনেমার ‘তুমি সুতোয় বেধেছো’ গানটি পরিবেশন করেন অনুপমা মুক্তি। এ গানের সময় তিনি আহমেদ ইমতিয়াত বুলবুল এবং এই গানের সহশিল্পী প্রয়াত সুবীর নন্দীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে ফারহানা নুপূর ‘ভালোবাসি ভালোবাসি’ রবীন্দ্র সংগীতটি পরিবেশন করেন এবং লারা লোটাস তার আপন বোন নাজিয়া আন্দালিব প্রেমার ‘পাখি’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com